০৭:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬

শিশু যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত উপকরণ রাখার অভিযোগে গ্রেপ্তার মেগান মার্কেলের বাবা

The gallery was not found!

ব্রিটিশ রাজপরিবারের পুত্রবধূ ডাচেস অব সাসেক্স মেগান মার্কেলের বাবা থমাস মার্কেল সিনিয়রকে শিশু যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ফ্লোরিডার লেকল্যান্ডে একটি সিনিয়র কেয়ার হোম থেকে ৮২ বছর বয়সী থমাস মার্কেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

তবে গ্রেপ্তারের বিষয়ে এফবিআই কিংবা সংশ্লিষ্ট কেয়ার হোমের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মেগান মার্কেলের প্রতিনিধিও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, থমাস মার্কেলের বিরুদ্ধে শিশু যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত ছবি ও ভিডিও সংরক্ষণের অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি তদন্তের আওতায় আসে। তাঁর ছেলে এবং মেগানের সৎভাই থমাস মার্কেল জুনিয়র দাবি করেন, ফিলিপাইনে বাবার বাড়িতে তিনি শিশুদের যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত বিপুল পরিমাণ ছবি ও ভিডিও খুঁজে পেয়েছিলেন।

এরপর তিনি বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানান। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফিলিপাইনের কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩ নভেম্বর সেবু সিটিতে থমাস মার্কেলের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় কম্পিউটার, মোবাইল ফোন এবং বিভিন্ন সংরক্ষণযন্ত্র থেকে শিশু যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত আপত্তিকর ছবি উদ্ধারের অভিযোগ ওঠে।

তদন্তের অংশ হিসেবে থমাস মার্কেল জুনিয়রকেও ফিলিপাইনের কর্তৃপক্ষ ‘পারসন অব ইন্টারেস্ট’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া মেক্সিকোর রোসারিতো বিচে থমাস মার্কেলের সাবেক একটি স্টোরেজ ইউনিটেও অভিযান চালানো হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে ‘মেইল অন সানডে’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে থমাস মার্কেল প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের সঙ্গে অর্থের বিনিময়ে যৌন সম্পর্কের কথা স্বীকার করেছিলেন। তবে অপ্রাপ্তবয়স্ক কারও সঙ্গে যৌন সম্পর্ক কিংবা শিশু যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত ছবি সংরক্ষণের অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।

বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে। তবে অভিযোগের সত্যতা কিংবা আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

গত ২৩ অক্টোবর এক বিবৃতিতে মেগান মার্কেল জানান, তাঁর বাবার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো তাঁকে গভীরভাবে বিচলিত করেছে। তিনি বলেন, অভিযোগগুলোর তদন্তের বিষয়ে তাঁকে আশ্বস্ত করা হয়েছিল।

মেগান বলেন, ‘যেসব শিশু ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারে, আমার চিন্তা এখন তাদের নিয়ে।’

২০১৮ সালে প্রিন্স হ্যারির সঙ্গে বিয়ের আগে থেকেই বাবার সঙ্গে মেগানের সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন। নিজের সন্তানদের সঙ্গে বাবার যোগাযোগ না রাখার সিদ্ধান্তের পেছনে শিশুদের সুরক্ষার বিষয়টি কাজ করেছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করেন তিনি।

মেগান ও প্রিন্স হ্যারির দুই সন্তান প্রিন্স আর্চি ও প্রিন্সেস লিলিবেট।

মেগানের এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু জানিয়েছেন, অভিযোগগুলো প্রকাশ্যে আসার ঘটনায় মেগান মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। তবে যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটিত হবে বলে আশা করছেন মেগান ও তাঁর পরিবার।

থমাস মার্কেলের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্তের অগ্রগতি, উদ্ধার করা উপকরণের প্রকৃতি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি।

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে থমাস মার্কেলের আগের অস্বীকৃতি এবং মেগানের উদ্বেগের বক্তব্য নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তদন্ত শেষে অভিযোগের প্রকৃত অবস্থা ও আইনগত পরিণতি সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় খবর

ইসলামী ব্যাংকে আস্থার সংকট কাটছে না: সাড়ে চার মাসেও ৩,৩০০ কোটি টাকার বেশি লোকসান

