১২:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মক্কামুখী ড্রোনে নতুন উত্তেজনা, হুতিদের অস্বীকার

The gallery was not found!

পবিত্র নগরী মক্কাকে ঘিরে ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী ও সৌদি আরবের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের দাবি, মক্কা অভিমুখে ছোড়া একটি ড্রোন সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে। ঘটনাটির তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি)। তবে হামলার অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে হুতিরা। তাদের ভাষায়, মক্কাকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ ‘পুরোনো মিথ্যা’।

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জানায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মক্কার কাছে একটি ড্রোন শনাক্ত করা হয়। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটের দিকে ড্রোনটি শনাক্তের পর নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই সেটি ধ্বংস করা হয়। পরে এর ধ্বংসাবশেষ মক্কার দক্ষিণে পড়ে বলে দাবি করেছে জোট।

জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি বলেন, ড্রোনটি ইয়েমেনের হুতিদের ছোড়া এবং এটি মক্কাকে লক্ষ্য করে চালানো দ্বিতীয় হামলার চেষ্টা। তার ভাষ্য, দুই পবিত্র মসজিদ ও হজযাত্রীদের নিরাপত্তা সৌদি আরবের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের হামলা ঠেকাতে ভবিষ্যতেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

মক্কাকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ অবশ্য নতুন নয়। সৌদি আরব এর আগে ২০১৭ সালের ২৭ জুলাইও হুতিদের বিরুদ্ধে মক্কার দিকে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার অভিযোগ করেছিল।

অভিযোগ উড়িয়ে দিল হুতিরা

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বক্তব্যের বিপরীতে হুতিদের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য হাজেম আল-আসাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে অভিযোগটি প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি মক্কাকে লক্ষ্য করে হামলার দাবি ‘পুরোনো মিথ্যা’ বলে মন্তব্য করেন।

হাজেম আল-আসাদের দাবি, একই ধরনের অভিযোগ আগেও সামনে আনা হয়েছে। এখন এ ধরনের বক্তব্য দিয়ে কাউকে বিভ্রান্ত করা সম্ভব হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

পাশে দাঁড়াল ওআইসি

ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৌদি আরবের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা। মক্কা ও মদিনা অঞ্চলে হুতিদের হামলার অভিযোগের পাশাপাশি সৌদি আরবের বিরুদ্ধে চলমান হামলারও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সংস্থাটি।

ওআইসির মহাসচিবালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, পবিত্র স্থান ও মসজিদকে লক্ষ্য করে হামলা বেসামরিক মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করে এবং এসব স্থানের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে। একই সঙ্গে এ ধরনের কর্মকাণ্ড বিশ্বের মুসলমানদের অনুভূতিতে আঘাত করে।

সংস্থাটি আরও বলেছে, পবিত্র স্থান, উপাসনালয় ও বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা ইসলামি মূল্যবোধ এবং আন্তর্জাতিক আইন ও নীতির পরিপন্থি। পবিত্র স্থানগুলোর মর্যাদা রক্ষায় দায়ীদের প্রতিহত করার আহ্বান জানিয়েছে ওআইসি।

সৌদি আরবের জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রিয়াদ যেসব পদক্ষেপ নেবে, তার প্রতি সমর্থনও জানিয়েছে সংস্থাটি।

বাড়ছে হামলা-পাল্টা হামলা

এর আগে মঙ্গলবার সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছিল, হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় খামিস মুশাইত, আবহা ও তাইফে ১৩ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন। হামলায় সাতটি বাড়ি ও দুটি যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।

ইয়েমেনের সংঘাতের শিকড় কয়েক বছর আগের। ২০১৪ সালে হুতিরা রাজধানী সানা ও দেশের কয়েকটি অঞ্চল নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর দেশটিতে যুদ্ধ শুরু হয়। পরের বছর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিতে সৌদি নেতৃত্বাধীন আরব জোট ইয়েমেনে সামরিক হস্তক্ষেপ করে। এরপর থেকে দুই পক্ষের সংঘাত আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপরও প্রভাব ফেলছে।

মক্কাকে ঘিরে সর্বশেষ এই অভিযোগ ও পাল্টা অস্বীকার সেই দীর্ঘ সংঘাতের মধ্যেই নতুন করে উত্তেজনার মাত্রা বাড়িয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় খবর
Business Times24

