০১:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শৈশবের ‘৩২ তারিখের’ পিদিম এখন কোথায়? হারিয়ে যাওয়া সেই মুখ থেকে ক্যাম্পাসের ব্যস্ততা

The gallery was not found!

“মামণি আমার কেন কথা শোনে না, এই জন্য আমি স্কুলে যাব না তুমি ৩০ তারিখে আসবা, না হয় ৩২ তারিখে আসবা, ঠিক আছে?”

সোশ্যাল মিডিয়ার আজকের রমরমা যুগের বহু আগেই কেবল এই নিষ্পাপ সংলাপটি দিয়ে পুরো দেশের মানুষের মন জয় করে নিয়েছিল এক শিশু। সে দিনের সেই চঞ্চল, মিষ্টি পিদিমকে মনে আছে?

বিজ্ঞাপনের সেই দুর্দান্ত সাফল্যের পর রেদওয়ান রনির জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘এফএনএফ’-এর ‘রোহান’ চরিত্রে পিদিমের অভিনয় ছিল এক কথায় অনন্য। আবুল হায়াত, মোশাররফ করিম, পার্থ বড়ুয়া ও অপি করিমের মতো প্রথম সারির তারকাদের সঙ্গে টেক্কা দিয়ে অভিনয় করে প্রশংসিত হয়েছিল সে। এরপর শিহাব শাহীনের ‘ছুঁয়ে দিলে মন’ সিনেমায় আরিফিন শুভর ছোটবেলার চরিত্রে পিদিমের আবেগঘন অভিনয় দেখে কেঁদেছিলেন অনেক দর্শক।

কিন্তু জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা অবস্থাতেই ২০১৬ সালের পর হঠাৎ স্ক্রিন থেকে গায়েব হয়ে যায় পিদিম। দীর্ঘ ১০ বছর ধরে অভিনয়ের আঙিনায় তার আর কোনো দেখা নেই।

২. মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর পাঠশালা ও শৈশবের গল্প

পিদিমের অভিনয়জগতে আসাটা মোটেও কোনো কাকতালীয় ঘটনা ছিল না। তার বাবা পরিচালক আলী ফিদা আকরাম তোজো, যিনি একসময় খ্যাতনামা নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর প্রধান সহকারী ছিলেন।

বাবার সূত্রে মাত্র দেড় বছর বয়সেই মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর নাটকে অভিনয় দিয়ে যাত্রা শুরু। পিদিম স্মৃতিচারণ করে বলেন:

“বলা যায় ফারুকী আঙ্কেলের কোলেই আমার বেড়ে ওঠা। অভিনয়টাও তাঁর কাছেই শেখা। তিনি আমার মেন্টর ছিলেন। আমি বড় হচ্ছিলাম, তিনি সেভাবেই আমার জন্য গল্প লিখতেন এবং বুঝিয়ে দিতেন। ফলে কাজ করছি বলে কখনো মনেই হতো না।”

পরবর্তীতে রেদওয়ান রনি, শিহাব শাহীন, আশফাক নিপুন ও ইফতেখার আহমেদ ফাহমির মতো জনপ্রিয় নির্মাতাদের নির্দেশনায় একের পর এক হিট কাজ উপহার দেয় সে।

৩. তারকাখ্যাতি ছেড়ে কেন হঠাৎ অন্তরালে?

বিজ্ঞাপন ও নাটকের একের পর এক দৃশ্য এখনও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়। অথচ বাস্তব জীবনে পিদিম আজ রূপালী পর্দা থেকে বহুদূরে।

কেন এই বিরতি? পিদিম জানালেন, মূল কারণ ছিল শুধুই পড়াশোনা। ও-লেভেল এবং এ-লেভেল শেষ করার পর ইচ্ছা থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যস্ততার কারণে আর ফেরা হয়নি।

বর্তমানে তিনি ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (IUB) এ অষ্টম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী। ক্লাসের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাকটিভিটি, খেলাধুলা ও পিয়ানো বাজিয়ে কাটে তার দিন। ইচ্ছে আছে দেশে পড়াশোনা শেষ করে উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাড়ি জমানোর।

৪. ভক্তদের ভালোবাসায় বিস্মিত, তবে কি আবার ফিরবেন পর্দায়?

এত বছর পর আজও পথে-ঘাটে কিংবা ক্লিপসে তাকে দেখে দর্শক যখন চিনে ফেলেন, তখন অবাক ও আনন্দিত হন পিদিম।

অভিনয়ে ফেরার ইচ্ছা আছে কি না জানতে চাইলে পিদিম বলেন: “সিনেমা দেখার সময় মনের অজান্তেই ভাবি, চরিত্রটি আমি করলে কেমন হতো। পুরনো কাজ দেখলে ভুলগুলো চোখে পড়ে, মনে হয় এখন করলে আরও নিখুঁত করতে পারতাম। রক্তের টান তো আছেই, তাই ব্যাটে-বলে মিললে এবং ভালো কোনো চরিত্র পেলে ভবিষ্যতে অবশ্যই অভিনয়ে ফেরার চেষ্টা করব।”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় খবর
Business Times24

শৈশবের ‘৩২ তারিখের’ পিদিম এখন কোথায়? হারিয়ে যাওয়া সেই মুখ থেকে ক্যাম্পাসের ব্যস্ততা

Update Time : ১১:০০:৫৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

“মামণি আমার কেন কথা শোনে না, এই জন্য আমি স্কুলে যাব না তুমি ৩০ তারিখে আসবা, না হয় ৩২ তারিখে আসবা, ঠিক আছে?”