Business Times24

শিশু যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত উপকরণ রাখার অভিযোগে গ্রেপ্তার মেগান মার্কেলের বাবা

Update Time : ১০:৫৫:৫৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

ব্রিটিশ রাজপরিবারের পুত্রবধূ ডাচেস অব সাসেক্স মেগান মার্কেলের বাবা থমাস মার্কেল সিনিয়রকে শিশু যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ফ্লোরিডার লেকল্যান্ডে একটি সিনিয়র কেয়ার হোম থেকে ৮২ বছর বয়সী থমাস মার্কেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

তবে গ্রেপ্তারের বিষয়ে এফবিআই কিংবা সংশ্লিষ্ট কেয়ার হোমের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মেগান মার্কেলের প্রতিনিধিও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, থমাস মার্কেলের বিরুদ্ধে শিশু যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত ছবি ও ভিডিও সংরক্ষণের অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি তদন্তের আওতায় আসে। তাঁর ছেলে এবং মেগানের সৎভাই থমাস মার্কেল জুনিয়র দাবি করেন, ফিলিপাইনে বাবার বাড়িতে তিনি শিশুদের যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত বিপুল পরিমাণ ছবি ও ভিডিও খুঁজে পেয়েছিলেন।

এরপর তিনি বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানান। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফিলিপাইনের কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩ নভেম্বর সেবু সিটিতে থমাস মার্কেলের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় কম্পিউটার, মোবাইল ফোন এবং বিভিন্ন সংরক্ষণযন্ত্র থেকে শিশু যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত আপত্তিকর ছবি উদ্ধারের অভিযোগ ওঠে।

তদন্তের অংশ হিসেবে থমাস মার্কেল জুনিয়রকেও ফিলিপাইনের কর্তৃপক্ষ ‘পারসন অব ইন্টারেস্ট’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া মেক্সিকোর রোসারিতো বিচে থমাস মার্কেলের সাবেক একটি স্টোরেজ ইউনিটেও অভিযান চালানো হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে ‘মেইল অন সানডে’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে থমাস মার্কেল প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের সঙ্গে অর্থের বিনিময়ে যৌন সম্পর্কের কথা স্বীকার করেছিলেন। তবে অপ্রাপ্তবয়স্ক কারও সঙ্গে যৌন সম্পর্ক কিংবা শিশু যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত ছবি সংরক্ষণের অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।

বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে। তবে অভিযোগের সত্যতা কিংবা আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

গত ২৩ অক্টোবর এক বিবৃতিতে মেগান মার্কেল জানান, তাঁর বাবার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো তাঁকে গভীরভাবে বিচলিত করেছে। তিনি বলেন, অভিযোগগুলোর তদন্তের বিষয়ে তাঁকে আশ্বস্ত করা হয়েছিল।

মেগান বলেন, ‘যেসব শিশু ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারে, আমার চিন্তা এখন তাদের নিয়ে।’

২০১৮ সালে প্রিন্স হ্যারির সঙ্গে বিয়ের আগে থেকেই বাবার সঙ্গে মেগানের সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন। নিজের সন্তানদের সঙ্গে বাবার যোগাযোগ না রাখার সিদ্ধান্তের পেছনে শিশুদের সুরক্ষার বিষয়টি কাজ করেছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করেন তিনি।

মেগান ও প্রিন্স হ্যারির দুই সন্তান প্রিন্স আর্চি ও প্রিন্সেস লিলিবেট।

মেগানের এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু জানিয়েছেন, অভিযোগগুলো প্রকাশ্যে আসার ঘটনায় মেগান মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। তবে যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটিত হবে বলে আশা করছেন মেগান ও তাঁর পরিবার।

থমাস মার্কেলের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্তের অগ্রগতি, উদ্ধার করা উপকরণের প্রকৃতি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি।

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে থমাস মার্কেলের আগের অস্বীকৃতি এবং মেগানের উদ্বেগের বক্তব্য নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তদন্ত শেষে অভিযোগের প্রকৃত অবস্থা ও আইনগত পরিণতি সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।