মক্কামুখী ড্রোনে নতুন উত্তেজনা, হুতিদের অস্বীকার

Update Time : ০৯:৫৫:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পবিত্র নগরী মক্কাকে ঘিরে ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী ও সৌদি আরবের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের দাবি, মক্কা অভিমুখে ছোড়া একটি ড্রোন সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে। ঘটনাটির তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি)। তবে হামলার অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে হুতিরা। তাদের ভাষায়, মক্কাকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ ‘পুরোনো মিথ্যা’।

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জানায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মক্কার কাছে একটি ড্রোন শনাক্ত করা হয়। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটের দিকে ড্রোনটি শনাক্তের পর নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই সেটি ধ্বংস করা হয়। পরে এর ধ্বংসাবশেষ মক্কার দক্ষিণে পড়ে বলে দাবি করেছে জোট।

জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি বলেন, ড্রোনটি ইয়েমেনের হুতিদের ছোড়া এবং এটি মক্কাকে লক্ষ্য করে চালানো দ্বিতীয় হামলার চেষ্টা। তার ভাষ্য, দুই পবিত্র মসজিদ ও হজযাত্রীদের নিরাপত্তা সৌদি আরবের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের হামলা ঠেকাতে ভবিষ্যতেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

মক্কাকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ অবশ্য নতুন নয়। সৌদি আরব এর আগে ২০১৭ সালের ২৭ জুলাইও হুতিদের বিরুদ্ধে মক্কার দিকে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার অভিযোগ করেছিল।

অভিযোগ উড়িয়ে দিল হুতিরা

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বক্তব্যের বিপরীতে হুতিদের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য হাজেম আল-আসাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে অভিযোগটি প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি মক্কাকে লক্ষ্য করে হামলার দাবি ‘পুরোনো মিথ্যা’ বলে মন্তব্য করেন।

হাজেম আল-আসাদের দাবি, একই ধরনের অভিযোগ আগেও সামনে আনা হয়েছে। এখন এ ধরনের বক্তব্য দিয়ে কাউকে বিভ্রান্ত করা সম্ভব হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

পাশে দাঁড়াল ওআইসি

ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৌদি আরবের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা। মক্কা ও মদিনা অঞ্চলে হুতিদের হামলার অভিযোগের পাশাপাশি সৌদি আরবের বিরুদ্ধে চলমান হামলারও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সংস্থাটি।

ওআইসির মহাসচিবালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, পবিত্র স্থান ও মসজিদকে লক্ষ্য করে হামলা বেসামরিক মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করে এবং এসব স্থানের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে। একই সঙ্গে এ ধরনের কর্মকাণ্ড বিশ্বের মুসলমানদের অনুভূতিতে আঘাত করে।

সংস্থাটি আরও বলেছে, পবিত্র স্থান, উপাসনালয় ও বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা ইসলামি মূল্যবোধ এবং আন্তর্জাতিক আইন ও নীতির পরিপন্থি। পবিত্র স্থানগুলোর মর্যাদা রক্ষায় দায়ীদের প্রতিহত করার আহ্বান জানিয়েছে ওআইসি।

সৌদি আরবের জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রিয়াদ যেসব পদক্ষেপ নেবে, তার প্রতি সমর্থনও জানিয়েছে সংস্থাটি।

বাড়ছে হামলা-পাল্টা হামলা

এর আগে মঙ্গলবার সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছিল, হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় খামিস মুশাইত, আবহা ও তাইফে ১৩ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন। হামলায় সাতটি বাড়ি ও দুটি যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।

ইয়েমেনের সংঘাতের শিকড় কয়েক বছর আগের। ২০১৪ সালে হুতিরা রাজধানী সানা ও দেশের কয়েকটি অঞ্চল নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর দেশটিতে যুদ্ধ শুরু হয়। পরের বছর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিতে সৌদি নেতৃত্বাধীন আরব জোট ইয়েমেনে সামরিক হস্তক্ষেপ করে। এরপর থেকে দুই পক্ষের সংঘাত আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপরও প্রভাব ফেলছে।

মক্কাকে ঘিরে সর্বশেষ এই অভিযোগ ও পাল্টা অস্বীকার সেই দীর্ঘ সংঘাতের মধ্যেই নতুন করে উত্তেজনার মাত্রা বাড়িয়েছে।