১০:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬

আগাম শীতের সবজিতে স্বস্তি, মাছ-মাংসে বাড়তি খরচ

The gallery was not found!

সরবরাহ বাড়ায় কমেছে শিম, ফুলকপি ও বাঁধাকপির দাম; চড়া টমেটো, কাঁচামরিচ ও গাজর

আগাম শীতের সবজি বাজারে আসতে শুরু করায় রাজধানীর কাঁচাবাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। শিম, ফুলকপি, বাঁধাকপি ও মুলার সরবরাহ বাড়ায় কমেছে এসব পণ্যের দাম। তবে টমেটো, কাঁচামরিচ ও গাজরের মতো কয়েকটি সবজির দাম এখনো চড়া। অন্যদিকে মাছ-মাংসের বাজারে দামের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন না থাকায় আমিষের চাহিদা মেটাতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাজধানীর উত্তরা ও বাড্ডা এলাকার বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা, মুলা ৪০ থেকে ৬০ টাকা এবং ধুন্দল, ঝিঙা ও মেটে আলু ৬০ টাকায়। আকারভেদে ফুলকপি প্রতি পিস ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং বাঁধাকপি ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বেগুনের দাম জাতভেদে ৪০ থেকে ৭০ টাকা হলেও গোল বেগুনের কেজি ১২০ টাকা।

অন্যদিকে টমেটো ও কাঁচামরিচের কেজি ১২০ টাকা এবং গাজর ১৪০ টাকা। দেশি শসা ৮০ ও হাইব্রিড শসা ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ঢ্যাঁড়শ ও কচুমুখি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, বরবটি, করলা ও কাঁকরোল ৬০ থেকে ৮০ টাকা। প্রতি পিস লাউ ৪০ থেকে ৫০ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা এবং মিষ্টিকুমড়া ৩০ থেকে ৪০ টাকা। আলু বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি।

উত্তরার আজমপুর সমবায় মার্কেটের সবজি বিক্রেতা আরিফ বলেন, শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে। ফলে কয়েকটি পণ্যের দাম আগের তুলনায় কমেছে। সরবরাহ আরও বাড়লে দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

একই বাজারের বিক্রেতা সোহাগ মিয়া বলেন, এখনো সব ধরনের শীতকালীন সবজি বাজারে আসেনি। সরবরাহ বাড়লে ফুলকপি, বাঁধাকপিসহ অন্যান্য সবজির দাম আরও কমতে পারে।

সবজিতে কিছুটা স্বস্তি মিললেও মাছের বাজারে চিত্র ভিন্ন। প্রতি কেজি রুই ২৮০ থেকে ৩৮০ টাকা, বড় তেলাপিয়া ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, সিলভার কার্প ও গ্রাস কার্প ১৮০ থেকে ২০০ টাকা এবং পাঙাশ ১৬০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাতলা ৩৫০ থেকে ৩৮০ টাকা, চাষের কই ২০০ থেকে ২২০ টাকা এবং পাবদা ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। ইলিশের দাম সবচেয়ে বেশি। আকার ও মানভেদে প্রতি কেজি ৮০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকা, কোথাও বড় ইলিশ ২ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

মাংসের বাজারেও স্বস্তি নেই। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৭০ থেকে ১৯০ টাকা, সোনালি মুরগি ২৪০ থেকে ৩৩০ টাকা, গরুর মাংস ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আগের সপ্তাহের তুলনায় এসব পণ্যের দামে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি।

এদিকে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ৫ নভেম্বরের বাজারদরের তথ্য অনুযায়ী, সপ্তাহের ব্যবধানে দেশি পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ, বেগুন, ফার্মের ডিম, ছোলা, সুগন্ধি পোলাও চাল ও আমদানি করা আদার দাম কমেছে। তবে প্যাকেট ময়দা, খোলা পাম তেল ও চিনির দাম কিছুটা বেড়েছে। অধিকাংশ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

সব মিলিয়ে শীতের আগাম সবজিতে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও মাছ-মাংস ও অন্যান্য নিত্যপণ্যের ব্যয় কমেনি। ফলে বাজারে স্বস্তির প্রভাব এখনো সীমিত।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় খবর

