০৭:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬

দুই এসএমই কোম্পানির ১৬ কোটি ৬০ লাখ টাকার ব্যবহার খতিয়ে দেখছে বিএসইসি

The gallery was not found!

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত দুই এসএমই কোম্পানির ১৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা কোথায় এবং কীভাবে ব্যয় হয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। কোম্পানি দুটি হলো ওয়েব কোটস ও কৃষিবিদ সিড।

যোগ্য বিনিয়োগকারী প্রস্তাব বা কিউআইও পদ্ধতিতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা অর্থ নির্ধারিত খাতে ব্যবহার হয়েছে কি না, তা যাচাই করবে সংস্থাটি।

বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, কোম্পানি দুটি শেয়ারবাজার থেকে মোট ১৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা সংগ্রহ করে। এর মধ্যে কৃষিবিদ সিড সংগ্রহ করে ১১ কোটি ৬০ লাখ টাকা এবং ওয়েব কোটস ৫ কোটি টাকা। ব্যবসা সম্প্রসারণ, ঋণ পরিশোধ, যন্ত্রপাতি ক্রয় ও চলতি মূলধনের প্রয়োজন মেটাতে এসব অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা ছিল। তবে অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে এবং নির্ধারিত উদ্দেশ্যের সঙ্গে ব্যয়ের সামঞ্জস্য যাচাই করতে তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে কমিশন।

গত ২ নভেম্বর কোম্পানি দুটির অর্থ ব্যবহারের বিষয়ে পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করে বিএসইসি। কৃষিবিদ সিডের তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছেন কমিশনের উপপরিচালক মওদুদ মোমেন ও সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ রুমান হোসেন।

অন্যদিকে ওয়েব কোটসের তদন্ত করবেন বিএসইসির যুগ্ম পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম ও সহকারী পরিচালক ফারহানা ওয়ালেজা।

কমিশনের আদেশ অনুযায়ী, কিউআইওর মাধ্যমে উত্তোলিত অর্থ যে উদ্দেশ্যে সংগ্রহ করা হয়েছিল, সেই খাতেই ব্যয় হয়েছে কি না, তা বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা করবে তদন্ত দল। এ জন্য কোম্পানি দুটির দাখিল করা আর্থিক বিবরণী পর্যালোচনার পাশাপাশি অর্থ ব্যয়ের বিপরীতে পরিচালিত প্রকল্প, অর্জিত সম্পদ ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম সরেজমিনে যাচাই করা হবে।

তদন্তের অংশ হিসেবে কোম্পানি দুটির ব্যাংক হিসাবের বিস্তারিত লেনদেন পরীক্ষা করা হবে। কিউআইওর অর্থ কোন কোন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে লেনদেন হয়েছে, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর পরিচয় এবং অর্থের প্রবাহও শনাক্ত করতে বলা হয়েছে তদন্ত দলকে।

অর্থ ব্যয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা যাচাইয়ের মাধ্যমে অর্থের প্রকৃত ব্যবহার সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা নিতে চায় কমিশন। একই সঙ্গে কোম্পানিগুলোর আর্থিক নথি ও বাস্তব প্রকল্পের মধ্যে সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করা হবে।

বিএসইসির আদেশে অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে দায়ী ব্যক্তিদের ভূমিকা সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থ ব্যবহারে সিকিউরিটিজ আইন, বিধি কিংবা নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনার কোনো ব্যত্যয় ঘটেছে কি না, তা-ও তদন্তের আওতায় থাকবে।

এ ক্ষেত্রে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা, কোম্পানি সচিব, নিরীক্ষক এবং সংশ্লিষ্ট অন্য ব্যক্তিদের ভূমিকা যাচাই করবে তদন্ত দল। অনিয়মের সঙ্গে কার কী সম্পৃক্ততা রয়েছে, তা স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করতে বলা হয়েছে।

শেয়ারবাজারসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কৃষিবিদ সিড ২০২২ সালে এসএমই বোর্ডে তালিকাভুক্ত হয়। আর ওয়েব কোটস তালিকাভুক্ত হয় ২০২৪ সালে।

তালিকাভুক্তির অনুমোদন পাওয়ার আগে কোম্পানি দুটি কিউআইওর মাধ্যমে সংগ্রহ করা অর্থ কোন খাতে কত পরিমাণ ব্যয় করবে এবং কত দিনের মধ্যে ব্যয় সম্পন্ন করবে, সে বিষয়ে পরিকল্পনা দিয়েছিল। এখন সেই পরিকল্পনার সঙ্গে বাস্তব ব্যয়ের মিল যাচাই করা হবে।

তদন্তে অর্থ ব্যবহারের প্রকৃত চিত্র, সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের বাস্তব অবস্থা এবং আর্থিক নথির সামঞ্জস্য উঠে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি কোনো অনিয়ম থাকলে তা শনাক্ত করে সংশ্লিষ্টদের দায় নির্ধারণের ভিত্তি তৈরি করবে বিএসইসির এই উদ্যোগ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় খবর

