১২:৫৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ট্রাম্পের মিডিয়া নিষেধাজ্ঞায় আদালতের স্থগিতাদেশ, হোয়াইট হাউসে ফিরছে ৩ সংবাদমাধ্যম

The gallery was not found!

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের বিরুদ্ধে আদালতের নির্দেশ এলো হোয়াইট হাউসে সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার নিয়ে চলমান বিরোধে। সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোর সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশ নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত স্থগিত করে তাদের প্রেস পাস অবিলম্বে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ফেডারেল বিচারক টিম কেলি।

বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের ডিস্ট্রিক্ট জজ টিম কেলি এ আদেশ দেন। তিনি মনে করেন, তিন সংবাদমাধ্যমের ওপর আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা সাংবিধানিকভাবে টেকসই নয় এবং সাংবাদিকদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার সুযোগ না দিয়েই তাদের প্রবেশাধিকার বাতিল করা হয়েছিল।

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোর সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসের প্রেস পাস দ্রুত পুনর্বহাল করতে হবে। প্রাথমিকভাবে এই স্থগিতাদেশ ১৪ দিনের জন্য কার্যকর থাকবে।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর ওই তিন সংবাদমাধ্যমের হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার বাতিল করে ট্রাম্প প্রশাসন। এরপর ২১ সেপ্টেম্বর সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকো আদালতে মামলা করে। তাদের অভিযোগ, এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে থাকা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অধিকার লঙ্ঘন করেছে।

মামলার শুনানিতে সংবাদমাধ্যমগুলোর আইনজীবীরা বলেন, কোনো আগাম নোটিশ বা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নিজেদের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ না দিয়েই সাংবাদিকদের প্রেস পাস বাতিল করা হয়েছে।

বুধবারের শুনানিতে বিচারক কেলি আগের কয়েকটি আদালতের রায়ের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, হোয়াইট হাউসের সাংবাদিকদের প্রেস পাস বাতিলের আগে তাদের নোটিশ দেওয়া এবং সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বক্তব্য জানানোর সুযোগ থাকা প্রয়োজন।

ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবশ্য নিষেধাজ্ঞার পক্ষে জাতীয় নিরাপত্তার যুক্তি তুলে ধরা হয়। বিচারক সেই যুক্তির পক্ষে পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ পাননি। আদালতের ভাষ্য অনুযায়ী, সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রেস পাস বাতিল করলে জাতীয় নিরাপত্তা সুরক্ষিত হবে—এমন প্রমাণ যেমন নেই, তেমনি তাদের প্রবেশাধিকার ফিরিয়ে দিলে জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে—এমন প্রমাণও নেই।

ট্রাম্প এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই তিন সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে সমালোচনামূলক মন্তব্য করেছিলেন এবং তাদের প্রতিবেদনকে ‘ফিকশন’ ও ‘মিথ্যা’ বলে আখ্যায়িত করেছিলেন। তাঁর প্রশাসনের আইনজীবীরা আদালতে যুক্তি দেন, হোয়াইট হাউসে সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার কোনো অধিকার নয়, বরং বিশেষ সুবিধা।

অন্যদিকে, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন ও একাধিক সংবাদমাধ্যম তিন প্রতিষ্ঠানের পক্ষে আদালতে নথি জমা দেয়। তাদের বক্তব্য, কোনো সংবাদমাধ্যমের সম্পাদকীয় অবস্থান বা সরকারের সমালোচনামূলক প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার কেড়ে নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের সাংবিধানিক ও আইনি নজিরের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

আদালতের এই আদেশের ফলে আপাতত হোয়াইট হাউসে সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোর সাংবাদিকদের কাজ করার সুযোগ ফিরে এলো। তবে মূল মামলার নিষ্পত্তি এখনো হয়নি; পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় এ বিরোধের চূড়ান্ত সমাধান হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় খবর

