নিউজিল্যান্ডের নর্থ আইল্যান্ডের দুর্গম পূর্ব উপকূলে আটকা পড়ে ৪৩টি পাইলট তিমির মৃত্যু হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবক, বন্য প্রাণী সংরক্ষণকর্মী ও স্থানীয় আদিবাসী সম্প্রদায়ের সদস্যরা তিমিগুলোকে উদ্ধারে চেষ্টা চালালেও শেষ পর্যন্ত একটিকেও বাঁচানো সম্ভব হয়নি। প্রবল ঢেউ, ধারালো পাথর ও প্রতিকূল জোয়ার-ভাটার কারণে উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হয়।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) নিউজিল্যান্ডের সংরক্ষণ বিভাগ (ডিওসি) জানায়, নর্থ আইল্যান্ডের দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তের এনগাউই উপকূলে তিমিগুলো আটকা পড়ে। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার কিছু পর কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে জানানো হয়। খবর পাওয়ার পরপরই সংরক্ষণ বিভাগের কর্মী, মাওরি আদিবাসী সম্প্রদায়ের সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবকেরা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন।
ডিওসির ওয়াইরারাপা অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত অপারেশনস ম্যানেজার আরিয়ানা হাওইরা বলেন, আটকে পড়া কোনো তিমিই বেঁচে আছে বলে মনে হচ্ছে না। উদ্ধারকর্মীরা জীবিত তিমিগুলোকে আবার গভীর পানিতে ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে উপকূলের দুর্গম অবস্থান ও প্রতিকূল পরিবেশের কারণে সেই প্রচেষ্টা সফল হয়নি।
কয়েক কিলোমিটার উপকূলে আটকা
উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া বন্য প্রাণী সংরক্ষণ সংগঠন প্রজেক্ট জোনাহ জানায়, কয়েক কিলোমিটার উপকূলজুড়ে ৪০ থেকে ৫০টি পাইলট তিমি আটকা পড়েছিল। উদ্ধারের আগেই অনেক তিমির মৃত্যু হয়। জীবিত অবস্থায় পাওয়া তিমিগুলোকে পানিতে ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও সেগুলোও ধীরে ধীরে মারা যায়।
তিমিগুলোকে উদ্ধারে স্বেচ্ছাসেবক ও সংরক্ষণকর্মীরা সম্মিলিতভাবে কাজ করেন। কিন্তু উপকূলের পাথুরে ভূপ্রকৃতি, প্রবল ঢেউ এবং জোয়ার-ভাটার মধ্যবর্তী প্রতিকূল পরিস্থিতি উদ্ধারকাজকে কঠিন করে তোলে। ফলে প্রাণীগুলোকে নিরাপদে গভীর পানিতে ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি।
মাওরি সম্প্রদায়ের সঙ্গে মরদেহ সমাহিত করার উদ্যোগ
তিমিগুলোর মৃত্যুর পর তাদের মরদেহ সমাহিত করার বিষয়ে স্থানীয় মাওরি সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাজ করছে নিউজিল্যান্ডের সংরক্ষণ বিভাগ।
মাওরি আদিবাসীদের কাছে তিমি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও পবিত্র সম্পদ। তাদের সংস্কৃতিতে তিমিকে ‘তাওঙ্গা’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাই মৃত তিমিগুলোর যথাযথ ব্যবস্থাপনা ও সমাহিত করার বিষয়টি সাংস্কৃতিক গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
নিউজিল্যান্ডে গণহারে তিমি আটকে পড়ার ঘটনা
নিউজিল্যান্ডে তিমি ও ডলফিনের এভাবে দলবদ্ধভাবে উপকূলে আটকে পড়ার ঘটনা নতুন নয়। দেশটিতে ১৮৪০ সাল থেকে এ ধরনের পাঁচ হাজারের বেশি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।
পাইলট তিমি মূলত ডলফিন পরিবারের সদস্য। এরা দৈর্ঘ্যে সাত মিটার এবং ওজনে তিন টন পর্যন্ত হতে পারে। দলবদ্ধভাবে চলাচল করা এই সামুদ্রিক প্রাণীরা প্রায়ই গণহারে উপকূলে আটকে পড়ে।
তবে কেন পাইলট তিমিরা এভাবে দলবদ্ধভাবে উপকূলে চলে আসে, তার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো বিজ্ঞানীদের কাছে স্পষ্ট নয়। ফলে নিউজিল্যান্ডের উপকূলে ৪৩টি তিমির এই মৃত্যু সামুদ্রিক প্রাণী সংরক্ষণ ও গণহারে আটকে পড়ার ঘটনা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান ও নিউজিল্যান্ডের সংরক্ষণ বিভাগ (ডিওসি)

নিজস্ব প্রতিবেদক 






















