০২:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ডারউইনে ইতিহাস গড়ার দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ: অজিদের ম্যাচ বাঁচানো কতটা অসম্ভব?

The gallery was not found!

ডারউইন টেস্টে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকে একদম ব্যাকফুটে ঠেলে দিয়েছে বাংলাদেশ। ম্যাচের তৃতীয় দিনেই নিজেদের প্রথম ইনিংসে ২২৮ রানের বিশাল লিড নিয়ে ম্যাচ পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে এনেছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দলটির সামনে এখন কেবলই লজ্জা এড়ানোর পথ। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে—এখান থেকে কি ম্যাচ বাঁচানো আদৌ সম্ভব অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে?

অস্ট্রেলিয়ার সামনে ইতিহাসের কঠিনতম পাহাড়

ইতিহাস ও পরিসংখ্যান বলছে, অজিদের জন্য এই ম্যাচ জেতা প্রায় অসম্ভব এক মিশন:

ঘরের মাঠে রেকর্ডের টানাপোড়েন: নিজেদের মাটিতে অস্ট্রেলিয়া কখনোই প্রথম ইনিংসে ২০৬ রানের বেশি পিছিয়ে থেকে জিততে পারেনি (২০১০ সালে সিডনিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে ২০৬ রানের ঘাটতি কাটিয়ে জয়ই তাদের রেকর্ড)। ডারউইনে এবার তাদের ঘাটতি ২২৮ রানের।
বিশাল লিডের পরিসংখ্যান: টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে ২০০ বা তার বেশি রানের লিড নেওয়া দল ৮০.৬% ক্ষেত্রে জয়লাভ করেছে। বিপরীতভাবে, ২০০+ রানে পিছিয়ে পড়ার পর অজিরা ইতিহাসের ৮২টি ম্যাচের মধ্যে কেবল ৩টিতে (৩.৬৫%) জিততে পেরেছে।

সাবেক অজি কিংবদন্তিরা যা বলছেন

ম্যাথু হেইডেন (সাবেক অজি ওপেনার):

“২২৮ রানে পিছিয়ে পড়ার পর ব্যাটিং ইউনিটের মানসিকতা পুরোপুরি বদলে যায়। এখন জেতার কথা ভাবার সুযোগ নেই, কেবল টিকে থাকার লড়াই করতে হবে। অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের জন্য এটা সত্যিই এক বড় সংকট।”*

ডেভিড ওয়ার্নার (সাবেক অজি ওপেনার):

অস্ট্রেলিয়াকে হার এড়াতে অন্তত ১২৫ থেকে ১৫০ ওভার ব্যাট করতে হবে এবং স্কোরবোর্ডে ৫০০ থেকে ৫৫০ রান তুলতে হবে। ড্র-ই একমাত্র পথ হতে পারে।”*

ওয়ার্নার আরও জানান, বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি ছিলেন স্টিভ স্মিথ ও ট্রাভিস হেড।

ম্যাচের বর্তমান পরিস্থিতি**

অস্ট্রেলিয়া নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে শুরুতেই বড় ধাক্কা খেয়েছে। হাসান মাহমুদের দুর্দান্ত পেস আক্রমণে ইতোমধ্যেই সাজঘরে ফিরেছেন ওপেনার জেক ওয়েদারাল্ড এবং বিপজ্জনক ব্যাটসম্যান ট্রাভিস হেড।

প্রতিবেদন লেখার সময়:

অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংস: ৩৮/২ (১১ ওভার)।
বাংলাদেশের লিড: এখনো ১৯০ রানে এগিয়ে।
ক্রিজে আছেন: স্টিভ স্মিথ ও মারনাস লাবুশেন।

২০০৬ সালের ফতুল্লা টেস্টে ১৫৮ রানের লিড পেয়েও শেষ পর্যন্ত হেরে যাওয়ার তিতা অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের আছে। তবে ডারউইনে এবার সমীকরণ ভিন্ন এবং নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি টাইগারদের হাতে। শান্ত-হাসানরা বাকি কাজটুকু ঠিকঠাক সম্পন্ন করতে পারলে টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসের অন্যতম সেরা চমক ও অবিশ্বাস্য জয় নিয়ে মাঠ ছাড়বে বাংলাদেশ।

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় খবর

জ্বালানির দাম বাড়লেও রাজধানীতে বাসভাড়া অপরিবর্তিত, মালিকদের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় শ্রমিকরা

Business Times24

ডারউইনে ইতিহাস গড়ার দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ: অজিদের ম্যাচ বাঁচানো কতটা অসম্ভব?

