০২:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পেনশন সুবিধায় বড় পরিবর্তন, নমিনির বয়সসীমা ৮০

The gallery was not found!

সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ। পেনশনারের মৃত্যুর পর তার স্বামী বা স্ত্রী কিংবা নমিনি ৮০ বছর বয়স পর্যন্ত পেনশন সুবিধা পাবেন। বর্তমানে এ সুবিধার বয়সসীমা ৭৫ বছর। একই সঙ্গে শরিয়াহভিত্তিক পেনশন স্কিম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের বৈঠক শেষে এসব তথ্য জানান কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সুরাতুজ্জামান।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বৈঠক শেষে মো. সুরাতুজ্জামান বলেন, পেনশনার নিজে আজীবন পেনশন পাবেন। তার মৃত্যুর পর স্বামী বা স্ত্রীকে ৮০ বছর বয়স পর্যন্ত পেনশন সুবিধা দেওয়া হবে। আগে এই সুবিধার বয়সসীমা ছিল ৭৫ বছর।

সরকারি মালিকানাধীন যেসব প্রতিষ্ঠানে পেনশন ব্যবস্থা নেই, সেসব প্রতিষ্ঠানের কর্মীদেরও সর্বজনীন পেনশনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাদের ‘প্রগতি’ স্কিমের আওতায় আনা হবে। কোন কোন প্রতিষ্ঠান এর আওতায় আসবে এবং কীভাবে তা বাস্তবায়ন হবে, তা পরে নির্ধারণ করা হবে।

এ ছাড়া বিদেশ যাওয়ার আগে কর্মীদের ‘প্রবাস’ স্কিম সম্পর্কে জানানো এবং নিবন্ধনের সুযোগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচির ইসলামিক বা শরিয়াহভিত্তিক সংস্করণ চালুর প্রস্তাবও অনুমোদন করেছে পরিচালনা পর্ষদ। এর কাঠামো ও পরিচালনপদ্ধতি নির্ধারণে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক এবং স্থানীয় পরামর্শকেরা কাজ করছেন। অ্যাকচুয়ারিয়াল বিশ্লেষণসহ প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করে আলাদা বিধিমালা প্রণয়নের পর এই স্কিম চালু করা হবে।

এদিকে পেনশন শুরুর বয়স ৬০ বছর থেকে কমিয়ে ৫৫ বছর করার প্রস্তাব নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হলেও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। অ্যাকচুয়ারিয়াল পরামর্শ নিয়ে বিষয়টি পরে আবার পরিচালনা পর্ষদে উপস্থাপন করা হতে পারে। বিভিন্ন দেশে ৬২, ৬৬ বা ৬৭ বছর বয়সে পেনশন শুরু হয় উল্লেখ করে মো. সুরাতুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশেও মানুষের গড় আয়ু বাড়ছে। তাই ৫৫ বছর বয়সে পেনশন দেওয়ার প্রস্তাবটি আর্থিক ও জনমিতিক বাস্তবতা বিবেচনায় পর্যালোচনা করা হবে।

সর্বজনীন পেনশন তহবিল থেকে অংশগ্রহণকারীদের ঋণ দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ঋণ দেওয়া হলে তহবিলের কাঙ্ক্ষিত রিটার্ন নিশ্চিত করা এবং অংশগ্রহণকারীরা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, তা বিবেচনা করে অ্যাকচুয়ারিয়াল নির্দেশনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

পেনশন কর্মসূচির সঙ্গে স্বাস্থ্যবিমা চালুর বিষয়টিও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। কোন মডেলে এটি চালু করা হবে এবং এতে তহবিলের ওপর কী ধরনের আর্থিক ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, তা বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় করে মুনাফা দেওয়ার বিষয়েও এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

বিদ্যমান ব্যবস্থায় কোনো কর্মসূচিতে যুক্ত হওয়ার পর তা চালিয়ে যেতে না পারলেও বের হওয়ার সুযোগ নেই। পাঁচ বছর অর্থ জমা দেওয়ার পর শারীরিক বা আর্থিক কারণে অক্ষম হলে বিশেষ বিবেচনায় অর্থ উত্তোলনের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হলেও তা অনুমোদন হয়নি।

সর্বজনীন পেনশনে নতুন নিবন্ধন বাড়াতে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ও ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রণোদনা বাড়ানো হয়েছে। আগে একজনকে নিবন্ধনের জন্য ১৫ টাকা দেওয়া হলেও এখন তা বাড়িয়ে ২৫ টাকা করা হয়েছে।

এ ছাড়া জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের আর্থিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বাড়াতে সরকারি নিরীক্ষার পাশাপাশি একটি বেসরকারি চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ফার্ম দিয়ে নিরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় খবর
Business Times24

