১২:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬

ইসরায়েলে সরকার গঠন নিয়ে নতুন মেরুকরণ, ইহুদি-আরব ঐক্যের দাবিতে রাজপথে হাজারো মানুষ

The gallery was not found!

ইসরায়েলের সাম্প্রতিক নির্বাচনের পর সরকার গঠন নিয়ে দেশটির রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন কট্টর ডানপন্থী জোটকে ক্ষমতার বাইরে রাখতে ইহুদি ও আরব রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বৃহত্তর ঐক্যের দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। এই দাবিতে তেল আবিব ও জেরুজালেমসহ বিভিন্ন শহরে হাজারো মানুষের বিক্ষোভ দেশটির রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিক্ষোভকারীদের মতে, পারস্পরিক বিভাজন ও সংঘাতের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে সমতা, সহাবস্থান ও অংশীদারত্বের ভিত্তিতে নতুন সরকার গঠন করা প্রয়োজন।

গত শনিবার তেল আবিবের হাবিমা স্কয়ারে প্রায় দুই হাজার মানুষ জড়ো হয়ে নেতানিয়াহুবিরোধী বিক্ষোভ করেন। তাঁদের স্লোগানে উঠে আসে ইহুদি ও আরব জনগোষ্ঠীর ঐক্য, বর্ণবাদবিরোধিতা এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবি। পরে বিক্ষোভকারীরা রাবিন স্কয়ারে গিয়ে সমাবেশ শেষ করেন। সেখানে তাঁদের প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘পরিবর্তন আনার জন্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে’ এবং ‘সবার জন্য সমতা’। একই দাবিতে জেরুজালেমেও বিক্ষোভ হয়েছে। স্ট্যান্ডিং টুগেদার নামের একটি সংগঠন এসব কর্মসূচির আয়োজন করে।

গত ২৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ইসরায়েলের ১২০ আসনের পার্লামেন্টে কোনো দল বা জোট এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসন পায়নি। নির্বাচনে নেতানিয়াহুর কট্টর ডানপন্থী জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। অন্যদিকে সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন। আরব রাজনৈতিক দল রাআম ও জয়েন্ট লিস্ট সম্মিলিতভাবে পেয়েছে ১৯টি আসন।

এই ফলাফলই সরকার গঠনের আলোচনায় আরব দলগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে এসেছে। বিরোধী জোটের সঙ্গে আরব দলগুলোর সমঝোতা হলে সম্ভাব্য আসনসংখ্যা দাঁড়াবে ৬৭। অর্থাৎ সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। এ নিয়ে বিরোধী ইহুদি দলগুলোর সঙ্গে আরব দলগুলোর আলোচনা ও বৈঠকের খবরও সামনে এসেছে।

ডেমোক্র্যাটস দলের নেতা ইয়ার গোলান প্রকাশ্যে আরব দলগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তাঁর এই অবস্থান বিরোধী শিবিরে ঐক্যের সম্ভাবনাকে আরও আলোচনায় এনেছে। তবে আসনসংখ্যার এই হিসাব বাস্তবে সরকার গঠনের নিশ্চয়তা দিচ্ছে না।

সংখ্যাগরিষ্ঠতার সম্ভাবনা তৈরি হলেও বিরোধী শিবিরের অভ্যন্তরীণ বিভাজন বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিরোধী চার দলের মধ্যে ইয়াশার, বি’য়াচাদ ও ইসরায়েল বেইতেনু আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট সরকার গঠনের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে। বিশেষ করে আভিগদর লিবারম্যান ও নাফতালি বেনেট নির্বাচনী প্রচারে আরব দলগুলোর সমর্থনের ওপর নির্ভর না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ফলে নির্বাচনের পর তাঁদের অবস্থান পরিবর্তন রাজনৈতিকভাবে কঠিন হয়ে উঠেছে।

অন্যদিকে আরব দলগুলোর আসনসংখ্যা এবার ঐতিহাসিক গুরুত্ব পেয়েছে। যৌথ তালিকা ও রাআমের ১৯টি আসন ইসরায়েলের রাজনীতিতে আরব নাগরিকদের প্রতিনিধিত্ব ও প্রভাব বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে। নির্বাচনে আরব ভোটারদের উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে বেদুইন অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে ভোটার উপস্থিতি বৃদ্ধির খবর পাওয়া গেছে। দীর্ঘদিনের বৈষম্য, নিরাপত্তাহীনতা, অপরাধ এবং বসতবাড়ি উচ্ছেদের মতো বিষয়গুলো আরব জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে।

বিরোধীদের বিক্ষোভের পাশাপাশি নেতানিয়াহুর সমর্থকেরাও পাল্টা কর্মসূচি পালন করেছেন। হাবিমা স্কয়ারে প্রায় ২০০ সমর্থক জড়ো হয়ে আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের বিরোধিতা করেন। তাঁদের অভিযোগ, আরব দলগুলো নির্বাচনের ফলাফলের ওপর প্রভাব বিস্তার করেছে। বিক্ষোভে ইহুদি রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্য ও জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন সামনে আনা হয়। কয়েকজন বিক্ষোভকারীর বর্ণবাদী বক্তব্যও পরিস্থিতির রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনাকে স্পষ্ট করেছে।

