কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ২৮ কিশোরকে ঘিরে কুমিল্লার দাউদকান্দি মডেল থানায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। পুলিশের দাবি, আটক কিশোরদের একসঙ্গে রাখায় থানার একটি কক্ষে কিছুটা ঝামেলা হয়। তবে কোনো দরজা বা আসবাব ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেনি। অন্যদিকে স্থানীয় এক বাসিন্দার দাবি, কয়েকজন কিশোর চেয়ার ও দরজা ভেঙে থানার কক্ষ থেকে বের হয়ে যায়।
বুধবার সন্ধ্যার পর দাউদকান্দি উপজেলার বিভিন্ন আড্ডাস্থলে অভিযান চালায় পুলিশ। অপ্রয়োজনে ঘোরাফেরা ও বিভিন্ন স্থানে বসে আড্ডা দেওয়ার কারণে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য সন্দেহে ২৮ জনকে আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, আটক কিশোরদের থানাহাজতের একটি পরিত্যক্ত কক্ষে রাখা হয়েছিল। একসঙ্গে ২৮ জন থাকায় সেখানে কিছুটা বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। পরে রাতে অভিভাবকদের ডেকে এনে তাঁদের জিম্মায় কিশোরদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
দাউদকান্দি মডেল থানার উপপরিদর্শক রেজুয়ানুল হক বলেন, থানার কোনো কক্ষের দরজা বা আসবাব ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেনি। তাঁর ভাষ্য, আটক কিশোরদের অভিভাবকদের ডেকে এনে তাঁদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
তবে স্থানীয় এক বাসিন্দার ভাষ্য, থানার একটি কক্ষে আটকে রাখা কিশোরদের কয়েকজন চেয়ার ও দরজা ভাঙচুর করে বের হয়ে যায়। পরে তাদের একটি অংশ থানার সামনে জড়ো হয়ে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকে।
এ সময় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম হ্যান্ডমাইকে বক্তব্য দিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন বলে জানা গেছে। পরে কয়েকজন কিশোরকে তাদের অভিভাবকেরা ধরে আবার থানায় নিয়ে যান।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক অভিভাবক বলেন, আটক কিশোরদের অধিকাংশের বিরুদ্ধে পুলিশের অপরাধসংক্রান্ত কোনো রেকর্ড নেই। তাঁদের দাবি, কিশোরেরা সহপাঠীদের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই আড্ডা দিচ্ছিল।
আটকের খবর পেয়ে কিশোরদের অভিভাবক ও স্বজনেরা থানার সামনে জড়ো হলে সেখানে হট্টগোল ও উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে আড্ডাস্থলে না বসার মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় আটক সবাইকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এদিকে থানার ভেতরের একটি কক্ষের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে একটি প্লাস্টিকের চেয়ার উল্টে পড়ে থাকতে এবং কক্ষের দরজা ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় দেখা যায়। তবে পুলিশ বলছে, এসব ভাঙচুরের সঙ্গে আটকদের কোনো ঘটনার প্রমাণ নেই।
ওসি মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলামের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল কেটে দেন।
দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন, থানায় বড় কোনো ঘটনা ঘটেনি। তাঁর ভাষায়, ‘এটি একটি ভুল–বোঝাবুঝিমাত্র।’

নিজস্ব প্রতিবেদক 
























