১১:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬

ওষুধ উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা অর্জন, চিকিৎসা সরঞ্জাম এখনো আমদানিনির্ভর

The gallery was not found!

ওষুধ উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ। দেশের চাহিদার ৯৫ শতাংশের বেশি ওষুধ এখন স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হচ্ছে। তবে চিকিৎসা সরঞ্জামের বাজার এখনো আমদানিনির্ভর। এই খাতে দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে পারলে ৮ থেকে ৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিশাল বাণিজ্য সম্ভাবনা কাজে লাগানো সম্ভব। এ লক্ষ্যে বেসরকারি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে কর ছাড়সহ বিভিন্ন সুবিধা দিচ্ছে সরকার।

প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত ৩০তম মার্কিন বাণিজ্য মেলার (ইউএস ট্রেড শো ২০২৬) দ্বিতীয় দিনে স্বাস্থ্যসেবায় উদ্ভাবন ও বিনিয়োগবিষয়ক এক সেমিনারে এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের ওষুধশিল্প নিজস্ব চাহিদার ৯৫ শতাংশের বেশি পূরণ করতে সক্ষম হয়েছে। একইভাবে চিকিৎসা সরঞ্জাম উৎপাদনেও স্থানীয় শিল্পের সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। বিপুল বাজার থাকা সত্ত্বেও এই খাতের ব্যবসা এখনো আমদানিনির্ভর। সরকার এই পরিস্থিতির পরিবর্তন চায়।

ডা. জিয়াউদ্দিন বলেন, চিকিৎসা সরঞ্জামের স্থানীয় উৎপাদন বাড়াতে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কর ছাড় দেওয়া হচ্ছে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) মাধ্যমে এই খাতকে সম্ভাবনাময় শিল্প হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্যসেবায় বিনিয়োগ ও উদ্ভাবনের গুরুত্ব

আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচ্যাম) এবং ঢাকার মার্কিন দূতাবাস যৌথভাবে তিন দিনব্যাপী এই বাণিজ্য মেলার আয়োজন করেছে। এতে আমেরিকান পণ্য, সেবা ও প্রযুক্তি প্রদর্শনের পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরা হচ্ছে।

মেলার দ্বিতীয় দিনে অ্যামচ্যামের হেলথকেয়ার অ্যান্ড ফার্মা সাব-কমিটি ‘ইমপ্রুভিং পেশেন্ট আউটকামস অ্যাট স্কেল-আপ থ্রু পাবলিক অ্যান্ড প্রাইভেট কোলাবোরেশন’ শীর্ষক সেমিনারের আয়োজন করে।

সেমিনারে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, চিকিৎসা সহজলভ্য করা এবং স্বাস্থ্য অবকাঠামো শক্তিশালী করতে বিনিয়োগ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ও সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।

অধিবেশনটি সঞ্চালনা করেন বেকটন ডিকিনসনের কান্ট্রি বিজনেস লিডার মির্জা সজীব রায়হান।

প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন মেডট্রনিক বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মায়াঙ্ক ত্রিপাঠি, স্কয়ার হাসপাতালের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট সুলতান মিনহাজ উদ্দিন, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. আবদুল ওয়াদুদ চৌধুরী এবং ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. মো. আক্তার হোসেন।

যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনা

মেলার দ্বিতীয় দিনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন ছিল ‘সিলেক্টইউএসএ: পাথওয়েজ ফর আউটবাউন্ড ইনভেস্টমেন্ট’ শীর্ষক সেমিনার। ঢাকার মার্কিন দূতাবাস আয়োজিত এই অধিবেশনে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের যুক্তরাষ্ট্রে সরাসরি বিনিয়োগ, ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়।

সেমিনারে মার্কিন দূতাবাসের কমার্শিয়াল কাউন্সেলর পল ফ্রস্টের সঞ্চালনায় অংশ নেন ট্রান্সকম গ্রুপের গ্রুপ সিইও সিমিন রহমান, ওমেরা পেট্রোলিয়ামের সিইও তানজিম চৌধুরী এবং পিডব্লিউসি বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজিং পার্টনার শামস জামান।

এ ছাড়া ‘সিলেক্টইউএসএ’, মার্কিন বাণিজ্য বিভাগ এবং যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞরা ভার্চুয়ালি আলোচনায় যুক্ত হন।

অধিবেশনে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ পরিবেশ, ব্যবসা সম্প্রসারণের সুযোগ এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্য সরকারি সহায়তা ও প্রণোদনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

বাণিজ্য ও প্রযুক্তি সহযোগিতায় গুরুত্ব

মেলায় অংশগ্রহণকারী আমেরিকান কোম্পানিগুলো তাদের আধুনিক পণ্য, সেবা ও প্রযুক্তি প্রদর্শন করছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় উদ্যোক্তা ও দর্শনার্থীদের সম্ভাব্য ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

গত ৫ নভেম্বর শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী ৩০তম মার্কিন বাণিজ্য মেলা আগামী ৭ নভেম্বর শেষ হবে। শেষ দিনে পারস্পরিক বাণিজ্য এবং তথ্যপ্রযুক্তি ও ডিজিটাল অর্থনীতি নিয়ে দুটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

চিকিৎসা সরঞ্জাম উৎপাদনে দেশীয় বিনিয়োগ বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যবসা সম্প্রসারণের উদ্যোগের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা ও বাণিজ্য খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় খবর