Update Time : ১১:১১:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

ডারউইন টেস্টে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকে একদম ব্যাকফুটে ঠেলে দিয়েছে বাংলাদেশ। ম্যাচের তৃতীয় দিনেই নিজেদের প্রথম ইনিংসে ২২৮ রানের বিশাল লিড নিয়ে ম্যাচ পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে এনেছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দলটির সামনে এখন কেবলই লজ্জা এড়ানোর পথ। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে—এখান থেকে কি ম্যাচ বাঁচানো আদৌ সম্ভব অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে?

অস্ট্রেলিয়ার সামনে ইতিহাসের কঠিনতম পাহাড়

ইতিহাস ও পরিসংখ্যান বলছে, অজিদের জন্য এই ম্যাচ জেতা প্রায় অসম্ভব এক মিশন:

ঘরের মাঠে রেকর্ডের টানাপোড়েন: নিজেদের মাটিতে অস্ট্রেলিয়া কখনোই প্রথম ইনিংসে ২০৬ রানের বেশি পিছিয়ে থেকে জিততে পারেনি (২০১০ সালে সিডনিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে ২০৬ রানের ঘাটতি কাটিয়ে জয়ই তাদের রেকর্ড)। ডারউইনে এবার তাদের ঘাটতি ২২৮ রানের।
বিশাল লিডের পরিসংখ্যান: টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে ২০০ বা তার বেশি রানের লিড নেওয়া দল ৮০.৬% ক্ষেত্রে জয়লাভ করেছে। বিপরীতভাবে, ২০০+ রানে পিছিয়ে পড়ার পর অজিরা ইতিহাসের ৮২টি ম্যাচের মধ্যে কেবল ৩টিতে (৩.৬৫%) জিততে পেরেছে।

সাবেক অজি কিংবদন্তিরা যা বলছেন

ম্যাথু হেইডেন (সাবেক অজি ওপেনার):

“২২৮ রানে পিছিয়ে পড়ার পর ব্যাটিং ইউনিটের মানসিকতা পুরোপুরি বদলে যায়। এখন জেতার কথা ভাবার সুযোগ নেই, কেবল টিকে থাকার লড়াই করতে হবে। অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের জন্য এটা সত্যিই এক বড় সংকট।”*

ডেভিড ওয়ার্নার (সাবেক অজি ওপেনার):

অস্ট্রেলিয়াকে হার এড়াতে অন্তত ১২৫ থেকে ১৫০ ওভার ব্যাট করতে হবে এবং স্কোরবোর্ডে ৫০০ থেকে ৫৫০ রান তুলতে হবে। ড্র-ই একমাত্র পথ হতে পারে।”*

ওয়ার্নার আরও জানান, বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি ছিলেন স্টিভ স্মিথ ও ট্রাভিস হেড।

ম্যাচের বর্তমান পরিস্থিতি**

অস্ট্রেলিয়া নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে শুরুতেই বড় ধাক্কা খেয়েছে। হাসান মাহমুদের দুর্দান্ত পেস আক্রমণে ইতোমধ্যেই সাজঘরে ফিরেছেন ওপেনার জেক ওয়েদারাল্ড এবং বিপজ্জনক ব্যাটসম্যান ট্রাভিস হেড।

প্রতিবেদন লেখার সময়:

অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংস: ৩৮/২ (১১ ওভার)।
বাংলাদেশের লিড: এখনো ১৯০ রানে এগিয়ে।
ক্রিজে আছেন: স্টিভ স্মিথ ও মারনাস লাবুশেন।

২০০৬ সালের ফতুল্লা টেস্টে ১৫৮ রানের লিড পেয়েও শেষ পর্যন্ত হেরে যাওয়ার তিতা অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের আছে। তবে ডারউইনে এবার সমীকরণ ভিন্ন এবং নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি টাইগারদের হাতে। শান্ত-হাসানরা বাকি কাজটুকু ঠিকঠাক সম্পন্ন করতে পারলে টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসের অন্যতম সেরা চমক ও অবিশ্বাস্য জয় নিয়ে মাঠ ছাড়বে বাংলাদেশ।