১০:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হুতির সামরিক মহড়া ঘিরে নতুন কূটনৈতিক তৎপরতা

The gallery was not found!

ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠীর সামরিক মহড়া ঘিরে নতুন কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। লোহিত সাগর ও বাব আল-মানদেব প্রণালিতে হুতিদের কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে তেহরানের প্রভাব কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে চীন। সৌদি আরবের অনুরোধের পর বেইজিং গোপনে ইরানের কাছে এ আহ্বান জানিয়েছে বলে দাবি করেছেন বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিন ইরানি সূত্র।

গত এক সপ্তাহে ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূল এবং বাব আল-মানদেবের আশপাশে হুতিদের সামরিক অগ্রযাত্রা বেড়েছে বলে সূত্রগুলোর দাবি। এর ফলে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি এবং ওই অঞ্চলের আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। পরিস্থিতির মধ্যে রিয়াদ চীনের সহায়তা চাওয়ার পর তেহরানের সঙ্গে যোগাযোগ করে বেইজিং।

চীনের প্রকাশ্য অবস্থান অবশ্য সংঘাত কমানোর পক্ষে। বেইজিং আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমিত করা, সংলাপের মাধ্যমে সংকটের সমাধান এবং আন্তর্জাতিক নৌপথ নিরাপদ রাখার আহ্বান জানিয়ে আসছে। তবে ইরানি সূত্রগুলোর দাবি, ব্যক্তিগত কূটনৈতিক বার্তায় হুতিদের ওপর প্রভাব খাটানোর বিষয়টি সরাসরি তেহরানের সামনে তুলে ধরেছে চীন।

জ্বালানি নিরাপত্তাই বড় উদ্বেগ

চীনের এই উদ্যোগের পেছনে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের অন্যতম বড় জ্বালানি আমদানিকারক চীন মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। ফলে অঞ্চলটির গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা তৈরি হলে সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে চীনের অর্থনীতি ও বাণিজ্যে।

কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সমুদ্রপথে ইরান থেকে রপ্তানি হওয়া তেলের ৮০ শতাংশের বেশি কিনেছে চীন। দৈনিক গড়ে এই সরবরাহের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৪ লাখ ব্যারেল।

এই পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালি এবং লোহিত সাগর—দুটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথেই যদি একই সময়ে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে এশিয়া ও বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে জ্বালানি পরিবহন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে।

ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও চীন একই সঙ্গে সৌদি আরব ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গেও বড় অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব গড়ে তুলেছে। তাই মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের বিস্তার ঠেকানো বেইজিংয়ের জন্য কূটনৈতিক স্বার্থের পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রয়োজনও।

তেহরানের পাল্টা বার্তা

ইরানি সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, চীনের অনুরোধের জবাবে তেহরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাতের অবসান ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।

তবে চীনা কর্মকর্তারা ইরানকে কোনো সরাসরি হুমকি দেননি। হুতিদের ওপর প্রভাব বিস্তারে ব্যর্থ হলে অর্থনৈতিক চাপ বা অন্য কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এমন বার্তাও দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে সূত্রগুলো।

গত বুধবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির চীন সফরের সময় এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

রয়টার্সের প্রশ্নের জবাবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইয়েমেন ও লোহিত সাগরে আঞ্চলিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়া কোনো পক্ষের স্বার্থেই নয়। সব দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার প্রতি সম্মান দেখানোর পাশাপাশি বেসামরিক জীবন ও জীবিকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা না করার আহ্বান জানিয়েছে বেইজিং।

হুতিদের ওপর ইরানের প্রভাব কতটা

হুতি গোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক মধ্যপ্রাচ্যের চলমান শক্তির সমীকরণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ইরানি সূত্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর দাবি, হুতিদের অস্ত্র, প্রশিক্ষণ ও অর্থ সহায়তা দিয়ে থাকে তেহরান। হুতিরা ইরান-সমর্থিত আঞ্চলিক ‘প্রতিরোধ অক্ষের’ অংশ হিসেবে পরিচিত।

তবে হুতিদের প্রতিটি সামরিক সিদ্ধান্ত সরাসরি তেহরানের নির্দেশে হয় কি না, তা নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা রয়েছে। ফলে ইরানের ওপর চীনের চাপ থাকলেও হুতিদের কর্মকাণ্ডে তার সরাসরি প্রভাব কতটা কার্যকর হবে, সেটিই বড় প্রশ্ন।

মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের ইরান কর্মসূচির পরিচালক অ্যালেক্স ভাতানকা বলেছেন, ইরানের ওপর প্রভাব খাটিয়ে হুতিদের কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে আনার মতো সক্ষমতা থাকা দেশের সংখ্যা সীমিত। চীন তাদের মধ্যে অন্যতম।

চীনের সামনে কঠিন সমীকরণ

ইরান ও চীনের সম্পর্ক শুধু জ্বালানি বাণিজ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ২০২১ সালে দুই দেশ ২৫ বছর মেয়াদি সহযোগিতা চুক্তি সই করে। ২০২৩ সালে সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনে মধ্যস্থতাও করেছিল বেইজিং।

অন্যদিকে সৌদি আরব ও উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের দেশগুলোর সঙ্গেও চীনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক দ্রুত বেড়েছে। জিসিসিভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে চীনের বার্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৩০ হাজার কোটি ডলার।

ফলে বেইজিংয়ের জন্য ইরান যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ। এই দুই পক্ষের স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য রেখে মধ্যপ্রাচ্যে নিজের কূটনৈতিক অবস্থান ধরে রাখাই এখন চীনের বড় চ্যালেঞ্জ।

সামনে যে প্রশ্ন

হুতিদের তৎপরতা যদি লোহিত সাগর ও বাব আল-মানদেব এলাকায় আরও বাড়ে, তার প্রভাব শুধু সৌদি আরব বা ইয়েমেনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনও এর প্রভাবের মুখে পড়তে পারে।

এ কারণেই চীনের উদ্যোগকে শুধু সৌদি আরবের অনুরোধে দেওয়া কূটনৈতিক সাড়া হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহ, আন্তর্জাতিক নৌপথ এবং ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক—সবকিছুর সঙ্গেই এ উদ্যোগ জড়িত।

এখন দেখার বিষয়, বেইজিংয়ের বার্তায় তেহরান কতটা সাড়া দেয় এবং ইরান হুতিদের ওপর তার প্রভাব ব্যবহার করে লোহিত সাগরের উত্তেজনা কমাতে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয় কি না।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় খবর

হুতির সামরিক মহড়া ঘিরে নতুন কূটনৈতিক তৎপরতা

Business Times24

হুতির সামরিক মহড়া ঘিরে নতুন কূটনৈতিক তৎপরতা

Update Time : ০৩:৫৪:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠীর সামরিক মহড়া ঘিরে নতুন কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। লোহিত সাগর ও বাব আল-মানদেব প্রণালিতে হুতিদের কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে তেহরানের প্রভাব কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে চীন। সৌদি আরবের অনুরোধের পর বেইজিং গোপনে ইরানের কাছে এ আহ্বান জানিয়েছে বলে দাবি করেছেন বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিন ইরানি সূত্র।

গত এক সপ্তাহে ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূল এবং বাব আল-মানদেবের আশপাশে হুতিদের সামরিক অগ্রযাত্রা বেড়েছে বলে সূত্রগুলোর দাবি। এর ফলে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি এবং ওই অঞ্চলের আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। পরিস্থিতির মধ্যে রিয়াদ চীনের সহায়তা চাওয়ার পর তেহরানের সঙ্গে যোগাযোগ করে বেইজিং।

চীনের প্রকাশ্য অবস্থান অবশ্য সংঘাত কমানোর পক্ষে। বেইজিং আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমিত করা, সংলাপের মাধ্যমে সংকটের সমাধান এবং আন্তর্জাতিক নৌপথ নিরাপদ রাখার আহ্বান জানিয়ে আসছে। তবে ইরানি সূত্রগুলোর দাবি, ব্যক্তিগত কূটনৈতিক বার্তায় হুতিদের ওপর প্রভাব খাটানোর বিষয়টি সরাসরি তেহরানের সামনে তুলে ধরেছে চীন।

জ্বালানি নিরাপত্তাই বড় উদ্বেগ

চীনের এই উদ্যোগের পেছনে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের অন্যতম বড় জ্বালানি আমদানিকারক চীন মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। ফলে অঞ্চলটির গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা তৈরি হলে সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে চীনের অর্থনীতি ও বাণিজ্যে।

কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সমুদ্রপথে ইরান থেকে রপ্তানি হওয়া তেলের ৮০ শতাংশের বেশি কিনেছে চীন। দৈনিক গড়ে এই সরবরাহের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৪ লাখ ব্যারেল।

