০৪:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬

ইরান যুদ্ধের মাশুল, কংগ্রেস হারিয়ে দায় স্বীকার ট্রাম্পের

The gallery was not found!

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে অনুশোচনা না থাকলেও মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় পরাজয়ের পেছনে যুদ্ধের প্রভাব শেষ পর্যন্ত স্বীকার করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর যুদ্ধের রাজনৈতিক মাশুল নিয়ে চাপ বাড়ছে তাঁর প্রশাসনে। একই সঙ্গে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের নেতৃত্ব ও যুদ্ধ শুরুর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে পরাজয়ের মধ্যেও হেগসেথের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন ট্রাম্প।

মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোটের দিন রাতেই বুথফেরত জরিপে রিপাবলিকানদের বিপর্যয়ের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। নির্বাচনের ফলাফলে দলটি কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারায়। ইরান যুদ্ধ নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ এই পরাজয়ের অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

মঙ্গলবার রাতে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেওয়া টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়, নির্বাচনে রিপাবলিকানদের খারাপ ফলের পেছনে ইরান যুদ্ধের ভূমিকা ছিল কি না। জবাবে তিনি বলেন, ‘ইরান যুদ্ধও এর একটি কারণ।’

গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। যুদ্ধের সিদ্ধান্ত নিয়ে অনুশোচনা আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প নেতিবাচক অবস্থান জানান। তবে যুদ্ধের সিদ্ধান্তের পেছনে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।

হেগসেথের দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন

নির্বাচনে পরাজয়ের পর হেগসেথকে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে সরানো হবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘না, আমার মনে হয়, তিনি খুব ভালো কাজ করছেন।’

হেগসেথ ইরান যুদ্ধের অন্যতম প্রধান সমর্থক হিসেবে পরিচিত। গত ২৩ মার্চ ট্রাম্প বলেছিলেন, হেগসেথই তাঁকে প্রথম ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান শুরুর পরামর্শ দিয়েছিলেন। পারমাণবিক অস্ত্রের ঝুঁকি ঠেকানোর যুক্তিতে তিনি যুদ্ধের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন।

ট্রাম্পের এক উপদেষ্টা ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে বলেন, যুদ্ধের জন্য কাউকে না কাউকে দায় নিতে হবে। তাঁর ভাষ্য, হেগসেথকে বরখাস্ত করার বিষয়টি বিবেচনায় আসতে পারে। তবে ট্রাম্প নিজে দায় নেবেন না বলেও মন্তব্য করেন ওই উপদেষ্টা।

২০০৬ সালের সঙ্গে তুলনা

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে এমন পরিস্থিতি আগে দেখা গেছে। ২০০৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ইরাক যুদ্ধ নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষের কারণে রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল। পরদিন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী ডোনাল্ড রামসফেল্ডকে বরখাস্ত করেন।

এবারও যুদ্ধের রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে একই ধরনের আলোচনা চলছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ভোটের পরদিন প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছেন, ইরান যুদ্ধ আদৌ সার্থক ছিল কি না। তাঁর মতে, যুদ্ধের কারণে রিপাবলিকানদের কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারাতে হয়েছে।

কংগ্রেসে চাপ বাড়ছে

হেগসেথের বিরুদ্ধে নিজ দলেই সমালোচনা রয়েছে। রিপাবলিকান প্রতিনিধি টমাস ম্যাসি কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে অভিশংসনের প্রস্তাব জমা দিয়েছিলেন।

সিনেটর টম টিলিসও হেগসেথকে জবাবদিহির মুখোমুখি করার দাবি জানিয়েছেন। তাঁর মতে, প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আইনপ্রণেতাদের টানাপোড়েন কংগ্রেসে ট্রাম্প প্রশাসনের ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি ডলারের প্রতিরক্ষা ব্যয় অনুমোদনের প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে।

টিলিস বলেন, বর্তমান কংগ্রেসের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে প্রতিরক্ষা ব্যয় পাস করাতে হেগসেথই সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি কি না, তা বিবেচনা করা প্রয়োজন। বর্তমান কংগ্রেসের মেয়াদ রয়েছে আর মাত্র ৬০ দিন।

অন্যদিকে, প্রতিরক্ষা দপ্তর জানিয়েছে, ট্রাম্পের মেয়াদের শেষ দিন ২০২৯ সালের ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত পেন্টাগনের নেতৃত্ব দেওয়ার বিষয়ে হেগসেথ শতভাগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ফলে নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনা আরও জোরালো হলেও এখনই দায়িত্ব থেকে সরানোর সিদ্ধান্ত হয়নি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় খবর

আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার রায় ১৯ নভেম্বর

Business Times24

ইরান যুদ্ধের মাশুল, কংগ্রেস হারিয়ে দায় স্বীকার ট্রাম্পের

Update Time : ০১:২৬:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে অনুশোচনা না থাকলেও মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় পরাজয়ের পেছনে যুদ্ধের প্রভাব শেষ পর্যন্ত স্বীকার করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর যুদ্ধের রাজনৈতিক মাশুল নিয়ে চাপ বাড়ছে তাঁর প্রশাসনে। একই সঙ্গে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের নেতৃত্ব ও যুদ্ধ শুরুর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে পরাজয়ের মধ্যেও হেগসেথের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন ট্রাম্প।

মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোটের দিন রাতেই বুথফেরত জরিপে রিপাবলিকানদের বিপর্যয়ের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। নির্বাচনের ফলাফলে দলটি কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারায়। ইরান যুদ্ধ নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ এই পরাজয়ের অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

মঙ্গলবার রাতে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেওয়া টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়, নির্বাচনে রিপাবলিকানদের খারাপ ফলের পেছনে ইরান যুদ্ধের ভূমিকা ছিল কি না। জবাবে তিনি বলেন, ‘ইরান যুদ্ধও এর একটি কারণ।’

গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। যুদ্ধের সিদ্ধান্ত নিয়ে অনুশোচনা আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প নেতিবাচক অবস্থান জানান। তবে যুদ্ধের সিদ্ধান্তের পেছনে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।

হেগসেথের দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন

নির্বাচনে পরাজয়ের পর হেগসেথকে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে সরানো হবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘না, আমার মনে হয়, তিনি খুব ভালো কাজ করছেন।’

হেগসেথ ইরান যুদ্ধের অন্যতম প্রধান সমর্থক হিসেবে পরিচিত। গত ২৩ মার্চ ট্রাম্প বলেছিলেন, হেগসেথই তাঁকে প্রথম ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান শুরুর পরামর্শ দিয়েছিলেন। পারমাণবিক অস্ত্রের ঝুঁকি ঠেকানোর যুক্তিতে তিনি যুদ্ধের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন।

ট্রাম্পের এক উপদেষ্টা ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে বলেন, যুদ্ধের জন্য কাউকে না কাউকে দায় নিতে হবে। তাঁর ভাষ্য, হেগসেথকে বরখাস্ত করার বিষয়টি বিবেচনায় আসতে পারে। তবে ট্রাম্প নিজে দায় নেবেন না বলেও মন্তব্য করেন ওই উপদেষ্টা।

২০০৬ সালের সঙ্গে তুলনা

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে এমন পরিস্থিতি আগে দেখা গেছে। ২০০৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ইরাক যুদ্ধ নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষের কারণে রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল। পরদিন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী ডোনাল্ড রামসফেল্ডকে বরখাস্ত করেন।

এবারও যুদ্ধের রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে একই ধরনের আলোচনা চলছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ভোটের পরদিন প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছেন, ইরান যুদ্ধ আদৌ সার্থক ছিল কি না। তাঁর মতে, যুদ্ধের কারণে রিপাবলিকানদের কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারাতে হয়েছে।

কংগ্রেসে চাপ বাড়ছে

হেগসেথের বিরুদ্ধে নিজ দলেই সমালোচনা রয়েছে। রিপাবলিকান প্রতিনিধি টমাস ম্যাসি কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে অভিশংসনের প্রস্তাব জমা দিয়েছিলেন।

সিনেটর টম টিলিসও হেগসেথকে জবাবদিহির মুখোমুখি করার দাবি জানিয়েছেন। তাঁর মতে, প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আইনপ্রণেতাদের টানাপোড়েন কংগ্রেসে ট্রাম্প প্রশাসনের ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি ডলারের প্রতিরক্ষা ব্যয় অনুমোদনের প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে।

টিলিস বলেন, বর্তমান কংগ্রেসের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে প্রতিরক্ষা ব্যয় পাস করাতে হেগসেথই সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি কি না, তা বিবেচনা করা প্রয়োজন। বর্তমান কংগ্রেসের মেয়াদ রয়েছে আর মাত্র ৬০ দিন।

অন্যদিকে, প্রতিরক্ষা দপ্তর জানিয়েছে, ট্রাম্পের মেয়াদের শেষ দিন ২০২৯ সালের ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত পেন্টাগনের নেতৃত্ব দেওয়ার বিষয়ে হেগসেথ শতভাগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ফলে নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনা আরও জোরালো হলেও এখনই দায়িত্ব থেকে সরানোর সিদ্ধান্ত হয়নি।