যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পর হোয়াইট হাউসে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং কঠোর অভিবাসন নীতির প্রধান রূপকার স্টিফেন মিলারকে নতুন চিফ অব স্টাফ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ঘোষিত এ সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিকে হোয়াইট হাউসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্বে নিয়ে আসা হলো।
মিলার বর্তমান চিফ অব স্টাফ সুসি ওয়াইলসের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন। সোমবার থেকে তাঁর দায়িত্ব কার্যকর হবে। মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর প্রশাসনের এই পরিবর্তনকে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিলারকে তাঁর অন্যতম বিশ্বস্ত উপদেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে ওয়াইলসের দায়িত্ব পালনের প্রশংসা করেছেন তিনি।
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মিলারের নিয়োগের মধ্য দিয়ে ট্রাম্প তাঁর নীতিতে পরিবর্তনের কোনো ইঙ্গিত দিচ্ছেন না। বরং প্রশাসনের বিদ্যমান কর্মসূচি এগিয়ে নিতে বিশ্বস্ত সহযোগীদের ওপর আরও নির্ভরশীল হচ্ছেন।
মিলার দীর্ঘদিন ধরে প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতা সম্প্রসারণের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন। নির্বাচনের পর ডেমোক্র্যাটদের নেতৃত্বাধীন কংগ্রেসের মুখোমুখি হতে গিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন নির্বাহী ক্ষমতার ওপর আরও নির্ভরশীল হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ট্রাম্প অবশ্য চলতি সপ্তাহে কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। তবে মিলারের নিয়োগ প্রশাসনের কঠোর অবস্থান অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
৪১ বছর বয়সী মিলার ট্রাম্পের প্রথম ও দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব পালন করা অল্প কয়েকজন সহযোগীর একজন। ২০২৫ সালে ট্রাম্প দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় ফেরার পর তিনি উপপ্রধান চিফ অব স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন অভিযান পরিচালনায় তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। প্রতিদিন তিন হাজার অভিবাসী গ্রেপ্তারের লক্ষ্য নির্ধারণের সঙ্গে তাঁর নাম জড়িত।
এই অভিযানে বিভিন্ন সম্প্রদায়ে অভিবাসন কর্মকর্তাদের উপস্থিতি বেড়েছে। দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত নন, এমন ব্যক্তিরাও গ্রেপ্তারের শিকার হয়েছেন।
তবে অভিবাসন নীতিতে জনসমর্থন কমেছে। রয়টার্স/ইপসোসের সাম্প্রতিক জরিপে মাত্র ৩৬ শতাংশ উত্তরদাতা এই অভিযানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। বিপরীতে, ৫৪ শতাংশ এর বিরোধিতা করেছেন।
মিলারের নিয়োগের পর ডেমোক্র্যাটরা তাঁর অভিবাসন নীতি নিয়ে তদন্তের পরিকল্পনা করছেন। প্রতিনিধি পরিষদের নজরদারি ও সরকারি সংস্কারবিষয়ক কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট রবার্ট গার্সিয়া বলেছেন, মিলারের নীতিগুলো তদন্ত করা হবে।
ফেডারেল প্রশাসনে পরিবর্তন, সরকারি কর্মীদের ছাঁটাই এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রশাসনের বিরোধেও মিলারের ভূমিকা ছিল।
পররাষ্ট্রনীতিতে মিলার ট্রাম্পের সামরিক অভিযানগুলোর সমর্থক। ক্যারিবীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরে মাদক বহনের সন্দেহে নৌযানে হামলা এবং ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পক্ষে তিনি অবস্থান নিয়েছেন।
ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ক্ষতির অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ফলে নতুন দায়িত্বে মিলারের পররাষ্ট্রনীতি সংশ্লিষ্ট অবস্থানও আলোচনায় রয়েছে।
৬৯ বছর বয়সী সুসি ওয়াইলস বৃহস্পতিবার রাতে পদত্যাগ করেন। তিনি ট্রাম্পের রাজনৈতিক কার্যক্রমে যুক্ত হবেন বলে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে।
প্রথম নারী চিফ অব স্টাফ হিসেবে ওয়াইলস প্রশাসনে তুলনামূলক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছিলেন। তাঁর বিদায়ের পর হোয়াইট হাউসের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা কীভাবে পরিচালিত হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
নির্বাচনী পরাজয়ের পর মিলারের নিয়োগ ট্রাম্প প্রশাসনের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল এবং কংগ্রেসের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক 






















