রিয়াল মাদ্রিদের আগ্রহ ছিল প্রবল। আলোচনাও এগিয়েছিল বেশ খানিকটা। তবু শেষ পর্যন্ত স্পেনের আরেক জায়ান্ট বার্সেলোনাকেই বেছে নেন বিশ্বকাপজয়ী স্প্যানিশ মিডফিল্ডার রদ্রি। কেন রিয়ালের হাতছানি উপেক্ষা করে ক্যাম্প ন্যুতে পা রাখলেন, এবার সেই কারণই জানালেন ৩০ বছর বয়সী এই তারকা।
সবশেষ গ্রীষ্মকালীন দলবদলে ম্যানচেস্টার সিটি ছেড়ে বার্সেলোনায় যোগ দেন রদ্রি। তাকে দলে পেতে কাতালান ক্লাবটির খরচ হয়েছে ৬ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড। চার বছরের চুক্তিতে আগামী ২০৩০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বার্সেলোনায় থাকার কথা তার।
তবে রদ্রিকে পেতে রিয়াল মাদ্রিদের আগ্রহও ছিল স্পষ্ট। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম কোপকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রদ্রি জানান, দলবদলের পুরো প্রক্রিয়ায় রিয়ালের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা হয়েছে তার।
রিয়ালের আগ্রহের কথা বলতে গিয়ে রদ্রি বলেন, ‘রিয়াল মাদ্রিদ শুরু থেকেই আগ্রহ দেখিয়েছিল এবং তাদের আচরণ ছিল অনুকরণীয়। তারা যে একজন খেলোয়াড়কে সত্যিই পেতে চায়, সেটি তাদের প্রস্তাবেই স্পষ্ট ছিল। তাদের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা আমাকে দলে টানার বিষয়ে নিজেদের প্রবল আগ্রহের কথা জানিয়েছিল।’
রিয়াল তাকে পেতে শতভাগ চেষ্টা করেছিল কি না—এমন প্রশ্নেও নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন রদ্রি। তার ভাষায়, ‘শতভাগ ঝাঁপিয়ে পড়া বলতে কী বোঝায়, তা আমি ঠিক জানি না। তবে এটা স্পষ্ট যে, তারা আমাকে পেতে বেশ আগ্রহী ছিল।’
রিয়ালের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের কথা স্বীকার করলেও ক্লাবটির সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের সঙ্গে তার কথা হয়েছিল কি না, তা জানাননি রদ্রি।
তবে রিয়ালের এমন আগ্রহের পরও তার সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে মূলত ফুটবলীয় চিন্তা। বার্সেলোনাকে বেছে নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে রদ্রি বলেন, ‘আমার সিদ্ধান্তটি মূলত ফুটবলীয় কারণে নেওয়া। কোথায় আমি সবচেয়ে বেশি উন্নতি করতে পারব, দলের জন্য সবচেয়ে বেশি অবদান রাখতে পারব এবং একদল তরুণ খেলোয়াড়কে নেতৃত্ব দিতে পারব—এসব বিষয় বিবেচনা করেছি।’
বার্সেলোনার ফুটবল দর্শনের সঙ্গেও নিজের ভাবনার মিল খুঁজে পেয়েছেন এই স্প্যানিশ তারকা। রদ্রির কথায়, ‘আমি যেভাবে ফুটবলকে বুঝি, সেটির সঙ্গে বার্সেলোনার ধরন মিলে যায়। এই দলবদলে কোনো আবেগ বা টাকার বিষয় জড়িত ছিল না।’
বার্সায় যোগ দেওয়ার পর মাঠেও নিজের সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা দেখাচ্ছেন রদ্রি। ২০২৬-২৭ মৌসুমে এখন পর্যন্ত দারুণ ছন্দে আছে কাতালান ক্লাবটি। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে আট ম্যাচ খেলে আটটিতেই জয় পেয়েছে তারা। এ সময়ে প্রতিপক্ষের জালে ৩৬ গোল করেছে বার্সা।
মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ ও আক্রমণ গড়ার ক্ষেত্রে রদ্রির উপস্থিতিও হয়ে উঠেছে দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। রিয়ালের আগ্রহকে পেছনে ফেলে বার্সেলোনাকে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত যে শুধুই অর্থ বা আবেগের ছিল না, মাঠের পারফরম্যান্সেও তারই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক 


























