১০:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬

রোনালদোর বিদায়ে হতাশ জেসুস, ‘তার সিদ্ধান্ত মেনে নিতে হবে’

The gallery was not found!

২৩ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানছেন পর্তুগিজ মহাতারকা • কোচের চাওয়া ছিল জাতীয় দলে থেকে যান রোনালদো • পর্তুগিজ ফুটবলের কিংবদন্তি হিসেবে চিরকাল স্মরণীয় থাকবেন তিনি

স্পোর্টস ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর অবসরের ঘোষণায় হতাশা প্রকাশ করেছেন পর্তুগালের কোচ হোর্হে জেসুস। জাতীয় দলের হয়ে দীর্ঘ ২৩ বছরের ক্যারিয়ারের ইতি টানার সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া ছাড়া তাঁর আর কিছু করার নেই বলে জানিয়েছেন এই অভিজ্ঞ কোচ। তবে পর্তুগিজ ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকার অবদান ও অর্জন চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে মনে করেন তিনি।

গত বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন ৪১ বছর বয়সী রোনালদো। গত আন্তর্জাতিক বিরতিতে পর্যাপ্ত খেলার সুযোগ না পাওয়া নিয়ে জেসুসের সঙ্গে তাঁর বিরোধ তৈরি হয়েছিল। এমনকি পর্তুগালের জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়েও চলে গিয়েছিলেন সাবেক অধিনায়ক। সেই আলোচিত ঘটনার পরই আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত জানান পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই ফরোয়ার্ড।

২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে পর্তুগালের বিদায়ের পর গত জুলাইয়ে জাতীয় দলের দায়িত্ব নেন জেসুস। দায়িত্ব গ্রহণের পর রোনালদোর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন কোচ। তবে সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যেও শিষ্যকে জাতীয় দলে রেখে দেওয়ার ইচ্ছা ছিল তাঁর।

পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যম কানাল ১১-কে জেসুস বলেন, ‘গত সেপ্টেম্বরে আমার অধীনে প্রথম দল ঘোষণার আগে এই বিষয়ে আমাদের কথা বলার সুযোগ হয়েছিল। আমি তাকে আমার সঙ্গে থেকে যেতে বলেছিলাম। কারণ আমার পাশে তাকে প্রয়োজন ছিল। তবে তার সিদ্ধান্ত আমাকে মেনে নিতে হবে।’

আসন্ন আন্তর্জাতিক বিরতিতে উয়েফা নেশন্স লিগে ডেনমার্ক ও ওয়েলসের বিপক্ষে ম্যাচের জন্য শুক্রবার দল ঘোষণার কথা ছিল জেসুসের। এর আগের দিনই রোনালদোর অবসরের ঘোষণা নিয়ে তিনি বলেন, ‘এটা সম্পূর্ণ তার সিদ্ধান্ত।’

শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনা, তারপর বিদায়ের ঘোষণা

জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে চলে যাওয়ায় শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে রোনালদোকে ২৫৫ ইউরো জরিমানা ও ৩০ দিনের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন (এফপিএফ)। পরে এক দীর্ঘ বিবৃতিতে সতীর্থদের কাছে ক্ষমা চেয়ে জাতীয় দলের হয়ে খেলা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন তিনি। তবে কোচ জেসুসের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগও তুলেছিলেন।

নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর জাতীয় দলে রোনালদোর ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন ভক্তরা। কিন্তু আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে তাঁর অবসরের ঘোষণায় সেই প্রত্যাশার অবসান ঘটে।

তবে মাঠের বাইরের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাগুলো ছাপিয়ে রোনালদোর অর্জন ও অবদানের প্রশংসা করেছেন জেসুস। আল নাসরের সাবেক কোচ হিসেবে এক বছর তাঁর সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন তিনি।

জেসুস বলেন, ‘আল নাসরে তার সঙ্গে এক বছর কাজ করার সুযোগ হয়েছিল আমার। সে বিশ্বজুড়ে একজন আইকন, পর্তুগিজ আইকন ও জাতীয় দলের আইকন।’

