১০:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬

ইরান সংকটের সমাধানে ট্রাম্পের ফোন কাতারের আমিরকে, কী আলোচনা হলো?

The gallery was not found!

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনে কাতারের মধ্যস্থতা • পূর্ণাঙ্গ চুক্তির লক্ষ্যে দুই দেশের যোগাযোগ • পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটনের কাছে তেহরানের প্রস্তাব

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের অবসান ও একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তিতে পৌঁছানোর প্রচেষ্টা নিয়ে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতার প্রেক্ষাপটে দুই নেতার এই আলোচনা হয়েছে। আঞ্চলিক সংকট নিরসনে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাতারের ভূমিকা এবং চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টাই ছিল আলোচনার মূল বিষয়।

শুক্রবার কাতার সরকারের বিবৃতির বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এর জবাবে ইরান ওই অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে মার্কিন সেনাঘাঁটি ও স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবসহ কয়েকটি দেশ এসব হামলার শিকার হয়। এতে গোটা অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।

এ পরিস্থিতিতে সংঘাতের অবসান ও একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিয়েছে কাতার। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে যোগাযোগ ও সমঝোতার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে দেশটি।

ট্রাম্প মূলত কাতারের এই মধ্যস্থতার উদ্যোগ নিয়েই আমিরের সঙ্গে কথা বলেছেন। তবে ফোনালাপে নির্দিষ্ট কী কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

কাতারের মাধ্যমে ইরানের প্রস্তাব

এদিকে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে তেহরান কাতারের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে। বৃহস্পতিবার রয়টার্সকে দেওয়া বক্তব্যে এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা এ তথ্য জানান।

ওই কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করছে। তবে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা শুরু হওয়ার বিষয়টি নির্ভর করছে ইরানের সাতটি দাবি ওয়াশিংটন আগে পূরণ করছে কি না, তার ওপর।

ইরানের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে দেশটির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দ করা সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ এবং যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, প্রাথমিক আলোচনায় ইরানের পরমাণু কর্মসূচির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

সমঝোতার পথে কূটনৈতিক তৎপরতা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে বিভিন্ন দেশের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে কাতারের মধ্যস্থতা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রস্তাব বিনিময় সংকট নিরসনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে সামনে এনেছে।

তবে দুই দেশের মধ্যে আলোচনার অগ্রগতি নির্ভর করছে পরস্পরের দাবির বিষয়ে সমঝোতা এবং সম্ভাব্য চুক্তির শর্ত নিয়ে ঐকমত্যের ওপর।

এখন পর্যন্ত কাতারের আমির ও ট্রাম্পের ফোনালাপের বিস্তারিত প্রকাশ না হওয়ায় আলোচনার পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়নি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় খবর

হরমুজে চার দেশের জাহাজে ইরানের ছাড়, তেলের পথ খুলে কূটনৈতিক হিসাব

Business Times24

ইরান সংকটের সমাধানে ট্রাম্পের ফোন কাতারের আমিরকে, কী আলোচনা হলো?

Update Time : ১০:০৭:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনে কাতারের মধ্যস্থতা • পূর্ণাঙ্গ চুক্তির লক্ষ্যে দুই দেশের যোগাযোগ • পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটনের কাছে তেহরানের প্রস্তাব

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের অবসান ও একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তিতে পৌঁছানোর প্রচেষ্টা নিয়ে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতার প্রেক্ষাপটে দুই নেতার এই আলোচনা হয়েছে। আঞ্চলিক সংকট নিরসনে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাতারের ভূমিকা এবং চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টাই ছিল আলোচনার মূল বিষয়।

শুক্রবার কাতার সরকারের বিবৃতির বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এর জবাবে ইরান ওই অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে মার্কিন সেনাঘাঁটি ও স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবসহ কয়েকটি দেশ এসব হামলার শিকার হয়। এতে গোটা অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।

এ পরিস্থিতিতে সংঘাতের অবসান ও একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিয়েছে কাতার। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে যোগাযোগ ও সমঝোতার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে দেশটি।

ট্রাম্প মূলত কাতারের এই মধ্যস্থতার উদ্যোগ নিয়েই আমিরের সঙ্গে কথা বলেছেন। তবে ফোনালাপে নির্দিষ্ট কী কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

কাতারের মাধ্যমে ইরানের প্রস্তাব

এদিকে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে তেহরান কাতারের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে। বৃহস্পতিবার রয়টার্সকে দেওয়া বক্তব্যে এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা এ তথ্য জানান।

ওই কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করছে। তবে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা শুরু হওয়ার বিষয়টি নির্ভর করছে ইরানের সাতটি দাবি ওয়াশিংটন আগে পূরণ করছে কি না, তার ওপর।

ইরানের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে দেশটির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দ করা সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ এবং যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, প্রাথমিক আলোচনায় ইরানের পরমাণু কর্মসূচির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

সমঝোতার পথে কূটনৈতিক তৎপরতা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে বিভিন্ন দেশের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে কাতারের মধ্যস্থতা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রস্তাব বিনিময় সংকট নিরসনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে সামনে এনেছে।

তবে দুই দেশের মধ্যে আলোচনার অগ্রগতি নির্ভর করছে পরস্পরের দাবির বিষয়ে সমঝোতা এবং সম্ভাব্য চুক্তির শর্ত নিয়ে ঐকমত্যের ওপর।

এখন পর্যন্ত কাতারের আমির ও ট্রাম্পের ফোনালাপের বিস্তারিত প্রকাশ না হওয়ায় আলোচনার পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়নি।