১০:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬

ইউরোপের বাজারে পোশাক রপ্তানিতে চীনের অগ্রগতি, পিছিয়ে বাংলাদেশ

The gallery was not found!

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পোশাকের বাজারে প্রতিযোগিতায় চীনের অবস্থান আরও শক্ত হয়েছে। বিপরীতে বাজারটিতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি কমেছে প্রায় ১২ শতাংশ। একই সময়ে ভিয়েতনামও রপ্তানি বাড়িয়েছে। ফলে বিশ্বের অন্যতম বড় পোশাকের বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে।

ইইউর পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাটের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশ ১ হাজার ১৯৩ কোটি ইউরোর তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই আয় ১৫৮ কোটি ইউরো বা ১১ দশমিক ৬৭ শতাংশ কম। অন্যদিকে চীনের রপ্তানি ২ দশমিক ৩৮ শতাংশ এবং ভিয়েতনামের রপ্তানি ৪ দশমিক ৪৬ শতাংশ বেড়েছে।

চীনের বাজার হিস্যা বেড়েছে

চলতি বছরের প্রথম আট মাসে ইইউর দেশগুলো মোট ৬ হাজার ২৯ কোটি ইউরোর তৈরি পোশাক আমদানি করেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই আমদানি কমেছে ৩ দশমিক ৮৩ শতাংশ। অর্থাৎ ইউরোপের বাজারে সামগ্রিক চাহিদা কমলেও বাংলাদেশের রপ্তানি কমেছে তার প্রায় তিন গুণ হারে।

এ সময়ে চীন ইইউতে ১ হাজার ৯৭১ কোটি ইউরোর পোশাক রপ্তানি করেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৪৫ কোটি ইউরো বেশি। ভিয়েতনামের রপ্তানি দাঁড়িয়েছে ৩০০ কোটি ইউরোতে। দেশটির রপ্তানি বেড়েছে ১৩ কোটি ইউরো।

রপ্তানি কমে যাওয়ায় ইইউর বাজারে বাংলাদেশের হিস্যাও সংকুচিত হয়েছে। গত বছরের প্রথম আট মাসে ইইউর মোট পোশাক আমদানিতে বাংলাদেশের অংশ ছিল প্রায় ২১ দশমিক ৫ শতাংশ। চলতি বছরের একই সময়ে তা কমে ১৯ দশমিক ৮ শতাংশে নেমেছে। বিপরীতে চীনের বাজার হিস্যা ৩০ দশমিক ৭২ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩২ দশমিক ৭ শতাংশ হয়েছে।

ইইউর পোশাকের বাজারে শীর্ষ রপ্তানিকারক চীন। দ্বিতীয় অবস্থানে বাংলাদেশ। এরপর রয়েছে তুরস্ক, ভারত ও ভিয়েতনাম। তবে বাংলাদেশের মতো তুরস্ক ও ভারতের রপ্তানিও এ সময়ে কমেছে।

দাম কমিয়েও কমেছে রপ্তানি

রপ্তানি কমার পেছনে পোশাকের পরিমাণ ও গড় মূল্যের পতন—দুটিই ভূমিকা রেখেছে। প্রথম আট মাসে বাংলাদেশ থেকে পোশাক রপ্তানির পরিমাণ কমেছে সাড়ে ৪ শতাংশ। একই সময়ে প্রতি কেজি পোশাকের গড় মূল্য ১৪ দশমিক ৮৭ ইউরো থেকে কমে ১৩ দশমিক ৭৬ ইউরো হয়েছে। অর্থাৎ গড় মূল্য কমেছে প্রায় সাড়ে ৭ শতাংশ।

অন্যদিকে চীন পোশাকের গড় মূল্য কমিয়েও রপ্তানির পরিমাণ বাড়াতে পেরেছে। ভিয়েতনাম গড় মূল্য বাড়িয়ে রপ্তানি বৃদ্ধি করেছে। ফলে প্রতিযোগী দেশগুলোর কৌশল ও পণ্যের ধরন বাংলাদেশের রপ্তানি পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

প্রতিযোগিতা বাড়াচ্ছে চীন

তৈরি পোশাকশিল্পের উদ্যোক্তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে চীনা পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপের পর দেশটির রপ্তানিকারকেরা ইউরোপের বাজারে আরও সক্রিয় হয়েছেন। কম দামে পোশাক সরবরাহের প্রস্তাব দিয়ে তাঁরা ক্রেতাদের আকৃষ্ট করছেন। এতে বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের প্রতিযোগিতার চাপ বেড়েছে। পাশাপাশি ইউরোপের অর্থনৈতিক শ্লথগতিও পোশাকের চাহিদায় প্রভাব ফেলেছে।

তবে বছরের মাঝামাঝি সময়ে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল। তিনি বলেছেন, জুন, জুলাই ও আগস্টে ইইউর ক্রেতাপ্রতিষ্ঠানগুলো পোশাক আমদানি বাড়িয়েছে। এতে বাংলাদেশের রপ্তানিতেও কিছুটা ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। তবে চীন আগে থেকেই আক্রমণাত্মক বিপণন করায় বাজার পুনরুদ্ধারের সময়ে দেশটি বেশি সুবিধা পেয়েছে।

মহিউদ্দিন রুবেলের মতে, যুদ্ধ পরিস্থিতির বড় ধরনের অবনতি না হলে আগামী মাসগুলোতে ইউরোপের বাজার আরও ঘুরে দাঁড়াতে পারে। এতে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ার সুযোগ রয়েছে। তবে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে বৈচিত্র্যময় পোশাক উৎপাদন, পণ্যের মান উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দিতে হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় খবর