পেনশন সুবিধায় বড় পরিবর্তন, নমিনির বয়সসীমা ৮০

Update Time : ০৮:৪৩:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ। পেনশনারের মৃত্যুর পর তার স্বামী বা স্ত্রী কিংবা নমিনি ৮০ বছর বয়স পর্যন্ত পেনশন সুবিধা পাবেন। বর্তমানে এ সুবিধার বয়সসীমা ৭৫ বছর। একই সঙ্গে শরিয়াহভিত্তিক পেনশন স্কিম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের বৈঠক শেষে এসব তথ্য জানান কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সুরাতুজ্জামান।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বৈঠক শেষে মো. সুরাতুজ্জামান বলেন, পেনশনার নিজে আজীবন পেনশন পাবেন। তার মৃত্যুর পর স্বামী বা স্ত্রীকে ৮০ বছর বয়স পর্যন্ত পেনশন সুবিধা দেওয়া হবে। আগে এই সুবিধার বয়সসীমা ছিল ৭৫ বছর।

সরকারি মালিকানাধীন যেসব প্রতিষ্ঠানে পেনশন ব্যবস্থা নেই, সেসব প্রতিষ্ঠানের কর্মীদেরও সর্বজনীন পেনশনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাদের ‘প্রগতি’ স্কিমের আওতায় আনা হবে। কোন কোন প্রতিষ্ঠান এর আওতায় আসবে এবং কীভাবে তা বাস্তবায়ন হবে, তা পরে নির্ধারণ করা হবে।

এ ছাড়া বিদেশ যাওয়ার আগে কর্মীদের ‘প্রবাস’ স্কিম সম্পর্কে জানানো এবং নিবন্ধনের সুযোগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচির ইসলামিক বা শরিয়াহভিত্তিক সংস্করণ চালুর প্রস্তাবও অনুমোদন করেছে পরিচালনা পর্ষদ। এর কাঠামো ও পরিচালনপদ্ধতি নির্ধারণে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক এবং স্থানীয় পরামর্শকেরা কাজ করছেন। অ্যাকচুয়ারিয়াল বিশ্লেষণসহ প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করে আলাদা বিধিমালা প্রণয়নের পর এই স্কিম চালু করা হবে।

এদিকে পেনশন শুরুর বয়স ৬০ বছর থেকে কমিয়ে ৫৫ বছর করার প্রস্তাব নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হলেও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। অ্যাকচুয়ারিয়াল পরামর্শ নিয়ে বিষয়টি পরে আবার পরিচালনা পর্ষদে উপস্থাপন করা হতে পারে। বিভিন্ন দেশে ৬২, ৬৬ বা ৬৭ বছর বয়সে পেনশন শুরু হয় উল্লেখ করে মো. সুরাতুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশেও মানুষের গড় আয়ু বাড়ছে। তাই ৫৫ বছর বয়সে পেনশন দেওয়ার প্রস্তাবটি আর্থিক ও জনমিতিক বাস্তবতা বিবেচনায় পর্যালোচনা করা হবে।

সর্বজনীন পেনশন তহবিল থেকে অংশগ্রহণকারীদের ঋণ দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ঋণ দেওয়া হলে তহবিলের কাঙ্ক্ষিত রিটার্ন নিশ্চিত করা এবং অংশগ্রহণকারীরা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, তা বিবেচনা করে অ্যাকচুয়ারিয়াল নির্দেশনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

পেনশন কর্মসূচির সঙ্গে স্বাস্থ্যবিমা চালুর বিষয়টিও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। কোন মডেলে এটি চালু করা হবে এবং এতে তহবিলের ওপর কী ধরনের আর্থিক ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, তা বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় করে মুনাফা দেওয়ার বিষয়েও এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

বিদ্যমান ব্যবস্থায় কোনো কর্মসূচিতে যুক্ত হওয়ার পর তা চালিয়ে যেতে না পারলেও বের হওয়ার সুযোগ নেই। পাঁচ বছর অর্থ জমা দেওয়ার পর শারীরিক বা আর্থিক কারণে অক্ষম হলে বিশেষ বিবেচনায় অর্থ উত্তোলনের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হলেও তা অনুমোদন হয়নি।

সর্বজনীন পেনশনে নতুন নিবন্ধন বাড়াতে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ও ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রণোদনা বাড়ানো হয়েছে। আগে একজনকে নিবন্ধনের জন্য ১৫ টাকা দেওয়া হলেও এখন তা বাড়িয়ে ২৫ টাকা করা হয়েছে।

এ ছাড়া জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের আর্থিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বাড়াতে সরকারি নিরীক্ষার পাশাপাশি একটি বেসরকারি চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ফার্ম দিয়ে নিরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।