বিদায়ী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গাভিরও এই বিক্ষোভে অংশ নিয়ে আরব দলগুলোর সঙ্গে ক্ষমতা ভাগাভাগির বিরোধিতা করেন। অন্যদিকে লিকুদ শিবিরের পক্ষ থেকে নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তোলা হলেও দেশটির নির্বাচন কমিশন ব্যাপক জালিয়াতির অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ পায়নি বলে জানিয়েছে।

ইসরায়েলের সরকার গঠনের এই অচলাবস্থা শুধু দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেই সীমাবদ্ধ নয়। গাজা যুদ্ধ, ইরানকে ঘিরে আঞ্চলিক উত্তেজনা, ফিলিস্তিন প্রশ্ন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্কের কারণে নতুন সরকারের অবস্থান আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে সরকার গঠনে সহায়তার বিষয়টি বিবেচনা করবেন বলে জানিয়েছেন। ফলে ইসরায়েলের সরকার গঠনের আলোচনায় ওয়াশিংটনের অবস্থানও গুরুত্ব পাচ্ছে। অন্যদিকে সাবেক সেনাপ্রধান আইজেনকট নিরাপত্তা ও গাজা নীতিতে কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি নেতানিয়াহু সরকারের ব্যর্থতার জবাবদিহির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

এদিকে নতুন পার্লামেন্টের স্পিকার আমির ওহানাকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়েও নেতানিয়াহুবিরোধী দলগুলোর মধ্যে আলোচনা চলছে। তবে বিকল্প প্রার্থী ও রাজনৈতিক সমঝোতা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

সব মিলিয়ে ইসরায়েলের রাজনীতি এখন গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে। একদিকে নেতানিয়াহুবিরোধী শিবিরের সামনে সরকার পরিবর্তনের গাণিতিক সুযোগ, অন্যদিকে আরব দলগুলোর সঙ্গে রাজনৈতিক অংশীদারত্ব নিয়ে মতবিরোধ। শেষ পর্যন্ত বিরোধীরা ঐক্য ধরে রাখতে পারবে কি না, তার ওপরই অনেকাংশে নির্ভর করছে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং ইসরায়েলের পরবর্তী সরকারের গতিপথ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় খবর

জনতা ইন্স্যুরেন্সের আর্থিক অগ্রযাত্রা, নয় মাসে আয় বেড়ে ১.৩৬ টাকা

Business Times24

ইসরায়েলে সরকার গঠন নিয়ে নতুন মেরুকরণ, ইহুদি-আরব ঐক্যের দাবিতে রাজপথে হাজারো মানুষ

Update Time : ১১:২৩:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

ইসরায়েলের সাম্প্রতিক নির্বাচনের পর সরকার গঠন নিয়ে দেশটির রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন কট্টর ডানপন্থী জোটকে ক্ষমতার বাইরে রাখতে ইহুদি ও আরব রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বৃহত্তর ঐক্যের দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। এই দাবিতে তেল আবিব ও জেরুজালেমসহ বিভিন্ন শহরে হাজারো মানুষের বিক্ষোভ দেশটির রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিক্ষোভকারীদের মতে, পারস্পরিক বিভাজন ও সংঘাতের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে সমতা, সহাবস্থান ও অংশীদারত্বের ভিত্তিতে নতুন সরকার গঠন করা প্রয়োজন।

গত শনিবার তেল আবিবের হাবিমা স্কয়ারে প্রায় দুই হাজার মানুষ জড়ো হয়ে নেতানিয়াহুবিরোধী বিক্ষোভ করেন। তাঁদের স্লোগানে উঠে আসে ইহুদি ও আরব জনগোষ্ঠীর ঐক্য, বর্ণবাদবিরোধিতা এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবি। পরে বিক্ষোভকারীরা রাবিন স্কয়ারে গিয়ে সমাবেশ শেষ করেন। সেখানে তাঁদের প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘পরিবর্তন আনার জন্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে’ এবং ‘সবার জন্য সমতা’। একই দাবিতে জেরুজালেমেও বিক্ষোভ হয়েছে। স্ট্যান্ডিং টুগেদার নামের একটি সংগঠন এসব কর্মসূচির আয়োজন করে।

গত ২৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ইসরায়েলের ১২০ আসনের পার্লামেন্টে কোনো দল বা জোট এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসন পায়নি। নির্বাচনে নেতানিয়াহুর কট্টর ডানপন্থী জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। অন্যদিকে সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন। আরব রাজনৈতিক দল রাআম ও জয়েন্ট লিস্ট সম্মিলিতভাবে পেয়েছে ১৯টি আসন।