সোশ্যাল মিডিয়ার আজকের রমরমা যুগের বহু আগেই কেবল এই নিষ্পাপ সংলাপটি দিয়ে পুরো দেশের মানুষের মন জয় করে নিয়েছিল এক শিশু। সে দিনের সেই চঞ্চল, মিষ্টি পিদিমকে মনে আছে?

বিজ্ঞাপনের সেই দুর্দান্ত সাফল্যের পর রেদওয়ান রনির জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘এফএনএফ’-এর ‘রোহান’ চরিত্রে পিদিমের অভিনয় ছিল এক কথায় অনন্য। আবুল হায়াত, মোশাররফ করিম, পার্থ বড়ুয়া ও অপি করিমের মতো প্রথম সারির তারকাদের সঙ্গে টেক্কা দিয়ে অভিনয় করে প্রশংসিত হয়েছিল সে। এরপর শিহাব শাহীনের ‘ছুঁয়ে দিলে মন’ সিনেমায় আরিফিন শুভর ছোটবেলার চরিত্রে পিদিমের আবেগঘন অভিনয় দেখে কেঁদেছিলেন অনেক দর্শক।

কিন্তু জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা অবস্থাতেই ২০১৬ সালের পর হঠাৎ স্ক্রিন থেকে গায়েব হয়ে যায় পিদিম। দীর্ঘ ১০ বছর ধরে অভিনয়ের আঙিনায় তার আর কোনো দেখা নেই।

২. মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর পাঠশালা ও শৈশবের গল্প

পিদিমের অভিনয়জগতে আসাটা মোটেও কোনো কাকতালীয় ঘটনা ছিল না। তার বাবা পরিচালক আলী ফিদা আকরাম তোজো, যিনি একসময় খ্যাতনামা নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর প্রধান সহকারী ছিলেন।

বাবার সূত্রে মাত্র দেড় বছর বয়সেই মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর নাটকে অভিনয় দিয়ে যাত্রা শুরু। পিদিম স্মৃতিচারণ করে বলেন:

“বলা যায় ফারুকী আঙ্কেলের কোলেই আমার বেড়ে ওঠা। অভিনয়টাও তাঁর কাছেই শেখা। তিনি আমার মেন্টর ছিলেন। আমি বড় হচ্ছিলাম, তিনি সেভাবেই আমার জন্য গল্প লিখতেন এবং বুঝিয়ে দিতেন। ফলে কাজ করছি বলে কখনো মনেই হতো না।”

পরবর্তীতে রেদওয়ান রনি, শিহাব শাহীন, আশফাক নিপুন ও ইফতেখার আহমেদ ফাহমির মতো জনপ্রিয় নির্মাতাদের নির্দেশনায় একের পর এক হিট কাজ উপহার দেয় সে।

৩. তারকাখ্যাতি ছেড়ে কেন হঠাৎ অন্তরালে?

বিজ্ঞাপন ও নাটকের একের পর এক দৃশ্য এখনও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়। অথচ বাস্তব জীবনে পিদিম আজ রূপালী পর্দা থেকে বহুদূরে।

কেন এই বিরতি? পিদিম জানালেন, মূল কারণ ছিল শুধুই পড়াশোনা। ও-লেভেল এবং এ-লেভেল শেষ করার পর ইচ্ছা থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যস্ততার কারণে আর ফেরা হয়নি।

বর্তমানে তিনি ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (IUB) এ অষ্টম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী। ক্লাসের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাকটিভিটি, খেলাধুলা ও পিয়ানো বাজিয়ে কাটে তার দিন। ইচ্ছে আছে দেশে পড়াশোনা শেষ করে উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাড়ি জমানোর।

৪. ভক্তদের ভালোবাসায় বিস্মিত, তবে কি আবার ফিরবেন পর্দায়?

এত বছর পর আজও পথে-ঘাটে কিংবা ক্লিপসে তাকে দেখে দর্শক যখন চিনে ফেলেন, তখন অবাক ও আনন্দিত হন পিদিম।

অভিনয়ে ফেরার ইচ্ছা আছে কি না জানতে চাইলে পিদিম বলেন: “সিনেমা দেখার সময় মনের অজান্তেই ভাবি, চরিত্রটি আমি করলে কেমন হতো। পুরনো কাজ দেখলে ভুলগুলো চোখে পড়ে, মনে হয় এখন করলে আরও নিখুঁত করতে পারতাম। রক্তের টান তো আছেই, তাই ব্যাটে-বলে মিললে এবং ভালো কোনো চরিত্র পেলে ভবিষ্যতে অবশ্যই অভিনয়ে ফেরার চেষ্টা করব।”