০৯:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এবার মোদির নতুন মাথাব্যথা ‘দিমাগি নকশাল’

The gallery was not found!

ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দেওয়া বক্তব্যে একদল মানুষকে ‘দিমাগি নকশাল’ আখ্যা দিয়েছিলেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

এরপর থেকে ভারতীয়দের মধ্যে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে এই শব্দযুগল।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘দিমাগি নকশাল’ ট্রেন্ডিং হতে থাকে। শব্দ দুটি নিয়ে তৈরি হয় অসংখ্য হ্যাশট্যাগ। শত শত পোস্টও আসছে এ নিয়ে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) এনডিটিভি, টাইমস অব ইন্ডিয়াসহ ভারতের একাধিক গণমাধ্যমে বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

নকশালপন্থিদের সশস্ত্র বিদ্রোহ দমনের বিষয়টি নিয়ে কথা বলার সময় মোদি সতর্ক করেন, আদর্শগত হুমকি এখনো দূর হয়নি।

তিনি বলেন, অস্ত্রধারী নকশালদের নির্মূল করা গেলেও সমাজ থেকে দিমাগি নকশালদের চিহ্নিত করে বিচ্ছিন্ন করার সময় এসেছে।

তার এই মন্তব্যের জেরে শুরু হয় রাজনৈতিক বিতর্ক। ‘দিমাগি নকশাল’ বলতে ঠিক কাদের কথা বুঝিয়েছেন মোদি, তা নিয়ে শুরু হয় জল্পনা-কল্পনা।

অল্প সময়ের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করে ‘দিমাগি নকশাল পার্টি’ নামের একটি পেজ। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হাজারো ফলোয়ার, পোস্ট ও রিঅ্যাকশন পায় পেজটি।

অনেকের মনেই প্রশ্ন আসে, এই ‘দিমাগি নকশাল পার্টিও’ কি ককরোচ জনতা পার্টির মতো নরেন্দ্র মোদির জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠতে চলেছে?

তবে এই অ্যাকাউন্টের নেপথ্যে কে আছেন, তা জানা যায়নি। হ্যাকারদের হামলার শিকার হওয়ার অভিযোগও করেছেন কেউ কেউ।

জেন জি ভাষা, মিম, ব্যঙ্গ ও রাজনৈতিক বার্তার মিশেলে তৈরি প্ল্যাটফর্মটি নেটিজেনদের নজর কেড়ে নেয়।

এর আগে একই কায়দায় সুপ্রিম কোর্টের এক বিচারপতির মন্তব্যের জেরে ককরোচ জনতা পার্টির জন্ম হয়েছিল।

মে মাসে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এক উন্মুক্ত আদালতে মন্তব্য করেন, কিছু ‘পরজীবী’ রাষ্ট্রব্যবস্থাকে আক্রমণ করছে। তিনি কিছু তরুণকে ‘আরশোলা বা তেলাপোকা’র সঙ্গে তুলনা করে বলেন, যাদের চাকরি নেই, পেশায় কোনো জায়গা নেই, তারা মিডিয়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কর্মী, আরটিআই অ্যাকটিভিস্ট বা অন্য কর্মী হয়ে সবাইকে আক্রমণ শুরু করে।

এই মন্তব্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়, বিশেষ করে জেন জি প্রজন্মের মধ্যে। বেকারত্ব, মূল্যস্ফীতি এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের দীর্ঘ শাসন নিয়ে আগে থেকেই হতাশ তরুণদের একাংশ বিচারপতির মন্তব্যে আরও ক্ষুব্ধ হন।

ক্ষোভ বাড়তে থাকলে এক্সে (সাবেক টুইটার) যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ইউনিভার্সিটি থেকে জনসংযোগ বিষয়ে সদ্য স্নাতক হওয়া ৩০ বছর বয়সী অভিজিৎ দীপকে লেখেন, ‘যদি সব তেলাপোকা এক হয়ে যায়?

