১১:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশেও বাড়ছে ডিম্বাণু সংরক্ষণ!

  • নিউজ ডেস্ক
  • Update Time : ১২:১৭:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • 47
The gallery was not found!

সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত অনেকেই পিছিয়ে দেন পড়াশোনা, ক্যারিয়ার কিংবা উপযুক্ত সঙ্গীর অপেক্ষায়। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে নারীর ডিম্বাণুর সংখ্যা ও গুণগত মান কমতে থাকে। ভবিষ্যতে সন্তান নেওয়ার সম্ভাবনা ধরে রাখতে তাই অনেক নারী বেছে নিচ্ছেন এগ ফ্রিজিং—অর্থাৎ ডিম্বাণু সংরক্ষণ।

এগ ফ্রিজিং বা ওসাইট ক্রায়োপ্রিজারভেশন হলো নিষিক্ত না হওয়া ডিম্বাণু সংগ্রহ করে অত্যন্ত কম তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা। পরে প্রয়োজন হলে এসব ডিম্বাণু গলিয়ে শুক্রাণুর মাধ্যমে নিষিক্ত করে তৈরি করা ভ্রূণ জরায়ুতে স্থাপন করা যায়। খবর বিবিসির।

কেন ডিম্বাণু জমিয়ে রাখছেন নারীরা?

মূলত ভবিষ্যতে সন্তান নেওয়ার সুযোগ ধরে রাখতেই এ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। বয়সের সঙ্গে প্রজননক্ষমতা কমে যাওয়ার পাশাপাশি ক্যান্সারের চিকিৎসাও অনেক সময় ডিম্বাশয়ের কার্যক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে পারে। তাই কেমোথেরাপি বা রেডিওথেরাপির আগে কিছু নারী ভবিষ্যতের জন্য ডিম্বাণু সংরক্ষণ করেন।

চিকিৎসাজনিত কারণ ছাড়াও পড়াশোনা, ক্যারিয়ার বা ব্যক্তিগত কারণে সন্তান নেওয়া পিছিয়ে দিতে চান—এমন নারীদের মধ্যেও ‘সোশ্যাল এগ ফ্রিজিং’ নিয়ে আগ্রহ তৈরি হচ্ছে।

কীভাবে হয়?

প্রথমে পরীক্ষা করে ডিম্বাশয়ের অবস্থা ও ডিম্বাণুর সংখ্যা সম্পর্কে ধারণা নেওয়া হয়। এরপর হরমোনের ওষুধ দিয়ে একাধিক ডিম্বাণু পরিপক্ব করা হয়। সাধারণত অ্যানেসথেশিয়া বা সেডেশনের মাধ্যমে আল্ট্রাসাউন্ডের সাহায্যে ডিম্বাশয় থেকে ডিম্বাণু সংগ্রহ করা হয়।

সংগ্রহের পর ‘ভিট্রিফিকেশন’ পদ্ধতিতে দ্রুত হিমায়িত করে তরল নাইট্রোজেনে প্রায় মাইনাস ১৯৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা হয়।

বাংলাদেশে আছে, খরচও কম নয়

বাংলাদেশে কয়েক বছর ধরে এগ ফ্রিজিংয়ের সেবা পাওয়া যাচ্ছে। তবে চিকিৎসাজনিত কারণ ছাড়া ভবিষ্যতের জন্য ডিম্বাণু সংরক্ষণের প্রবণতা এখনো খুব বেশি নয়। দেশে ক্যান্সার চিকিৎসার আগে ডিম্বাণু সংরক্ষণের ঘটনাই বেশি।

একটি প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, ডিম্বাণু সংগ্রহ পর্যন্ত খরচ প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার থেকে ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা। এরপর ফ্রিজিংয়ের জন্য এককালীন প্রায় ৫৫ হাজার টাকা এবং সংরক্ষণের জন্য বছরে প্রায় ২০ হাজার টাকা লাগতে পারে। প্রতিষ্ঠানভেদে খরচ কম-বেশি হয়।

ফ্রিজ করলেই কি নিশ্চিত মা হওয়া যায়?

না। ডিম্বাণু সংরক্ষণ ভবিষ্যৎ গর্ভধারণের গ্যারান্টি নয়। সাফল্য নির্ভর করে ডিম্বাণু সংগ্রহের সময় বয়স, সংরক্ষিত ডিম্বাণুর সংখ্যা ও গুণগত মানসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর।

৩৫ বছরের কম বয়সে ১২টি ডিম্বাণু সংরক্ষণ করলে পরবর্তীতে গর্ভধারণের সম্ভাবনা প্রায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ এবং ২০টি ডিম্বাণু সংরক্ষণ করলে তা প্রায় ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে—তবে এগুলো কোনো ব্যক্তির জন্য নিশ্চিত ফল নয়।

ঝুঁকিও আছে

এগ ফ্রিজিং সাধারণত নিরাপদ হলেও পুরো প্রক্রিয়ায় কিছু ঝুঁকি রয়েছে। হরমোনের ওষুধে ওভারিয়ান হাইপারস্টিমুলেশন সিনড্রোম হতে পারে। ডিম্বাণু সংগ্রহের সময় সংক্রমণ, রক্তপাত বা আশপাশের অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সামান্য ঝুঁকিও থাকে।

অর্থাৎ, ডিম্বাণু হিমায়িত করে সময়কে কিছুটা ‘থামিয়ে’ রাখা সম্ভব হলেও ভবিষ্যতের মাতৃত্বকে নিশ্চিত করে রাখা যায় না। তাই এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ও বাস্তবসম্মত প্রত্যাশা থাকা জরুরি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় খবর

বাংলাদেশ ব্যাংক ও মার্কেন্টাইল ব্যাংকের মধ্যে ২ হাজার কোটি টাকার চুক্তি স্বাক্ষর

Business Times24

বাংলাদেশেও বাড়ছে ডিম্বাণু সংরক্ষণ!