নিউজিল্যান্ডে ৪৩ পাইলট তিমির মৃত্যু, প্রবল ঢেউ ও পাথুরে এলাকায় ব্যাহত উদ্ধারকাজ

Business Times24

ওষুধ উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা অর্জন, চিকিৎসা সরঞ্জাম এখনো আমদানিনির্ভর

Update Time : ১১:২৬:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

ওষুধ উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ। দেশের চাহিদার ৯৫ শতাংশের বেশি ওষুধ এখন স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হচ্ছে। তবে চিকিৎসা সরঞ্জামের বাজার এখনো আমদানিনির্ভর। এই খাতে দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে পারলে ৮ থেকে ৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিশাল বাণিজ্য সম্ভাবনা কাজে লাগানো সম্ভব। এ লক্ষ্যে বেসরকারি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে কর ছাড়সহ বিভিন্ন সুবিধা দিচ্ছে সরকার।

প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত ৩০তম মার্কিন বাণিজ্য মেলার (ইউএস ট্রেড শো ২০২৬) দ্বিতীয় দিনে স্বাস্থ্যসেবায় উদ্ভাবন ও বিনিয়োগবিষয়ক এক সেমিনারে এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের ওষুধশিল্প নিজস্ব চাহিদার ৯৫ শতাংশের বেশি পূরণ করতে সক্ষম হয়েছে। একইভাবে চিকিৎসা সরঞ্জাম উৎপাদনেও স্থানীয় শিল্পের সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। বিপুল বাজার থাকা সত্ত্বেও এই খাতের ব্যবসা এখনো আমদানিনির্ভর। সরকার এই পরিস্থিতির পরিবর্তন চায়।

ডা. জিয়াউদ্দিন বলেন, চিকিৎসা সরঞ্জামের স্থানীয় উৎপাদন বাড়াতে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কর ছাড় দেওয়া হচ্ছে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) মাধ্যমে এই খাতকে সম্ভাবনাময় শিল্প হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্যসেবায় বিনিয়োগ ও উদ্ভাবনের গুরুত্ব

আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচ্যাম) এবং ঢাকার মার্কিন দূতাবাস যৌথভাবে তিন দিনব্যাপী এই বাণিজ্য মেলার আয়োজন করেছে। এতে আমেরিকান পণ্য, সেবা ও প্রযুক্তি প্রদর্শনের পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরা হচ্ছে।

মেলার দ্বিতীয় দিনে অ্যামচ্যামের হেলথকেয়ার অ্যান্ড ফার্মা সাব-কমিটি ‘ইমপ্রুভিং পেশেন্ট আউটকামস অ্যাট স্কেল-আপ থ্রু পাবলিক অ্যান্ড প্রাইভেট কোলাবোরেশন’ শীর্ষক সেমিনারের আয়োজন করে।

সেমিনারে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, চিকিৎসা সহজলভ্য করা এবং স্বাস্থ্য অবকাঠামো শক্তিশালী করতে বিনিয়োগ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ও সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।

অধিবেশনটি সঞ্চালনা করেন বেকটন ডিকিনসনের কান্ট্রি বিজনেস লিডার মির্জা সজীব রায়হান।

প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন মেডট্রনিক বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মায়াঙ্ক ত্রিপাঠি, স্কয়ার হাসপাতালের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট সুলতান মিনহাজ উদ্দিন, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. আবদুল ওয়াদুদ চৌধুরী এবং ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. মো. আক্তার হোসেন।

যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনা

মেলার দ্বিতীয় দিনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন ছিল ‘সিলেক্টইউএসএ: পাথওয়েজ ফর আউটবাউন্ড ইনভেস্টমেন্ট’ শীর্ষক সেমিনার। ঢাকার মার্কিন দূতাবাস আয়োজিত এই অধিবেশনে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের যুক্তরাষ্ট্রে সরাসরি বিনিয়োগ, ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়।

সেমিনারে মার্কিন দূতাবাসের কমার্শিয়াল কাউন্সেলর পল ফ্রস্টের সঞ্চালনায় অংশ নেন ট্রান্সকম গ্রুপের গ্রুপ সিইও সিমিন রহমান, ওমেরা পেট্রোলিয়ামের সিইও তানজিম চৌধুরী এবং পিডব্লিউসি বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজিং পার্টনার শামস জামান।

এ ছাড়া ‘সিলেক্টইউএসএ’, মার্কিন বাণিজ্য বিভাগ এবং যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞরা ভার্চুয়ালি আলোচনায় যুক্ত হন।

অধিবেশনে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ পরিবেশ, ব্যবসা সম্প্রসারণের সুযোগ এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্য সরকারি সহায়তা ও প্রণোদনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

বাণিজ্য ও প্রযুক্তি সহযোগিতায় গুরুত্ব

মেলায় অংশগ্রহণকারী আমেরিকান কোম্পানিগুলো তাদের আধুনিক পণ্য, সেবা ও প্রযুক্তি প্রদর্শন করছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় উদ্যোক্তা ও দর্শনার্থীদের সম্ভাব্য ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

গত ৫ নভেম্বর শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী ৩০তম মার্কিন বাণিজ্য মেলা আগামী ৭ নভেম্বর শেষ হবে। শেষ দিনে পারস্পরিক বাণিজ্য এবং তথ্যপ্রযুক্তি ও ডিজিটাল অর্থনীতি নিয়ে দুটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

চিকিৎসা সরঞ্জাম উৎপাদনে দেশীয় বিনিয়োগ বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যবসা সম্প্রসারণের উদ্যোগের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা ও বাণিজ্য খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।