এই পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালি এবং লোহিত সাগর—দুটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথেই যদি একই সময়ে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে এশিয়া ও বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে জ্বালানি পরিবহন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে।

ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও চীন একই সঙ্গে সৌদি আরব ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গেও বড় অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব গড়ে তুলেছে। তাই মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের বিস্তার ঠেকানো বেইজিংয়ের জন্য কূটনৈতিক স্বার্থের পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রয়োজনও।

তেহরানের পাল্টা বার্তা

ইরানি সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, চীনের অনুরোধের জবাবে তেহরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাতের অবসান ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।

তবে চীনা কর্মকর্তারা ইরানকে কোনো সরাসরি হুমকি দেননি। হুতিদের ওপর প্রভাব বিস্তারে ব্যর্থ হলে অর্থনৈতিক চাপ বা অন্য কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এমন বার্তাও দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে সূত্রগুলো।

গত বুধবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির চীন সফরের সময় এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

রয়টার্সের প্রশ্নের জবাবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইয়েমেন ও লোহিত সাগরে আঞ্চলিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়া কোনো পক্ষের স্বার্থেই নয়। সব দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার প্রতি সম্মান দেখানোর পাশাপাশি বেসামরিক জীবন ও জীবিকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা না করার আহ্বান জানিয়েছে বেইজিং।

হুতিদের ওপর ইরানের প্রভাব কতটা

হুতি গোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক মধ্যপ্রাচ্যের চলমান শক্তির সমীকরণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ইরানি সূত্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর দাবি, হুতিদের অস্ত্র, প্রশিক্ষণ ও অর্থ সহায়তা দিয়ে থাকে তেহরান। হুতিরা ইরান-সমর্থিত আঞ্চলিক ‘প্রতিরোধ অক্ষের’ অংশ হিসেবে পরিচিত।

তবে হুতিদের প্রতিটি সামরিক সিদ্ধান্ত সরাসরি তেহরানের নির্দেশে হয় কি না, তা নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা রয়েছে। ফলে ইরানের ওপর চীনের চাপ থাকলেও হুতিদের কর্মকাণ্ডে তার সরাসরি প্রভাব কতটা কার্যকর হবে, সেটিই বড় প্রশ্ন।

মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের ইরান কর্মসূচির পরিচালক অ্যালেক্স ভাতানকা বলেছেন, ইরানের ওপর প্রভাব খাটিয়ে হুতিদের কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে আনার মতো সক্ষমতা থাকা দেশের সংখ্যা সীমিত। চীন তাদের মধ্যে অন্যতম।

চীনের সামনে কঠিন সমীকরণ

ইরান ও চীনের সম্পর্ক শুধু জ্বালানি বাণিজ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ২০২১ সালে দুই দেশ ২৫ বছর মেয়াদি সহযোগিতা চুক্তি সই করে। ২০২৩ সালে সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনে মধ্যস্থতাও করেছিল বেইজিং।

অন্যদিকে সৌদি আরব ও উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের দেশগুলোর সঙ্গেও চীনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক দ্রুত বেড়েছে। জিসিসিভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে চীনের বার্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৩০ হাজার কোটি ডলার।

ফলে বেইজিংয়ের জন্য ইরান যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ। এই দুই পক্ষের স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য রেখে মধ্যপ্রাচ্যে নিজের কূটনৈতিক অবস্থান ধরে রাখাই এখন চীনের বড় চ্যালেঞ্জ।

সামনে যে প্রশ্ন

হুতিদের তৎপরতা যদি লোহিত সাগর ও বাব আল-মানদেব এলাকায় আরও বাড়ে, তার প্রভাব শুধু সৌদি আরব বা ইয়েমেনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনও এর প্রভাবের মুখে পড়তে পারে।

এ কারণেই চীনের উদ্যোগকে শুধু সৌদি আরবের অনুরোধে দেওয়া কূটনৈতিক সাড়া হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহ, আন্তর্জাতিক নৌপথ এবং ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক—সবকিছুর সঙ্গেই এ উদ্যোগ জড়িত।

এখন দেখার বিষয়, বেইজিংয়ের বার্তায় তেহরান কতটা সাড়া দেয় এবং ইরান হুতিদের ওপর তার প্রভাব ব্যবহার করে লোহিত সাগরের উত্তেজনা কমাতে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয় কি না।