হরমুজে চার দেশের জাহাজে ইরানের ছাড়, তেলের পথ খুলে কূটনৈতিক হিসাব

Business Times24

আগাম শীতের সবজিতে স্বস্তি, মাছ-মাংসে বাড়তি খরচ

Update Time : ০৯:২৯:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

সরবরাহ বাড়ায় কমেছে শিম, ফুলকপি ও বাঁধাকপির দাম; চড়া টমেটো, কাঁচামরিচ ও গাজর

আগাম শীতের সবজি বাজারে আসতে শুরু করায় রাজধানীর কাঁচাবাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। শিম, ফুলকপি, বাঁধাকপি ও মুলার সরবরাহ বাড়ায় কমেছে এসব পণ্যের দাম। তবে টমেটো, কাঁচামরিচ ও গাজরের মতো কয়েকটি সবজির দাম এখনো চড়া। অন্যদিকে মাছ-মাংসের বাজারে দামের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন না থাকায় আমিষের চাহিদা মেটাতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাজধানীর উত্তরা ও বাড্ডা এলাকার বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা, মুলা ৪০ থেকে ৬০ টাকা এবং ধুন্দল, ঝিঙা ও মেটে আলু ৬০ টাকায়। আকারভেদে ফুলকপি প্রতি পিস ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং বাঁধাকপি ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বেগুনের দাম জাতভেদে ৪০ থেকে ৭০ টাকা হলেও গোল বেগুনের কেজি ১২০ টাকা।

অন্যদিকে টমেটো ও কাঁচামরিচের কেজি ১২০ টাকা এবং গাজর ১৪০ টাকা। দেশি শসা ৮০ ও হাইব্রিড শসা ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ঢ্যাঁড়শ ও কচুমুখি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, বরবটি, করলা ও কাঁকরোল ৬০ থেকে ৮০ টাকা। প্রতি পিস লাউ ৪০ থেকে ৫০ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা এবং মিষ্টিকুমড়া ৩০ থেকে ৪০ টাকা। আলু বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি।

উত্তরার আজমপুর সমবায় মার্কেটের সবজি বিক্রেতা আরিফ বলেন, শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে। ফলে কয়েকটি পণ্যের দাম আগের তুলনায় কমেছে। সরবরাহ আরও বাড়লে দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

একই বাজারের বিক্রেতা সোহাগ মিয়া বলেন, এখনো সব ধরনের শীতকালীন সবজি বাজারে আসেনি। সরবরাহ বাড়লে ফুলকপি, বাঁধাকপিসহ অন্যান্য সবজির দাম আরও কমতে পারে।

সবজিতে কিছুটা স্বস্তি মিললেও মাছের বাজারে চিত্র ভিন্ন। প্রতি কেজি রুই ২৮০ থেকে ৩৮০ টাকা, বড় তেলাপিয়া ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, সিলভার কার্প ও গ্রাস কার্প ১৮০ থেকে ২০০ টাকা এবং পাঙাশ ১৬০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাতলা ৩৫০ থেকে ৩৮০ টাকা, চাষের কই ২০০ থেকে ২২০ টাকা এবং পাবদা ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। ইলিশের দাম সবচেয়ে বেশি। আকার ও মানভেদে প্রতি কেজি ৮০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকা, কোথাও বড় ইলিশ ২ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

মাংসের বাজারেও স্বস্তি নেই। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৭০ থেকে ১৯০ টাকা, সোনালি মুরগি ২৪০ থেকে ৩৩০ টাকা, গরুর মাংস ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আগের সপ্তাহের তুলনায় এসব পণ্যের দামে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি।

এদিকে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ৫ নভেম্বরের বাজারদরের তথ্য অনুযায়ী, সপ্তাহের ব্যবধানে দেশি পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ, বেগুন, ফার্মের ডিম, ছোলা, সুগন্ধি পোলাও চাল ও আমদানি করা আদার দাম কমেছে। তবে প্যাকেট ময়দা, খোলা পাম তেল ও চিনির দাম কিছুটা বেড়েছে। অধিকাংশ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

সব মিলিয়ে শীতের আগাম সবজিতে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও মাছ-মাংস ও অন্যান্য নিত্যপণ্যের ব্যয় কমেনি। ফলে বাজারে স্বস্তির প্রভাব এখনো সীমিত।