১২:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এআইয়ের লাগাম নয়, চীনকে হারাতে গতি বাড়ানোর পক্ষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট

The gallery was not found!

এআই নিয়ে বিশ্বজুড়ে যখন নিরাপত্তা ঝুঁকির সতর্কতা জোরালো হচ্ছে, তখন উল্টো পথে হাঁটছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নতুন মডেল তৈরির গতি কমানো তো দূরের কথা, কঠোর সরকারি নিয়ন্ত্রণের দাবিও নাকচ করেছেন তিনি। তাঁর লক্ষ্য স্পষ্ট—চীনকে পেছনে ফেলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় যুক্তরাষ্ট্রের একচ্ছত্র নেতৃত্ব ধরে রাখা।

আয়ারল্যান্ড সফররত ট্রাম্পকে সাংবাদিকেরা প্রশ্ন করেন, এআই খাতের দ্রুত অগ্রগতি ধীর করা কিংবা এর ওপর কঠোর সরকারি নীতিমালা আরোপ করা উচিত কি না। জবাবে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এআই প্রযুক্তিতে চীনকে পেছনে ফেলে এগিয়ে আছে এবং এই নেতৃত্ব ধরে রাখতে চান তিনি।

ট্রাম্পের মতে, যারা এআই প্রযুক্তিতে এগিয়ে থাকবে, তারাই ভবিষ্যতে বিশ্বে নেতৃত্ব দেবে। তাই যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রতিযোগিতায় থেমে যাওয়ার সুযোগ নেই। তবে প্রয়োজন হলে কিছু নিরাপত্তা নির্দেশিকা বা সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে বলেও স্বীকার করেন তিনি।

এআই নিয়ে তৈরি হওয়া নানা আশঙ্কাকে অবশ্য অতিরঞ্জিত বলে মনে করেন ট্রাম্প। তাঁর অভিযোগ, কিছু ‘নেতিবাচক শক্তি’ প্রযুক্তিটির সম্ভাব্য ভয়াবহতা নিয়ে অপ্রয়োজনীয় আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, এসব আশঙ্কার অনেক কিছুই বাস্তবে কখনো ঘটবে না।

ট্রাম্প যখন এআইয়ের গতি ধরে রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, তখন প্রযুক্তি বিশ্বের শীর্ষ ব্যক্তিরাই দিচ্ছেন বিপরীত বার্তা। এআইয়ের দ্রুত বিকাশ কিছুটা ধীর করার পক্ষে একমত হয়েছেন অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেই, ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান এবং এক্সএআইয়ের মালিক ইলন মাস্ক।

শনিবার এক ব্লগ পোস্টে আমোদেই বলেন, এআই মডেলগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির গতি কমানো প্রয়োজন। তাঁর মতে, গতি কিছুটা কমালেও প্রযুক্তির অগ্রগতি যথেষ্ট দ্রুত থাকবে। তবে সেই অতিরিক্ত সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজে ব্যবহার করা জরুরি।

এআই মডেলের নিজেদের সক্ষমতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়েও সতর্ক করেন আমোদেই। তাঁর আশঙ্কা, এমন প্রযুক্তি দ্রুত মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

আমোদেইয়ের বক্তব্য প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে সমর্থন জানান অল্টম্যান ও মাস্ক। অল্টম্যান বলেন, এআইয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধির গতি কিছুটা সামঞ্জস্য করা দরকার। পাশাপাশি এআই নিরাপত্তা মূল্যায়নে স্বাধীন তৃতীয় পক্ষকে পূর্ণ সুযোগ দেওয়ার পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান তিনি। মাস্কও সংক্ষিপ্ত মন্তব্যে বলেন, আমোদেই যথার্থই বলেছেন।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, নিরাপত্তাব্যবস্থা পুরোপুরি প্রস্তুত হওয়ার আগেই আরও শক্তিশালী এআই মডেল বাজারে এলে সাইবার হামলা, নিয়ন্ত্রণ হারানো এবং অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

অন্যদিকে ট্রাম্পের যুক্তি, যুক্তরাষ্ট্র গতি কমালে সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে চীন এআই প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যেতে পারে। ফলে এআইয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন একদিকে নিরাপত্তার সতর্কতা, অন্যদিকে বৈশ্বিক আধিপত্যের প্রতিযোগিতা—দুইয়ের মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় খবর
Business Times24