জলবায়ু ঝুঁকির দেশগুলোর জন্য সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

Business Times24

ট্রাম্পের মিডিয়া নিষেধাজ্ঞায় আদালতের স্থগিতাদেশ, হোয়াইট হাউসে ফিরছে ৩ সংবাদমাধ্যম

Update Time : ০৩:১৫:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের বিরুদ্ধে আদালতের নির্দেশ এলো হোয়াইট হাউসে সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার নিয়ে চলমান বিরোধে। সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোর সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশ নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত স্থগিত করে তাদের প্রেস পাস অবিলম্বে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ফেডারেল বিচারক টিম কেলি।

বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের ডিস্ট্রিক্ট জজ টিম কেলি এ আদেশ দেন। তিনি মনে করেন, তিন সংবাদমাধ্যমের ওপর আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা সাংবিধানিকভাবে টেকসই নয় এবং সাংবাদিকদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার সুযোগ না দিয়েই তাদের প্রবেশাধিকার বাতিল করা হয়েছিল।

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোর সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসের প্রেস পাস দ্রুত পুনর্বহাল করতে হবে। প্রাথমিকভাবে এই স্থগিতাদেশ ১৪ দিনের জন্য কার্যকর থাকবে।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর ওই তিন সংবাদমাধ্যমের হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার বাতিল করে ট্রাম্প প্রশাসন। এরপর ২১ সেপ্টেম্বর সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকো আদালতে মামলা করে। তাদের অভিযোগ, এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে থাকা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অধিকার লঙ্ঘন করেছে।

মামলার শুনানিতে সংবাদমাধ্যমগুলোর আইনজীবীরা বলেন, কোনো আগাম নোটিশ বা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নিজেদের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ না দিয়েই সাংবাদিকদের প্রেস পাস বাতিল করা হয়েছে।

বুধবারের শুনানিতে বিচারক কেলি আগের কয়েকটি আদালতের রায়ের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, হোয়াইট হাউসের সাংবাদিকদের প্রেস পাস বাতিলের আগে তাদের নোটিশ দেওয়া এবং সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বক্তব্য জানানোর সুযোগ থাকা প্রয়োজন।

ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবশ্য নিষেধাজ্ঞার পক্ষে জাতীয় নিরাপত্তার যুক্তি তুলে ধরা হয়। বিচারক সেই যুক্তির পক্ষে পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ পাননি। আদালতের ভাষ্য অনুযায়ী, সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রেস পাস বাতিল করলে জাতীয় নিরাপত্তা সুরক্ষিত হবে—এমন প্রমাণ যেমন নেই, তেমনি তাদের প্রবেশাধিকার ফিরিয়ে দিলে জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে—এমন প্রমাণও নেই।

ট্রাম্প এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই তিন সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে সমালোচনামূলক মন্তব্য করেছিলেন এবং তাদের প্রতিবেদনকে ‘ফিকশন’ ও ‘মিথ্যা’ বলে আখ্যায়িত করেছিলেন। তাঁর প্রশাসনের আইনজীবীরা আদালতে যুক্তি দেন, হোয়াইট হাউসে সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার কোনো অধিকার নয়, বরং বিশেষ সুবিধা।

অন্যদিকে, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন ও একাধিক সংবাদমাধ্যম তিন প্রতিষ্ঠানের পক্ষে আদালতে নথি জমা দেয়। তাদের বক্তব্য, কোনো সংবাদমাধ্যমের সম্পাদকীয় অবস্থান বা সরকারের সমালোচনামূলক প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার কেড়ে নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের সাংবিধানিক ও আইনি নজিরের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

আদালতের এই আদেশের ফলে আপাতত হোয়াইট হাউসে সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোর সাংবাদিকদের কাজ করার সুযোগ ফিরে এলো। তবে মূল মামলার নিষ্পত্তি এখনো হয়নি; পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় এ বিরোধের চূড়ান্ত সমাধান হবে।