সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরে আশঙ্কাজনকহারে কমেছে ব্যবসা-বাণিজ্য। কমেছে পণ্যবাহী ট্রাকের সংখ্যা, অলস সময় পার করছেন সিঅ্যান্ডএফ কর্মী ও হ্যান্ডলিং শ্রমিকেরা। অনেক শ্রমিক জীবিকার তাগিদে বন্দর ছেড়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন। আমদানি-রপ্তানি ও বাণিজ্য কমে যাওয়ায় চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
কাস্টম হাউসের তথ্য অনুযায়ী, বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি ও রপ্তানি দুই ক্ষেত্রই বড় ধরণের ধাক্কা খেয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২,০৬৫ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রাজস্ব আদায় হয়েছে মাত্র ১,১১৪ কোটি টাকা। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ২,৩৮৩ কোটি টাকার বিশাল লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও জুলাই মাসে আদায় হয়েছে মাত্র ৯৮ কোটি টাকা, যা ধারা বজায় থাকলে লক্ষ্যের ৫০% পূরণ হওয়া নিয়েও শঙ্কা তৈরি করেছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী, কাস্টমস কর্মকর্তা ও চেম্বার অব কমার্স নেতাদের মতে আমদানি-রপ্তানি কমে যাওয়ার পেছনে প্রধান কারণগুলো হলো-অবকাঠামোগত চরম সীমাবদ্ধতা:সব ধরনের পণ্য আমদানির অনুমোদন থাকলেও বন্দরে পর্যাপ্ত ইয়ার্ড, ভারী ক্রেন এবং আধুনিক গুদামের (ওয়্যারহাউস) তীব্র অভাব রয়েছে।
কৃষিপণ্যের দরপতন ও লোকসান:সাতক্ষীরা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি নাসিম ফারুক খান জানান, ভারত থেকে আমদানি করা কৃষিপণ্যের দাম বাজারে হঠাৎ কমে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা লোকসানের মুখে পড়ছেন।
দুই দেশের ব্যবস্থাপনার পার্থক্য:ভারতের ঘোজাডাঙা বন্দরের অবকাঠামোগত দুর্বলতার পাশাপাশি দুই দেশের বন্দর ব্যবস্থাপনা ও সুযোগ-সুবিধার বড় বৈষম্য ব্যবসায়ীদের এই রুট ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করছে।
ভোমরা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবু মুসা জানান, বাণিজ্যে মন্দার কারণে কাজ হারিয়ে অনেকেই বেকার হয়ে পড়েছেন।
ভোমরা কাস্টম হাউসের কমিশনার মুশফিকুর রহমান জানান, ব্যবসায়ীদের সেবার মান বাড়াতে, হয়রানি কমাতে এবং দ্রুত পণ্য খালাস নিশ্চিত করতে কাজ চলছে। সম্প্রতি ব্যবসায়ীদের সাথে মতবিনিময় সভায় উঠে আসা যৌক্তিক দাবিগুলো পর্যায়ক্রমে সমাধানের আশ্বাস দেন তিনি।

নিজস্ব প্রতিবেদক 






















