শীতের সকাল। নাক বন্ধ, গলা খুসখুস, সঙ্গে একটানা কাশি। এমন দিনে অনেকেরই চায়ের কাপে ভেসে ওঠে এক মুঠো সবুজ পাতা—পুদিনা। কেউ চায়ে দেন, কেউ গরম পানিতে ভিজিয়ে খান, আবার কেউ পুদিনার গন্ধেই খুঁজে নেন নাক খোলার স্বস্তি। কিন্তু সত্যিই কি সর্দি-কাশির সঙ্গে পুদিনার পাতার এমন বন্ধুত্ব আছে?
পুদিনার সবচেয়ে পরিচিত উপাদান মেনথল। এই উপাদান মুখ ও নাকের আশপাশে শীতল অনুভূতি তৈরি করতে পারে। ফলে নাক বন্ধ থাকলে পুদিনার গন্ধ বা মেনথলযুক্ত কিছু ব্যবহার সাময়িকভাবে শ্বাস নেওয়া সহজ মনে হতে পারে। তবে এই অনুভূতি মানেই নাকের ভেতরের বন্ধভাব পুরোপুরি সেরে গেছে—এমনটা বলা যায় না।
এক কাপ পুদিনা চা, আরাম কতটা?
সর্দি-কাশির সময় উষ্ণ তরল পান করা গলা আরাম দিতে পারে। সেখানে পুদিনা যোগ হলে পাওয়া যায় এর স্বতন্ত্র সুবাস ও সতেজ স্বাদ। গলা খুসখুস করলে উষ্ণ পুদিনা চা অনেকের কাছে আরামদায়ক মনে হতে পারে।
তবে পুদিনা চা সর্দি-কাশির ওষুধ নয়। ভাইরাসজনিত সাধারণ সর্দি হলে শরীরের স্বাভাবিক প্রতিরোধব্যবস্থাই মূলত সংক্রমণের বিরুদ্ধে কাজ করে। পুদিনা সেখানে সহায়ক আরামের অংশ হতে পারে, চিকিৎসার বিকল্প নয়।
পুদিনার গন্ধে নাক খুলল—নাকি শুধু এমনই মনে হলো?
এখানেই রয়েছে মজার ব্যাপার। মেনথল নাকের ঠান্ডা অনুভূতির সঙ্গে যুক্ত স্নায়ুগুলোকে উদ্দীপিত করে। তাই পুদিনার গন্ধ নিলে নাক দিয়ে বাতাস চলাচল করছে—এমন অনুভূতি হতে পারে। কিন্তু নাকের ভেতরের ফোলা টিস্যু যে একই সঙ্গে সঙ্কুচিত হয়ে গেল, বিষয়টি এমন সরল নয়।
অর্থাৎ পুদিনা নাকে ‘জাদুর তালা খোলার চাবি’ নয়; বরং বন্ধ নাকের মাঝে কিছুটা স্বস্তির অনুভূতি দিতে পারে।
কাশি থামাতে পুদিনা কতটা কার্যকর?
কাশির কারণ এক নয়। সাধারণ সর্দি, অ্যালার্জি, শুষ্ক বাতাস কিংবা অন্য নানা কারণে কাশি হতে পারে। তাই শুধু পুদিনা খেলেই কাশি বন্ধ হবে—এমন বৈজ্ঞানিক নিশ্চয়তা নেই।
তবে উষ্ণ পুদিনা পানীয় গলা আর্দ্র রাখতে সাহায্য করতে পারে এবং এর সুবাস সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে। ফলে ‘কাশির ওষুধ’ না হলেও ‘আরামের পানীয়’ হিসেবে পুদিনার জায়গা বেশ ভালোই।
পুদিনা খাবেন কীভাবে?
সহজ উপায় হলো কয়েকটি তাজা পুদিনা পাতা দিয়ে গরম চা তৈরি করা। চাইলে লেবু যোগ করা যেতে পারে। তবে অতিরিক্ত চিনি না দেওয়াই ভালো।
পুদিনা খাবারের সঙ্গে সালাদ বা চাটনিতেও খাওয়া যায়। কিন্তু সর্দি-কাশি সারানোর আশায় অতিরিক্ত পুদিনা খাওয়ার প্রয়োজন নেই।
সর্দি-কাশির সময়ে পুদিনা হতে পারে স্বস্তির সঙ্গী, কিন্তু ‘সব রোগের মহৌষধ’ নয়। এক কাপ গরম পুদিনা চা হয়তো গলা ও নাকে কিছুটা আরাম দেবে, মনও সতেজ করবে। কিন্তু জ্বর দীর্ঘস্থায়ী হলে, শ্বাসকষ্ট হলে, কাশি বেড়ে গেলে বা উপসর্গ গুরুতর মনে হলে পুদিনার পাতার ওপর ভরসা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।
তাই পুদিনাকে রাখুন রান্নাঘরে, চায়ের কাপে কিংবা সালাদের বাটিতে—তবে ওষুধের আলমারিতে নয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক 