Update Time : ১২:১৭:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত অনেকেই পিছিয়ে দেন পড়াশোনা, ক্যারিয়ার কিংবা উপযুক্ত সঙ্গীর অপেক্ষায়। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে নারীর ডিম্বাণুর সংখ্যা ও গুণগত মান কমতে থাকে। ভবিষ্যতে সন্তান নেওয়ার সম্ভাবনা ধরে রাখতে তাই অনেক নারী বেছে নিচ্ছেন এগ ফ্রিজিং—অর্থাৎ ডিম্বাণু সংরক্ষণ।

এগ ফ্রিজিং বা ওসাইট ক্রায়োপ্রিজারভেশন হলো নিষিক্ত না হওয়া ডিম্বাণু সংগ্রহ করে অত্যন্ত কম তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা। পরে প্রয়োজন হলে এসব ডিম্বাণু গলিয়ে শুক্রাণুর মাধ্যমে নিষিক্ত করে তৈরি করা ভ্রূণ জরায়ুতে স্থাপন করা যায়। খবর বিবিসির।

কেন ডিম্বাণু জমিয়ে রাখছেন নারীরা?

মূলত ভবিষ্যতে সন্তান নেওয়ার সুযোগ ধরে রাখতেই এ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। বয়সের সঙ্গে প্রজননক্ষমতা কমে যাওয়ার পাশাপাশি ক্যান্সারের চিকিৎসাও অনেক সময় ডিম্বাশয়ের কার্যক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে পারে। তাই কেমোথেরাপি বা রেডিওথেরাপির আগে কিছু নারী ভবিষ্যতের জন্য ডিম্বাণু সংরক্ষণ করেন।

চিকিৎসাজনিত কারণ ছাড়াও পড়াশোনা, ক্যারিয়ার বা ব্যক্তিগত কারণে সন্তান নেওয়া পিছিয়ে দিতে চান—এমন নারীদের মধ্যেও ‘সোশ্যাল এগ ফ্রিজিং’ নিয়ে আগ্রহ তৈরি হচ্ছে।

কীভাবে হয়?

প্রথমে পরীক্ষা করে ডিম্বাশয়ের অবস্থা ও ডিম্বাণুর সংখ্যা সম্পর্কে ধারণা নেওয়া হয়। এরপর হরমোনের ওষুধ দিয়ে একাধিক ডিম্বাণু পরিপক্ব করা হয়। সাধারণত অ্যানেসথেশিয়া বা সেডেশনের মাধ্যমে আল্ট্রাসাউন্ডের সাহায্যে ডিম্বাশয় থেকে ডিম্বাণু সংগ্রহ করা হয়।

সংগ্রহের পর ‘ভিট্রিফিকেশন’ পদ্ধতিতে দ্রুত হিমায়িত করে তরল নাইট্রোজেনে প্রায় মাইনাস ১৯৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা হয়।

বাংলাদেশে আছে, খরচও কম নয়

বাংলাদেশে কয়েক বছর ধরে এগ ফ্রিজিংয়ের সেবা পাওয়া যাচ্ছে। তবে চিকিৎসাজনিত কারণ ছাড়া ভবিষ্যতের জন্য ডিম্বাণু সংরক্ষণের প্রবণতা এখনো খুব বেশি নয়। দেশে ক্যান্সার চিকিৎসার আগে ডিম্বাণু সংরক্ষণের ঘটনাই বেশি।

একটি প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, ডিম্বাণু সংগ্রহ পর্যন্ত খরচ প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার থেকে ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা। এরপর ফ্রিজিংয়ের জন্য এককালীন প্রায় ৫৫ হাজার টাকা এবং সংরক্ষণের জন্য বছরে প্রায় ২০ হাজার টাকা লাগতে পারে। প্রতিষ্ঠানভেদে খরচ কম-বেশি হয়।

ফ্রিজ করলেই কি নিশ্চিত মা হওয়া যায়?

না। ডিম্বাণু সংরক্ষণ ভবিষ্যৎ গর্ভধারণের গ্যারান্টি নয়। সাফল্য নির্ভর করে ডিম্বাণু সংগ্রহের সময় বয়স, সংরক্ষিত ডিম্বাণুর সংখ্যা ও গুণগত মানসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর।

৩৫ বছরের কম বয়সে ১২টি ডিম্বাণু সংরক্ষণ করলে পরবর্তীতে গর্ভধারণের সম্ভাবনা প্রায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ এবং ২০টি ডিম্বাণু সংরক্ষণ করলে তা প্রায় ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে—তবে এগুলো কোনো ব্যক্তির জন্য নিশ্চিত ফল নয়।

ঝুঁকিও আছে

এগ ফ্রিজিং সাধারণত নিরাপদ হলেও পুরো প্রক্রিয়ায় কিছু ঝুঁকি রয়েছে। হরমোনের ওষুধে ওভারিয়ান হাইপারস্টিমুলেশন সিনড্রোম হতে পারে। ডিম্বাণু সংগ্রহের সময় সংক্রমণ, রক্তপাত বা আশপাশের অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সামান্য ঝুঁকিও থাকে।

অর্থাৎ, ডিম্বাণু হিমায়িত করে সময়কে কিছুটা ‘থামিয়ে’ রাখা সম্ভব হলেও ভবিষ্যতের মাতৃত্বকে নিশ্চিত করে রাখা যায় না। তাই এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ও বাস্তবসম্মত প্রত্যাশা থাকা জরুরি।