০৭:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬

ইউরোপে ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসের ভয়াবহ বিস্তার, আক্রান্ত ২ হাজার ছাড়াল, মৃত্যু ১৩০

The gallery was not found!

২০ দেশে ছড়িয়েছে সংক্রমণ, সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ইতালিতে

ইউরোপজুড়ে উদ্বেগজনকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে মশাবাহিত ওয়েস্ট নাইল ভাইরাস। চলতি মৌসুমে মহাদেশটির প্রায় ২০টি দেশে এ ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ২ হাজার ছাড়িয়েছে। একই সময়ে প্রাণহানি ঘটেছে ১৩০ জনের বেশি মানুষের। সংক্রমণ ও মৃত্যুর এই পরিসংখ্যান ইউরোপের জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপের ২০টি দেশের ২৩৪টি অঞ্চলে ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যায় শীর্ষে রয়েছে ইতালি। দেশটিতে এ পর্যন্ত ৭৮০ জনের শরীরে ভাইরাসটির উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

সংক্রমণের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে গ্রিস। দেশটিতে আক্রান্ত হয়েছেন ৪৬৩ জন। এছাড়া ফ্রান্সে ১৮০ জনের শরীরে ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছে।

নেদারল্যান্ডসেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। দেশটির জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশবিষয়ক জাতীয় ইনস্টিটিউট (আরআইভিএম) জানিয়েছে, চলতি বছরে সেখানে ৭৭ জন ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

মশার কামড়ে ছড়ায় ভাইরাস

ওয়েস্ট নাইল ভাইরাস মূলত সংক্রমিত মশার কামড়ের মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। কিউলেক্স প্রজাতির মশা এ ভাইরাসের অন্যতম প্রধান বাহক। ভাইরাসটির উৎপত্তি আফ্রিকায় হলেও পরবর্তী সময়ে এটি ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, মানুষের জন্য এখন পর্যন্ত ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসের কোনো টিকা আবিষ্কৃত হয়নি। ফলে সংক্রমণ প্রতিরোধে মশার কামড় থেকে সুরক্ষিত থাকাই গুরুত্বপূর্ণ।

বেশিরভাগ আক্রান্তের উপসর্গ থাকে না

ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রায় ৮০ শতাংশের শরীরে কোনো উপসর্গ দেখা যায় না। তবে বাকি ২০ শতাংশের ক্ষেত্রে জ্বর, ক্লান্তি, বমি বমি ভাব, বমি, মাথাব্যথা ও পেশিতে ব্যথার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে।

সাধারণত সংক্রমণের দুই থেকে ১৪ দিনের মধ্যে উপসর্গ প্রকাশ পায়। তবে যাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল, তাদের ক্ষেত্রে এই সময়সীমা বেড়ে ২১ দিন পর্যন্ত হতে পারে।

ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সংক্রমণের বিস্তার এবং প্রাণহানির সংখ্যা বাড়তে থাকায় মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে সতর্কতা জোরদারের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, মশার কামড় এড়িয়ে চলা এবং সম্ভাব্য সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় খবর

ইসলামী ব্যাংকে আস্থার সংকট কাটছে না: সাড়ে চার মাসেও ৩,৩০০ কোটি টাকার বেশি লোকসান

Business Times24

ইউরোপে ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসের ভয়াবহ বিস্তার, আক্রান্ত ২ হাজার ছাড়াল, মৃত্যু ১৩০

Update Time : ০৫:২৫:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

২০ দেশে ছড়িয়েছে সংক্রমণ, সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ইতালিতে

ইউরোপজুড়ে উদ্বেগজনকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে মশাবাহিত ওয়েস্ট নাইল ভাইরাস। চলতি মৌসুমে মহাদেশটির প্রায় ২০টি দেশে এ ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ২ হাজার ছাড়িয়েছে। একই সময়ে প্রাণহানি ঘটেছে ১৩০ জনের বেশি মানুষের। সংক্রমণ ও মৃত্যুর এই পরিসংখ্যান ইউরোপের জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপের ২০টি দেশের ২৩৪টি অঞ্চলে ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যায় শীর্ষে রয়েছে ইতালি। দেশটিতে এ পর্যন্ত ৭৮০ জনের শরীরে ভাইরাসটির উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

সংক্রমণের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে গ্রিস। দেশটিতে আক্রান্ত হয়েছেন ৪৬৩ জন। এছাড়া ফ্রান্সে ১৮০ জনের শরীরে ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছে।

নেদারল্যান্ডসেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। দেশটির জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশবিষয়ক জাতীয় ইনস্টিটিউট (আরআইভিএম) জানিয়েছে, চলতি বছরে সেখানে ৭৭ জন ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

মশার কামড়ে ছড়ায় ভাইরাস

ওয়েস্ট নাইল ভাইরাস মূলত সংক্রমিত মশার কামড়ের মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। কিউলেক্স প্রজাতির মশা এ ভাইরাসের অন্যতম প্রধান বাহক। ভাইরাসটির উৎপত্তি আফ্রিকায় হলেও পরবর্তী সময়ে এটি ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, মানুষের জন্য এখন পর্যন্ত ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসের কোনো টিকা আবিষ্কৃত হয়নি। ফলে সংক্রমণ প্রতিরোধে মশার কামড় থেকে সুরক্ষিত থাকাই গুরুত্বপূর্ণ।

বেশিরভাগ আক্রান্তের উপসর্গ থাকে না

ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রায় ৮০ শতাংশের শরীরে কোনো উপসর্গ দেখা যায় না। তবে বাকি ২০ শতাংশের ক্ষেত্রে জ্বর, ক্লান্তি, বমি বমি ভাব, বমি, মাথাব্যথা ও পেশিতে ব্যথার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে।

সাধারণত সংক্রমণের দুই থেকে ১৪ দিনের মধ্যে উপসর্গ প্রকাশ পায়। তবে যাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল, তাদের ক্ষেত্রে এই সময়সীমা বেড়ে ২১ দিন পর্যন্ত হতে পারে।

ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সংক্রমণের বিস্তার এবং প্রাণহানির সংখ্যা বাড়তে থাকায় মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে সতর্কতা জোরদারের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, মশার কামড় এড়িয়ে চলা এবং সম্ভাব্য সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।