এই ফলাফলই সরকার গঠনের আলোচনায় আরব দলগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে এসেছে। বিরোধী জোটের সঙ্গে আরব দলগুলোর সমঝোতা হলে সম্ভাব্য আসনসংখ্যা দাঁড়াবে ৬৭। অর্থাৎ সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। এ নিয়ে বিরোধী ইহুদি দলগুলোর সঙ্গে আরব দলগুলোর আলোচনা ও বৈঠকের খবরও সামনে এসেছে।

ডেমোক্র্যাটস দলের নেতা ইয়ার গোলান প্রকাশ্যে আরব দলগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তাঁর এই অবস্থান বিরোধী শিবিরে ঐক্যের সম্ভাবনাকে আরও আলোচনায় এনেছে। তবে আসনসংখ্যার এই হিসাব বাস্তবে সরকার গঠনের নিশ্চয়তা দিচ্ছে না।

সংখ্যাগরিষ্ঠতার সম্ভাবনা তৈরি হলেও বিরোধী শিবিরের অভ্যন্তরীণ বিভাজন বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিরোধী চার দলের মধ্যে ইয়াশার, বি’য়াচাদ ও ইসরায়েল বেইতেনু আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট সরকার গঠনের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে। বিশেষ করে আভিগদর লিবারম্যান ও নাফতালি বেনেট নির্বাচনী প্রচারে আরব দলগুলোর সমর্থনের ওপর নির্ভর না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ফলে নির্বাচনের পর তাঁদের অবস্থান পরিবর্তন রাজনৈতিকভাবে কঠিন হয়ে উঠেছে।

অন্যদিকে আরব দলগুলোর আসনসংখ্যা এবার ঐতিহাসিক গুরুত্ব পেয়েছে। যৌথ তালিকা ও রাআমের ১৯টি আসন ইসরায়েলের রাজনীতিতে আরব নাগরিকদের প্রতিনিধিত্ব ও প্রভাব বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে। নির্বাচনে আরব ভোটারদের উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে বেদুইন অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে ভোটার উপস্থিতি বৃদ্ধির খবর পাওয়া গেছে। দীর্ঘদিনের বৈষম্য, নিরাপত্তাহীনতা, অপরাধ এবং বসতবাড়ি উচ্ছেদের মতো বিষয়গুলো আরব জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে।

বিরোধীদের বিক্ষোভের পাশাপাশি নেতানিয়াহুর সমর্থকেরাও পাল্টা কর্মসূচি পালন করেছেন। হাবিমা স্কয়ারে প্রায় ২০০ সমর্থক জড়ো হয়ে আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের বিরোধিতা করেন। তাঁদের অভিযোগ, আরব দলগুলো নির্বাচনের ফলাফলের ওপর প্রভাব বিস্তার করেছে। বিক্ষোভে ইহুদি রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্য ও জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন সামনে আনা হয়। কয়েকজন বিক্ষোভকারীর বর্ণবাদী বক্তব্যও পরিস্থিতির রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনাকে স্পষ্ট করেছে।

বিদায়ী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গাভিরও এই বিক্ষোভে অংশ নিয়ে আরব দলগুলোর সঙ্গে ক্ষমতা ভাগাভাগির বিরোধিতা করেন। অন্যদিকে লিকুদ শিবিরের পক্ষ থেকে নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তোলা হলেও দেশটির নির্বাচন কমিশন ব্যাপক জালিয়াতির অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ পায়নি বলে জানিয়েছে।

ইসরায়েলের সরকার গঠনের এই অচলাবস্থা শুধু দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেই সীমাবদ্ধ নয়। গাজা যুদ্ধ, ইরানকে ঘিরে আঞ্চলিক উত্তেজনা, ফিলিস্তিন প্রশ্ন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্কের কারণে নতুন সরকারের অবস্থান আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে সরকার গঠনে সহায়তার বিষয়টি বিবেচনা করবেন বলে জানিয়েছেন। ফলে ইসরায়েলের সরকার গঠনের আলোচনায় ওয়াশিংটনের অবস্থানও গুরুত্ব পাচ্ছে। অন্যদিকে সাবেক সেনাপ্রধান আইজেনকট নিরাপত্তা ও গাজা নীতিতে কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি নেতানিয়াহু সরকারের ব্যর্থতার জবাবদিহির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

এদিকে নতুন পার্লামেন্টের স্পিকার আমির ওহানাকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়েও নেতানিয়াহুবিরোধী দলগুলোর মধ্যে আলোচনা চলছে। তবে বিকল্প প্রার্থী ও রাজনৈতিক সমঝোতা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

সব মিলিয়ে ইসরায়েলের রাজনীতি এখন গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে। একদিকে নেতানিয়াহুবিরোধী শিবিরের সামনে সরকার পরিবর্তনের গাণিতিক সুযোগ, অন্যদিকে আরব দলগুলোর সঙ্গে রাজনৈতিক অংশীদারত্ব নিয়ে মতবিরোধ। শেষ পর্যন্ত বিরোধীরা ঐক্য ধরে রাখতে পারবে কি না, তার ওপরই অনেকাংশে নির্ভর করছে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং ইসরায়েলের পরবর্তী সরকারের গতিপথ।