ইসলামী ব্যাংকে আস্থার সংকট কাটছে না: সাড়ে চার মাসেও ৩,৩০০ কোটি টাকার বেশি লোকসান

Business Times24

দুই এসএমই কোম্পানির ১৬ কোটি ৬০ লাখ টাকার ব্যবহার খতিয়ে দেখছে বিএসইসি

Update Time : ১১:১১:৪৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত দুই এসএমই কোম্পানির ১৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা কোথায় এবং কীভাবে ব্যয় হয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। কোম্পানি দুটি হলো ওয়েব কোটস ও কৃষিবিদ সিড।

যোগ্য বিনিয়োগকারী প্রস্তাব বা কিউআইও পদ্ধতিতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা অর্থ নির্ধারিত খাতে ব্যবহার হয়েছে কি না, তা যাচাই করবে সংস্থাটি।

বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, কোম্পানি দুটি শেয়ারবাজার থেকে মোট ১৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা সংগ্রহ করে। এর মধ্যে কৃষিবিদ সিড সংগ্রহ করে ১১ কোটি ৬০ লাখ টাকা এবং ওয়েব কোটস ৫ কোটি টাকা। ব্যবসা সম্প্রসারণ, ঋণ পরিশোধ, যন্ত্রপাতি ক্রয় ও চলতি মূলধনের প্রয়োজন মেটাতে এসব অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা ছিল। তবে অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে এবং নির্ধারিত উদ্দেশ্যের সঙ্গে ব্যয়ের সামঞ্জস্য যাচাই করতে তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে কমিশন।

গত ২ নভেম্বর কোম্পানি দুটির অর্থ ব্যবহারের বিষয়ে পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করে বিএসইসি। কৃষিবিদ সিডের তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছেন কমিশনের উপপরিচালক মওদুদ মোমেন ও সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ রুমান হোসেন।

অন্যদিকে ওয়েব কোটসের তদন্ত করবেন বিএসইসির যুগ্ম পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম ও সহকারী পরিচালক ফারহানা ওয়ালেজা।

কমিশনের আদেশ অনুযায়ী, কিউআইওর মাধ্যমে উত্তোলিত অর্থ যে উদ্দেশ্যে সংগ্রহ করা হয়েছিল, সেই খাতেই ব্যয় হয়েছে কি না, তা বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা করবে তদন্ত দল। এ জন্য কোম্পানি দুটির দাখিল করা আর্থিক বিবরণী পর্যালোচনার পাশাপাশি অর্থ ব্যয়ের বিপরীতে পরিচালিত প্রকল্প, অর্জিত সম্পদ ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম সরেজমিনে যাচাই করা হবে।

তদন্তের অংশ হিসেবে কোম্পানি দুটির ব্যাংক হিসাবের বিস্তারিত লেনদেন পরীক্ষা করা হবে। কিউআইওর অর্থ কোন কোন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে লেনদেন হয়েছে, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর পরিচয় এবং অর্থের প্রবাহও শনাক্ত করতে বলা হয়েছে তদন্ত দলকে।

অর্থ ব্যয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা যাচাইয়ের মাধ্যমে অর্থের প্রকৃত ব্যবহার সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা নিতে চায় কমিশন। একই সঙ্গে কোম্পানিগুলোর আর্থিক নথি ও বাস্তব প্রকল্পের মধ্যে সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করা হবে।

বিএসইসির আদেশে অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে দায়ী ব্যক্তিদের ভূমিকা সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থ ব্যবহারে সিকিউরিটিজ আইন, বিধি কিংবা নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনার কোনো ব্যত্যয় ঘটেছে কি না, তা-ও তদন্তের আওতায় থাকবে।

এ ক্ষেত্রে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা, কোম্পানি সচিব, নিরীক্ষক এবং সংশ্লিষ্ট অন্য ব্যক্তিদের ভূমিকা যাচাই করবে তদন্ত দল। অনিয়মের সঙ্গে কার কী সম্পৃক্ততা রয়েছে, তা স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করতে বলা হয়েছে।

শেয়ারবাজারসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কৃষিবিদ সিড ২০২২ সালে এসএমই বোর্ডে তালিকাভুক্ত হয়। আর ওয়েব কোটস তালিকাভুক্ত হয় ২০২৪ সালে।

তালিকাভুক্তির অনুমোদন পাওয়ার আগে কোম্পানি দুটি কিউআইওর মাধ্যমে সংগ্রহ করা অর্থ কোন খাতে কত পরিমাণ ব্যয় করবে এবং কত দিনের মধ্যে ব্যয় সম্পন্ন করবে, সে বিষয়ে পরিকল্পনা দিয়েছিল। এখন সেই পরিকল্পনার সঙ্গে বাস্তব ব্যয়ের মিল যাচাই করা হবে।

তদন্তে অর্থ ব্যবহারের প্রকৃত চিত্র, সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের বাস্তব অবস্থা এবং আর্থিক নথির সামঞ্জস্য উঠে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি কোনো অনিয়ম থাকলে তা শনাক্ত করে সংশ্লিষ্টদের দায় নির্ধারণের ভিত্তি তৈরি করবে বিএসইসির এই উদ্যোগ।