হোয়াইট হাউসের কাছে সন্দেহজনক গাড়ি থেকে রাইফেল, দুটি পিস্তল ও গুলি উদ্ধার
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে হোয়াইট হাউসের কাছে এক ভেনেজুয়েলার নাগরিককে আটক করেছে দেশটির সিক্রেট সার্ভিস। বৃহস্পতিবার আটক ওই ব্যক্তির গাড়ি থেকে একটি রাইফেল, দুটি পিস্তল ও কয়েক ডজন গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। গাড়িটি চুরি করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, ২০২৪ সালে অবৈধভাবে দেশটিতে প্রবেশ করেছিলেন ওই ব্যক্তি।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আটক ব্যক্তির নাম রনি ইওরড্রিক্স গুয়ানিপা ক্রিনোস। হোয়াইট হাউসের কাছাকাছি একটি গাড়িতে তাকে সন্দেহজনক আচরণ করতে দেখা যায়। পরে নিরাপত্তা কর্মকর্তারা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
গাড়ি থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার
যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদে ক্রিনোস গাড়িতে অস্ত্র থাকার কথা স্বীকার করেন। পরে গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে একটি রাইফেল, দুটি পিস্তল এবং কয়েক ডজন গুলি উদ্ধার করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদের সময় ক্রিনোস দাবি করেন, তার মাথার ভেতর কিছু কণ্ঠস্বর তাকে ওয়াশিংটন ডিসিতে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে হত্যা করতে বলছিল।
তবে এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। আটক ব্যক্তির বক্তব্য ও অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করছেন কর্মকর্তারা।
একাধিক অভিযোগে গ্রেপ্তার
আগ্নেয়াস্ত্রসংক্রান্ত একাধিক অভিযোগের পাশাপাশি অনুমতি ছাড়া গাড়ি ব্যবহার এবং চোরাই সম্পদ গ্রহণের অভিযোগে ক্রিনোসকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাড়িটি চুরি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে গাড়ির মালিকানা, অস্ত্রের উৎস এবং আটক ব্যক্তির উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।
নিরাপত্তা জোরদারের কথা জানাল সিক্রেট সার্ভিস
যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিসের পরিচালক শন কারান বলেন, আটক ব্যক্তি মার্কিন নাগরিকদের জন্য তাৎক্ষণিক হুমকি তৈরি করেছিলেন। সংস্থাটির সদস্যরা প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
তিনি বলেন, ঘটনাটি নিরাপত্তাঝুঁকি বাড়ার বিষয়টি তুলে ধরেছে। একই সঙ্গে হোয়াইট হাউস এলাকায় অস্ত্রধারীদের উপস্থিতির ঘটনাও উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে।
হোয়াইট হাউস ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগ
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে হোয়াইট হাউসের নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিভিন্ন ঘটনায় মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় থাকা ব্যক্তিদের জড়িত থাকার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।
কর্মকর্তাদের মতে, প্রেসিডেন্ট ও হোয়াইট হাউসের প্রতীকী গুরুত্বের কারণে কিছু ব্যক্তি এসবকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বেছে নিতে পারেন। তবে কোনো ব্যক্তির মানসিক স্বাস্থ্যগত অবস্থা এককভাবে সহিংস আচরণের কারণ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।
গত মে মাসেও হোয়াইট হাউসের একটি নিরাপত্তা তল্লাশিচৌকির কাছে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় সিক্রেট সার্ভিসের কর্মকর্তারা হামলাকারীকে গুলি করে হত্যা করেন।
সাম্প্রতিক ঘটনাটি হোয়াইট হাউস ও প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্ব আবারও সামনে এনেছে। তদন্তের মাধ্যমে আটক ব্যক্তির উদ্দেশ্য, অস্ত্রের উৎস এবং অভিযোগগুলোর বিষয়ে আরও তথ্য প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

নিজস্ব প্রতিবেদক 
























