সরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য বৈদ্যুতিক গাড়ি কেনায় সর্বোচ্চ ব্যয়ের সীমা নির্ধারণ করতে যাচ্ছে অর্থ মন্ত্রণালয়। কর্মকর্তার গ্রেড ও গাড়ির ধরন অনুযায়ী এ সীমা হবে ৫০ লাখ থেকে ৭৫ লাখ টাকা। একই সঙ্গে মোটর পাওয়ার, ব্যাটারি সক্ষমতা, রেঞ্জ ও ফাস্ট চার্জিং সুবিধার ন্যূনতম মানও বেঁধে দেওয়া হচ্ছে।
এ-সংক্রান্ত পরিপত্র বৃহস্পতিবারের মধ্যে জারি হতে পারে। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে রেজিস্ট্রেশন, ভ্যাট ও ট্যাক্সসহ নির্ধারিত সীমার বেশি দামে সরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য বৈদ্যুতিক গাড়ি কেনা যাবে না।
অফিসের দৈনন্দিন ব্যবহার ও কর্মকর্তাদের জন্য কার কিনতে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা ব্যয় করা যাবে। এসব গাড়িতে কমপক্ষে ৯৫ কিলোওয়াট মোটর, ৫০ কিলোওয়াট-আওয়ার ব্যাটারি, এক চার্জে ৪০০ কিলোমিটার চলার সক্ষমতা এবং ৮০ কিলোওয়াট ডিসি ফাস্ট চার্জিং সুবিধা থাকতে হবে।
গ্রেড-৩ ও তদনিম্ন কর্মকর্তাদের জন্য জিপের ব্যয়সীমা রাখা হয়েছে ৫৫ লাখ টাকা। এ শ্রেণির গাড়িতে ন্যূনতম ১৫০ কিলোওয়াট মোটর, ৫৫ কিলোওয়াট-আওয়ার ব্যাটারি, ৪০০ কিলোমিটার রেঞ্জ এবং ৮০ কিলোওয়াট ফাস্ট চার্জিং সুবিধা থাকতে হবে।
গ্রেড-২ ও তদূর্ধ্ব কর্মকর্তাদের জিপ কেনায় সর্বোচ্চ ৭৫ লাখ টাকা ব্যয় করা যাবে। এসব গাড়িতে অন্তত ২০০ কিলোওয়াট মোটর পাওয়ার, ৫৫ কিলোওয়াট-আওয়ার ব্যাটারি, ৪৩০ কিলোমিটার রেঞ্জ এবং ৮০ কিলোওয়াট ফাস্ট চার্জিং সুবিধা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।
সব শ্রেণির বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারিতে কমপক্ষে আট বছরের ওয়ারেন্টি থাকতে হবে। সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে যানবাহনের বাজেট অনুমোদন ও অর্থ বরাদ্দের সময়ও এ মূল্যসীমা অনুসরণ করতে হবে।
গাড়ি কেনায় আগেই কড়াকড়ি
চলতি অর্থবছরে সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণের অংশ হিসেবে গত ৮ জুলাই নতুন গাড়ি কেনায় বিধিনিষেধ আরোপ করে অর্থ মন্ত্রণালয়। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের পরিচালন বাজেটের আওতায় মোটরযান, জলযান ও আকাশযানসহ সব ধরনের যানবাহন কেনা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
তবে ১০ বছরের বেশি পুরোনো যানবাহন প্রতিস্থাপন এবং নবগঠিত প্রতিষ্ঠানের টিওঅ্যান্ডইভুক্ত যানবাহন অর্থ বিভাগের অনুমোদন নিয়ে কেনার সুযোগ রাখা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে অ্যাম্বুলেন্স ও নিরাপত্তার গাড়ি ছাড়া নতুন কেনা জিপ ও কার পূর্ণ বৈদ্যুতিক হতে হবে।
পরে ২৫ আগস্ট অর্থ বিভাগে সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও গণখাতের বিভিন্ন সংস্থার জন্য গাড়ির মূল্য নির্ধারণ নিয়ে বৈঠক হয়। ওই বৈঠকের ধারাবাহিকতায় এখন গাড়ির শ্রেণিভেদে সর্বোচ্চ মূল্য ও কারিগরি মান নির্ধারণ করা হচ্ছে।
জ্বালানি আমদানির চাপ কমানোর যুক্তি
বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদের হিসাবে, দেশে যানবাহন চলাচলে বছরে প্রায় ৬৫ হাজার কোটি টাকার জ্বালানি ব্যয় হয়। পরিবহন খাতের জ্বালানির বড় অংশ আমদানিনির্ভর হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে এর সরাসরি প্রভাব পড়ে দেশের অর্থনীতিতে।
তার মতে, বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার বাড়লে আমদানি করা জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি সরকারি ব্যয়ও কিছুটা সাশ্রয় হতে পারে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু গাড়ি আমদানি বাড়ালেই হবে না। বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার বাড়াতে চার্জিং স্টেশন সম্প্রসারণ, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, মানসম্মত ব্যাটারি, নির্ভরযোগ্য তথ্যভান্ডার এবং সহজ আমদানি ও শুল্ক কাঠামো নিশ্চিত করতে হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক 