হরমুজে চার দেশের জাহাজে ইরানের ছাড়, তেলের পথ খুলে কূটনৈতিক হিসাব

Business Times24

ইউরোপের বাজারে পোশাক রপ্তানিতে চীনের অগ্রগতি, পিছিয়ে বাংলাদেশ

Update Time : ১১:৪৫:৪৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পোশাকের বাজারে প্রতিযোগিতায় চীনের অবস্থান আরও শক্ত হয়েছে। বিপরীতে বাজারটিতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি কমেছে প্রায় ১২ শতাংশ। একই সময়ে ভিয়েতনামও রপ্তানি বাড়িয়েছে। ফলে বিশ্বের অন্যতম বড় পোশাকের বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে।

ইইউর পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাটের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশ ১ হাজার ১৯৩ কোটি ইউরোর তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই আয় ১৫৮ কোটি ইউরো বা ১১ দশমিক ৬৭ শতাংশ কম। অন্যদিকে চীনের রপ্তানি ২ দশমিক ৩৮ শতাংশ এবং ভিয়েতনামের রপ্তানি ৪ দশমিক ৪৬ শতাংশ বেড়েছে।

চীনের বাজার হিস্যা বেড়েছে

চলতি বছরের প্রথম আট মাসে ইইউর দেশগুলো মোট ৬ হাজার ২৯ কোটি ইউরোর তৈরি পোশাক আমদানি করেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই আমদানি কমেছে ৩ দশমিক ৮৩ শতাংশ। অর্থাৎ ইউরোপের বাজারে সামগ্রিক চাহিদা কমলেও বাংলাদেশের রপ্তানি কমেছে তার প্রায় তিন গুণ হারে।

এ সময়ে চীন ইইউতে ১ হাজার ৯৭১ কোটি ইউরোর পোশাক রপ্তানি করেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৪৫ কোটি ইউরো বেশি। ভিয়েতনামের রপ্তানি দাঁড়িয়েছে ৩০০ কোটি ইউরোতে। দেশটির রপ্তানি বেড়েছে ১৩ কোটি ইউরো।

রপ্তানি কমে যাওয়ায় ইইউর বাজারে বাংলাদেশের হিস্যাও সংকুচিত হয়েছে। গত বছরের প্রথম আট মাসে ইইউর মোট পোশাক আমদানিতে বাংলাদেশের অংশ ছিল প্রায় ২১ দশমিক ৫ শতাংশ। চলতি বছরের একই সময়ে তা কমে ১৯ দশমিক ৮ শতাংশে নেমেছে। বিপরীতে চীনের বাজার হিস্যা ৩০ দশমিক ৭২ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩২ দশমিক ৭ শতাংশ হয়েছে।

ইইউর পোশাকের বাজারে শীর্ষ রপ্তানিকারক চীন। দ্বিতীয় অবস্থানে বাংলাদেশ। এরপর রয়েছে তুরস্ক, ভারত ও ভিয়েতনাম। তবে বাংলাদেশের মতো তুরস্ক ও ভারতের রপ্তানিও এ সময়ে কমেছে।

দাম কমিয়েও কমেছে রপ্তানি

রপ্তানি কমার পেছনে পোশাকের পরিমাণ ও গড় মূল্যের পতন—দুটিই ভূমিকা রেখেছে। প্রথম আট মাসে বাংলাদেশ থেকে পোশাক রপ্তানির পরিমাণ কমেছে সাড়ে ৪ শতাংশ। একই সময়ে প্রতি কেজি পোশাকের গড় মূল্য ১৪ দশমিক ৮৭ ইউরো থেকে কমে ১৩ দশমিক ৭৬ ইউরো হয়েছে। অর্থাৎ গড় মূল্য কমেছে প্রায় সাড়ে ৭ শতাংশ।

অন্যদিকে চীন পোশাকের গড় মূল্য কমিয়েও রপ্তানির পরিমাণ বাড়াতে পেরেছে। ভিয়েতনাম গড় মূল্য বাড়িয়ে রপ্তানি বৃদ্ধি করেছে। ফলে প্রতিযোগী দেশগুলোর কৌশল ও পণ্যের ধরন বাংলাদেশের রপ্তানি পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

প্রতিযোগিতা বাড়াচ্ছে চীন

তৈরি পোশাকশিল্পের উদ্যোক্তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে চীনা পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপের পর দেশটির রপ্তানিকারকেরা ইউরোপের বাজারে আরও সক্রিয় হয়েছেন। কম দামে পোশাক সরবরাহের প্রস্তাব দিয়ে তাঁরা ক্রেতাদের আকৃষ্ট করছেন। এতে বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের প্রতিযোগিতার চাপ বেড়েছে। পাশাপাশি ইউরোপের অর্থনৈতিক শ্লথগতিও পোশাকের চাহিদায় প্রভাব ফেলেছে।

তবে বছরের মাঝামাঝি সময়ে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল। তিনি বলেছেন, জুন, জুলাই ও আগস্টে ইইউর ক্রেতাপ্রতিষ্ঠানগুলো পোশাক আমদানি বাড়িয়েছে। এতে বাংলাদেশের রপ্তানিতেও কিছুটা ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। তবে চীন আগে থেকেই আক্রমণাত্মক বিপণন করায় বাজার পুনরুদ্ধারের সময়ে দেশটি বেশি সুবিধা পেয়েছে।

মহিউদ্দিন রুবেলের মতে, যুদ্ধ পরিস্থিতির বড় ধরনের অবনতি না হলে আগামী মাসগুলোতে ইউরোপের বাজার আরও ঘুরে দাঁড়াতে পারে। এতে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ার সুযোগ রয়েছে। তবে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে বৈচিত্র্যময় পোশাক উৎপাদন, পণ্যের মান উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দিতে হবে।