এআইয়ের লাগাম নয়, চীনকে হারাতে গতি বাড়ানোর পক্ষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট

Update Time : ০৯:০২:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এআই নিয়ে বিশ্বজুড়ে যখন নিরাপত্তা ঝুঁকির সতর্কতা জোরালো হচ্ছে, তখন উল্টো পথে হাঁটছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নতুন মডেল তৈরির গতি কমানো তো দূরের কথা, কঠোর সরকারি নিয়ন্ত্রণের দাবিও নাকচ করেছেন তিনি। তাঁর লক্ষ্য স্পষ্ট—চীনকে পেছনে ফেলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় যুক্তরাষ্ট্রের একচ্ছত্র নেতৃত্ব ধরে রাখা।

আয়ারল্যান্ড সফররত ট্রাম্পকে সাংবাদিকেরা প্রশ্ন করেন, এআই খাতের দ্রুত অগ্রগতি ধীর করা কিংবা এর ওপর কঠোর সরকারি নীতিমালা আরোপ করা উচিত কি না। জবাবে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এআই প্রযুক্তিতে চীনকে পেছনে ফেলে এগিয়ে আছে এবং এই নেতৃত্ব ধরে রাখতে চান তিনি।

ট্রাম্পের মতে, যারা এআই প্রযুক্তিতে এগিয়ে থাকবে, তারাই ভবিষ্যতে বিশ্বে নেতৃত্ব দেবে। তাই যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রতিযোগিতায় থেমে যাওয়ার সুযোগ নেই। তবে প্রয়োজন হলে কিছু নিরাপত্তা নির্দেশিকা বা সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে বলেও স্বীকার করেন তিনি।

এআই নিয়ে তৈরি হওয়া নানা আশঙ্কাকে অবশ্য অতিরঞ্জিত বলে মনে করেন ট্রাম্প। তাঁর অভিযোগ, কিছু ‘নেতিবাচক শক্তি’ প্রযুক্তিটির সম্ভাব্য ভয়াবহতা নিয়ে অপ্রয়োজনীয় আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, এসব আশঙ্কার অনেক কিছুই বাস্তবে কখনো ঘটবে না।

ট্রাম্প যখন এআইয়ের গতি ধরে রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, তখন প্রযুক্তি বিশ্বের শীর্ষ ব্যক্তিরাই দিচ্ছেন বিপরীত বার্তা। এআইয়ের দ্রুত বিকাশ কিছুটা ধীর করার পক্ষে একমত হয়েছেন অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেই, ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান এবং এক্সএআইয়ের মালিক ইলন মাস্ক।

শনিবার এক ব্লগ পোস্টে আমোদেই বলেন, এআই মডেলগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির গতি কমানো প্রয়োজন। তাঁর মতে, গতি কিছুটা কমালেও প্রযুক্তির অগ্রগতি যথেষ্ট দ্রুত থাকবে। তবে সেই অতিরিক্ত সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজে ব্যবহার করা জরুরি।

এআই মডেলের নিজেদের সক্ষমতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়েও সতর্ক করেন আমোদেই। তাঁর আশঙ্কা, এমন প্রযুক্তি দ্রুত মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

আমোদেইয়ের বক্তব্য প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে সমর্থন জানান অল্টম্যান ও মাস্ক। অল্টম্যান বলেন, এআইয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধির গতি কিছুটা সামঞ্জস্য করা দরকার। পাশাপাশি এআই নিরাপত্তা মূল্যায়নে স্বাধীন তৃতীয় পক্ষকে পূর্ণ সুযোগ দেওয়ার পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান তিনি। মাস্কও সংক্ষিপ্ত মন্তব্যে বলেন, আমোদেই যথার্থই বলেছেন।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, নিরাপত্তাব্যবস্থা পুরোপুরি প্রস্তুত হওয়ার আগেই আরও শক্তিশালী এআই মডেল বাজারে এলে সাইবার হামলা, নিয়ন্ত্রণ হারানো এবং অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

অন্যদিকে ট্রাম্পের যুক্তি, যুক্তরাষ্ট্র গতি কমালে সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে চীন এআই প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যেতে পারে। ফলে এআইয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন একদিকে নিরাপত্তার সতর্কতা, অন্যদিকে বৈশ্বিক আধিপত্যের প্রতিযোগিতা—দুইয়ের মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হয়েছে।