রেকর্ডে রেকর্ডে সমৃদ্ধ রোনালদোর ক্যারিয়ার

জাতীয় দলের হয়ে ২৩৪ ম্যাচে ১৪৬ গোল করেছেন রোনালদো। আন্তর্জাতিক ফুটবলে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা ও সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড তাঁর দখলে। তাঁর নেতৃত্বে পর্তুগাল জিতেছে তিনটি বড় শিরোপা—২০১৬ ইউরো এবং ২০১৯ ও ২০২৫ উয়েফা নেশন্স লিগ।

রোনালদোর অবদান স্মরণ করে জেসুস বলেন, ‘বছরের পর বছর সে জাতীয় দলকে অনেক কিছু দিয়েছে। সে সব সময়ই আমাদের জাতীয় দলের, আমাদের মানুষের ও আমাদের ইতিহাসের আইকন হয়ে থাকবে। পর্তুগিজদের হৃদয়ে ও জাতীয় দলে তার জায়গা সব সময় থাকবে। এটা নিয়ে কোনো প্রশ্নই নেই। কারণ সে চিরকাল পর্তুগিজ ফুটবলের একজন কিংবদন্তি হয়ে থাকবে।’

তরুণ প্রজন্মের ওপর রোনালদোর প্রভাবের কথাও তুলে ধরেন পর্তুগালের কোচ। তাঁর মতে, দেশের তরুণদের কাছে রোনালদো অনুপ্রেরণার প্রতীক।

জেসুস বলেন, ‘সে পর্তুগালের তরুণদের কাছে একটি প্রতীক। তার অধিকাংশ সমর্থকই তরুণ। প্রতিদিন সেখানে থাকা তরুণ খেলোয়াড় ও আমার সহকর্মীদের জন্য অডিটোরিয়ামে আমি তার একটি বড় ছবি ঝুলিয়ে রাখার ব্যবস্থা করেছি।’

আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায়ের ঘোষণা দিলেও পর্তুগালের ইতিহাসে রোনালদোর জায়গা অটুট থাকবে বলে মনে করেন জেসুস। তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ার, রেকর্ড ও অর্জন দেশটির ফুটবল ইতিহাসে তাঁকে চিরস্মরণীয় করে রাখবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় খবর

হরমুজে চার দেশের জাহাজে ইরানের ছাড়, তেলের পথ খুলে কূটনৈতিক হিসাব

Business Times24

রোনালদোর বিদায়ে হতাশ জেসুস, ‘তার সিদ্ধান্ত মেনে নিতে হবে’

Update Time : ০৯:৫৪:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

২৩ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানছেন পর্তুগিজ মহাতারকা • কোচের চাওয়া ছিল জাতীয় দলে থেকে যান রোনালদো • পর্তুগিজ ফুটবলের কিংবদন্তি হিসেবে চিরকাল স্মরণীয় থাকবেন তিনি

স্পোর্টস ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর অবসরের ঘোষণায় হতাশা প্রকাশ করেছেন পর্তুগালের কোচ হোর্হে জেসুস। জাতীয় দলের হয়ে দীর্ঘ ২৩ বছরের ক্যারিয়ারের ইতি টানার সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া ছাড়া তাঁর আর কিছু করার নেই বলে জানিয়েছেন এই অভিজ্ঞ কোচ। তবে পর্তুগিজ ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকার অবদান ও অর্জন চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে মনে করেন তিনি।

গত বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন ৪১ বছর বয়সী রোনালদো। গত আন্তর্জাতিক বিরতিতে পর্যাপ্ত খেলার সুযোগ না পাওয়া নিয়ে জেসুসের সঙ্গে তাঁর বিরোধ তৈরি হয়েছিল। এমনকি পর্তুগালের জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়েও চলে গিয়েছিলেন সাবেক অধিনায়ক। সেই আলোচিত ঘটনার পরই আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত জানান পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই ফরোয়ার্ড।

২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে পর্তুগালের বিদায়ের পর গত জুলাইয়ে জাতীয় দলের দায়িত্ব নেন জেসুস। দায়িত্ব গ্রহণের পর রোনালদোর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন কোচ। তবে সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যেও শিষ্যকে জাতীয় দলে রেখে দেওয়ার ইচ্ছা ছিল তাঁর।

পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যম কানাল ১১-কে জেসুস বলেন, ‘গত সেপ্টেম্বরে আমার অধীনে প্রথম দল ঘোষণার আগে এই বিষয়ে আমাদের কথা বলার সুযোগ হয়েছিল। আমি তাকে আমার সঙ্গে থেকে যেতে বলেছিলাম। কারণ আমার পাশে তাকে প্রয়োজন ছিল। তবে তার সিদ্ধান্ত আমাকে মেনে নিতে হবে।’

আসন্ন আন্তর্জাতিক বিরতিতে উয়েফা নেশন্স লিগে ডেনমার্ক ও ওয়েলসের বিপক্ষে ম্যাচের জন্য শুক্রবার দল ঘোষণার কথা ছিল জেসুসের। এর আগের দিনই রোনালদোর অবসরের ঘোষণা নিয়ে তিনি বলেন, ‘এটা সম্পূর্ণ তার সিদ্ধান্ত।’

শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনা, তারপর বিদায়ের ঘোষণা

জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে চলে যাওয়ায় শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে রোনালদোকে ২৫৫ ইউরো জরিমানা ও ৩০ দিনের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন (এফপিএফ)। পরে এক দীর্ঘ বিবৃতিতে সতীর্থদের কাছে ক্ষমা চেয়ে জাতীয় দলের হয়ে খেলা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন তিনি। তবে কোচ জেসুসের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগও তুলেছিলেন।

নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর জাতীয় দলে রোনালদোর ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন ভক্তরা। কিন্তু আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে তাঁর অবসরের ঘোষণায় সেই প্রত্যাশার অবসান ঘটে।

তবে মাঠের বাইরের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাগুলো ছাপিয়ে রোনালদোর অর্জন ও অবদানের প্রশংসা করেছেন জেসুস। আল নাসরের সাবেক কোচ হিসেবে এক বছর তাঁর সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন তিনি।

জেসুস বলেন, ‘আল নাসরে তার সঙ্গে এক বছর কাজ করার সুযোগ হয়েছিল আমার। সে বিশ্বজুড়ে একজন আইকন, পর্তুগিজ আইকন ও জাতীয় দলের আইকন।’

রেকর্ডে রেকর্ডে সমৃদ্ধ রোনালদোর ক্যারিয়ার

জাতীয় দলের হয়ে ২৩৪ ম্যাচে ১৪৬ গোল করেছেন রোনালদো। আন্তর্জাতিক ফুটবলে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা ও সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড তাঁর দখলে। তাঁর নেতৃত্বে পর্তুগাল জিতেছে তিনটি বড় শিরোপা—২০১৬ ইউরো এবং ২০১৯ ও ২০২৫ উয়েফা নেশন্স লিগ।

রোনালদোর অবদান স্মরণ করে জেসুস বলেন, ‘বছরের পর বছর সে জাতীয় দলকে অনেক কিছু দিয়েছে। সে সব সময়ই আমাদের জাতীয় দলের, আমাদের মানুষের ও আমাদের ইতিহাসের আইকন হয়ে থাকবে। পর্তুগিজদের হৃদয়ে ও জাতীয় দলে তার জায়গা সব সময় থাকবে। এটা নিয়ে কোনো প্রশ্নই নেই। কারণ সে চিরকাল পর্তুগিজ ফুটবলের একজন কিংবদন্তি হয়ে থাকবে।’

তরুণ প্রজন্মের ওপর রোনালদোর প্রভাবের কথাও তুলে ধরেন পর্তুগালের কোচ। তাঁর মতে, দেশের তরুণদের কাছে রোনালদো অনুপ্রেরণার প্রতীক।

জেসুস বলেন, ‘সে পর্তুগালের তরুণদের কাছে একটি প্রতীক। তার অধিকাংশ সমর্থকই তরুণ। প্রতিদিন সেখানে থাকা তরুণ খেলোয়াড় ও আমার সহকর্মীদের জন্য অডিটোরিয়ামে আমি তার একটি বড় ছবি ঝুলিয়ে রাখার ব্যবস্থা করেছি।’

আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায়ের ঘোষণা দিলেও পর্তুগালের ইতিহাসে রোনালদোর জায়গা অটুট থাকবে বলে মনে করেন জেসুস। তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ার, রেকর্ড ও অর্জন দেশটির ফুটবল ইতিহাসে তাঁকে চিরস্মরণীয় করে রাখবে।