পোশাকের দোকানে চলছে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়, সাজানো রয়েছে নতুন ও পুরোনো নানা ধরনের পোশাক। অথচ ক্রেতার দেখা নেই। দীর্ঘদিনের উচ্চ মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং দোকান খোলা রাখার সময় কমে যাওয়ায় দেশের ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলোর বিক্রি প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কমেছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বিক্রি কমেছে অন্তত ২০ শতাংশ। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে এই পতন ৫০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে।
রাজধানীর বনানীর সায়মা ফ্যাশন আউটলেটের ব্যবস্থাপক মো. সাফিনের অভিজ্ঞতাও একই। শালোয়ার-কামিজ, শাড়ি ও লেহেঙ্গা বিক্রি করা প্রতিষ্ঠানটির কয়েকটি শাখা রয়েছে রাজধানীতে।
সাফিন বলেন, গত বছর ছাড় শুরু হওয়ার পর এই সময়ে দোকানের তাক প্রায় খালি হয়ে যেত। এবার পোশাকে ঠাসা তাক থাকলেও ক্রেতা হাতেগোনা। তার হিসাবে, গত বছরের তুলনায় বিক্রি কমেছে ৩০ শতাংশ।
তিনি জানান, রাজনৈতিক পরিস্থিতি, যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট এবং জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধিতে মানুষের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি দোকান খোলা রাখার সময় কমে যাওয়ায় সন্ধ্যা ও রাতের কেনাকাটার সুযোগও সংকুচিত হয়েছে।
মূল্যস্ফীতিতে সংকুচিত কেনাকাটা
দেশের অন্যতম শীর্ষ ফ্যাশন ব্র্যান্ড রঙ বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী সৌমিক দাস বলেন, দীর্ঘদিনের উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষ আগের মতো কেনাকাটা করছে না।
২০২২ সালের মাঝামাঝি থেকে শুরু হওয়া উচ্চ মূল্যস্ফীতি এখনো অব্যাহত। ২০২২-২৩ অর্থবছর থেকে গড় বার্ষিক মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের ওপরে থাকলেও মজুরি বেড়েছে তুলনামূলক কম হারে।
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি ১০ দশমিক ৯ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। একই সময়ে প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ২ শতাংশে নেমে আসতে পারে।
সৌমিক দাস বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার ক্রেতার আনাগোনা ১৫ থেকে ২০ শতাংশ কমেছে। ছাড়ের বাজারেও মানুষ শুধু প্রয়োজনীয় পোশাক কিনছেন। আগে ছাড় পেলে অনেকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত পণ্য কিনতেন।
কমেছে বিক্রি, বাড়ছে উদ্বেগ
ফ্যাশন ব্র্যান্ড এমব্রেলার বিক্রয় ও বিপণন বিভাগের প্রধান কাজী মাকতুম শোভন জানান, টি-শার্ট ও পোলো শার্টের মতো গ্রীষ্মের পোশাকে ছাড় দিয়েও প্রত্যাশিত বিক্রি হয়নি।
তার মতে, রাত ৮টায় দোকান বন্ধের নিয়ম এবং পূজা-পরবর্তী কেনাকাটার বিরতিও বিক্রিতে প্রভাব ফেলেছে। আগামী কয়েক মাসেও বিক্রি লক্ষ্যমাত্রার নিচে থাকার আশঙ্কা করছেন তিনি।
ফ্যাশন ব্র্যান্ড রাইজের সহকারী ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মুক্তার হোসেন জানান, গত অক্টোবরে ছাড় দিয়ে প্রায় ২০ লাখ টাকার পণ্য বিক্রি হয়েছিল। এবার তা কমে ১৫ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। তার ভাষ্য, ক্রেতার উপস্থিতি অর্ধেকে নেমেছে।
আবহাওয়াতেও মৌসুমি পোশাকের অনিশ্চয়তা
বিক্রিতে প্রভাব ফেলছে আবহাওয়াও। নভেম্বরের শুরুতে সাধারণত শীতের আগমনী বার্তা পাওয়া গেলেও এবার তাপমাত্রায় তেমন পরিবর্তন নেই। ফলে গরম ও শীতের পোশাকের চাহিদা নির্ধারণে দ্বিধায় রয়েছেন বিক্রেতারা।
ক্যাটস আইয়ের অনলাইন সেলস এক্সিকিউটিভ সাজ্জাদ হোসেন জানান, গত বছরের তুলনায় তাদের বিক্রি প্রায় ৫০ শতাংশ কমেছে। অর্থনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হওয়ায় ক্রেতারা অপেক্ষা করছেন।
নিউমার্কেটেও শীতের নতুন পোশাক তোলার ক্ষেত্রে ধীরগতি দেখা যাচ্ছে। অনেক দোকান পুরোনো মজুত ছাড় দিয়ে বিক্রির চেষ্টা করছে।
ফ্যাশন এন্ট্রাপ্রেনিউরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের অর্থ পরিচালক সানাউল হক বাবুল বলেন, মৌসুমের শেষ

নিজস্ব প্রতিবেদক 