এরপর তিনি ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামে ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যাকাউন্ট খোলেন। এটি মূলত মোদির দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নামের ব্যঙ্গাত্মক রূপ। বাকিটা ইতিহাস।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় খবর
Business Times24

এবার মোদির নতুন মাথাব্যথা ‘দিমাগি নকশাল’

Update Time : ০৮:৫৯:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দেওয়া বক্তব্যে একদল মানুষকে ‘দিমাগি নকশাল’ আখ্যা দিয়েছিলেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

এরপর থেকে ভারতীয়দের মধ্যে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে এই শব্দযুগল।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘দিমাগি নকশাল’ ট্রেন্ডিং হতে থাকে। শব্দ দুটি নিয়ে তৈরি হয় অসংখ্য হ্যাশট্যাগ। শত শত পোস্টও আসছে এ নিয়ে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) এনডিটিভি, টাইমস অব ইন্ডিয়াসহ ভারতের একাধিক গণমাধ্যমে বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

নকশালপন্থিদের সশস্ত্র বিদ্রোহ দমনের বিষয়টি নিয়ে কথা বলার সময় মোদি সতর্ক করেন, আদর্শগত হুমকি এখনো দূর হয়নি।

তিনি বলেন, অস্ত্রধারী নকশালদের নির্মূল করা গেলেও সমাজ থেকে দিমাগি নকশালদের চিহ্নিত করে বিচ্ছিন্ন করার সময় এসেছে।

তার এই মন্তব্যের জেরে শুরু হয় রাজনৈতিক বিতর্ক। ‘দিমাগি নকশাল’ বলতে ঠিক কাদের কথা বুঝিয়েছেন মোদি, তা নিয়ে শুরু হয় জল্পনা-কল্পনা।

অল্প সময়ের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করে ‘দিমাগি নকশাল পার্টি’ নামের একটি পেজ। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হাজারো ফলোয়ার, পোস্ট ও রিঅ্যাকশন পায় পেজটি।

অনেকের মনেই প্রশ্ন আসে, এই ‘দিমাগি নকশাল পার্টিও’ কি ককরোচ জনতা পার্টির মতো নরেন্দ্র মোদির জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠতে চলেছে?

তবে এই অ্যাকাউন্টের নেপথ্যে কে আছেন, তা জানা যায়নি। হ্যাকারদের হামলার শিকার হওয়ার অভিযোগও করেছেন কেউ কেউ।

জেন জি ভাষা, মিম, ব্যঙ্গ ও রাজনৈতিক বার্তার মিশেলে তৈরি প্ল্যাটফর্মটি নেটিজেনদের নজর কেড়ে নেয়।

এর আগে একই কায়দায় সুপ্রিম কোর্টের এক বিচারপতির মন্তব্যের জেরে ককরোচ জনতা পার্টির জন্ম হয়েছিল।

মে মাসে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এক উন্মুক্ত আদালতে মন্তব্য করেন, কিছু ‘পরজীবী’ রাষ্ট্রব্যবস্থাকে আক্রমণ করছে। তিনি কিছু তরুণকে ‘আরশোলা বা তেলাপোকা’র সঙ্গে তুলনা করে বলেন, যাদের চাকরি নেই, পেশায় কোনো জায়গা নেই, তারা মিডিয়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কর্মী, আরটিআই অ্যাকটিভিস্ট বা অন্য কর্মী হয়ে সবাইকে আক্রমণ শুরু করে।

এই মন্তব্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়, বিশেষ করে জেন জি প্রজন্মের মধ্যে। বেকারত্ব, মূল্যস্ফীতি এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের দীর্ঘ শাসন নিয়ে আগে থেকেই হতাশ তরুণদের একাংশ বিচারপতির মন্তব্যে আরও ক্ষুব্ধ হন।

ক্ষোভ বাড়তে থাকলে এক্সে (সাবেক টুইটার) যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ইউনিভার্সিটি থেকে জনসংযোগ বিষয়ে সদ্য স্নাতক হওয়া ৩০ বছর বয়সী অভিজিৎ দীপকে লেখেন, ‘যদি সব তেলাপোকা এক হয়ে যায়?

এরপর তিনি ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামে ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যাকাউন্ট খোলেন। এটি মূলত মোদির দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নামের ব্যঙ্গাত্মক রূপ। বাকিটা ইতিহাস।