১২:০১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বনশ্রী-আফতাবনগরে দৃষ্টিনন্দন স্টিল ফুটব্রিজ উন্মুক্ত

The gallery was not found!

রাজধানীর বনশ্রী-আফতাবনগর এলাকায় নির্মিত ২ নম্বর স্টিল ফুটব্রিজ জনসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিজটি উদ্বোধন করা হয়। এর ফলে স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী ও পথচারীদের খাল পারাপারে নিরাপদ ও সহজ যাতায়াতের সুযোগ তৈরি হলো।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, জনগণের যোগাযোগব্যবস্থা সহজ করা এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে নেওয়া উদ্যোগগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বনশ্রী-আফতাবনগর এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তিনটি ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রশাসক বলেন, এ এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা সহজ করা, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা এবং মূল সড়কের যানজট কমানোর লক্ষ্যেই তিনটি ব্রিজ নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২ নম্বর স্টিল ব্রিজের নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করে জনগণের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, বাকি দুটি ব্রিজ নির্মাণে ভারী যন্ত্রপাতি বিদেশ থেকে জাহাজে আনার কারণে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। তবে দেশীয় যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ২ নম্বর ব্রিজের নির্মাণকাজ দ্রুত সম্পন্ন করা হয়েছে।

ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, নতুন ব্রিজটি শুধু যোগাযোগব্যবস্থা সহজ করবে না, এলাকার মানুষের নিরাপদ চলাচলেও ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে ব্রিজ ও আশপাশের পরিবেশ রক্ষায় স্থানীয় বাসিন্দাদের দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ব্রিজের নিচের খাল ও আশপাশে ময়লা-আবর্জনা না ফেলার অনুরোধ জানিয়ে শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ডিএনসিসি খালটি পরিষ্কার ও সংস্কারের উদ্যোগ নেবে। খালটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং যথাযথভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা গেলে এলাকাটি আরও নান্দনিক ও পর্যটনবান্ধব হয়ে উঠতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ‘ক্লিন ঢাকা, গ্রিন ঢাকা’ বাস্তবায়নে শুধু বৃক্ষরোপণ যথেষ্ট নয়, নগরীর পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখাও জরুরি। এ কাজে আফতাবনগর ও বনশ্রীবাসীর সহযোগিতা প্রয়োজন। একই সঙ্গে নগর উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে নাগরিকদের নিয়মিত কর পরিশোধের আহ্বান জানান তিনি।

ডিএনসিসি সূত্র জানায়, মূল সড়কে যানজট কমানো এবং এমআরটি প্রকল্পের কাজ চলাকালে বিকল্প যাতায়াত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ব্রিজটির পাশে আরও দুটি স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণের কাজ চলছে। এসব ব্রিজ দিয়ে ভারী যানবাহনও চলাচল করতে পারবে। বাকি দুটি ব্রিজের নির্মাণকাজও দ্রুত শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় ২ নম্বর স্টিল ফুটব্রিজের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।

ডিএনসিসির অর্থায়নে ও নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে মোট ৮৯ কোটি ৫৪ লাখ টাকা ব্যয়ে তিনটি ব্রিজ নির্মাণের প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় আইডিয়াল স্কুল সংলগ্ন ১ নম্বর ব্রিজটির প্রস্থ ১৫ দশমিক ৪০ মিটার ও দৈর্ঘ্য ৩৮ মিটার। ফরাজী হাসপাতাল সংলগ্ন ২ নম্বর ব্রিজটির প্রস্থ ৩ দশমিক ৮০ মিটার ও দৈর্ঘ্য ৪২ মিটার। আর মেরাদিয়া বাজার সংলগ্ন ৩ নম্বর ব্রিজটির প্রস্থ ১৫ দশমিক ৪০ মিটার ও দৈর্ঘ্য ৪৯ মিটার।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামানের সভাপতিত্বে প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. রাকিব হাসান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস, প্রকল্প পরিচালকসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় খবর

জলবায়ু ঝুঁকির দেশগুলোর জন্য সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

Business Times24

বনশ্রী-আফতাবনগরে দৃষ্টিনন্দন স্টিল ফুটব্রিজ উন্মুক্ত

Update Time : ০৮:০৯:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজধানীর বনশ্রী-আফতাবনগর এলাকায় নির্মিত ২ নম্বর স্টিল ফুটব্রিজ জনসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিজটি উদ্বোধন করা হয়। এর ফলে স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী ও পথচারীদের খাল পারাপারে নিরাপদ ও সহজ যাতায়াতের সুযোগ তৈরি হলো।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, জনগণের যোগাযোগব্যবস্থা সহজ করা এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে নেওয়া উদ্যোগগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বনশ্রী-আফতাবনগর এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তিনটি ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রশাসক বলেন, এ এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা সহজ করা, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা এবং মূল সড়কের যানজট কমানোর লক্ষ্যেই তিনটি ব্রিজ নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২ নম্বর স্টিল ব্রিজের নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করে জনগণের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, বাকি দুটি ব্রিজ নির্মাণে ভারী যন্ত্রপাতি বিদেশ থেকে জাহাজে আনার কারণে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। তবে দেশীয় যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ২ নম্বর ব্রিজের নির্মাণকাজ দ্রুত সম্পন্ন করা হয়েছে।

ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, নতুন ব্রিজটি শুধু যোগাযোগব্যবস্থা সহজ করবে না, এলাকার মানুষের নিরাপদ চলাচলেও ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে ব্রিজ ও আশপাশের পরিবেশ রক্ষায় স্থানীয় বাসিন্দাদের দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ব্রিজের নিচের খাল ও আশপাশে ময়লা-আবর্জনা না ফেলার অনুরোধ জানিয়ে শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ডিএনসিসি খালটি পরিষ্কার ও সংস্কারের উদ্যোগ নেবে। খালটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং যথাযথভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা গেলে এলাকাটি আরও নান্দনিক ও পর্যটনবান্ধব হয়ে উঠতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ‘ক্লিন ঢাকা, গ্রিন ঢাকা’ বাস্তবায়নে শুধু বৃক্ষরোপণ যথেষ্ট নয়, নগরীর পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখাও জরুরি। এ কাজে আফতাবনগর ও বনশ্রীবাসীর সহযোগিতা প্রয়োজন। একই সঙ্গে নগর উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে নাগরিকদের নিয়মিত কর পরিশোধের আহ্বান জানান তিনি।

ডিএনসিসি সূত্র জানায়, মূল সড়কে যানজট কমানো এবং এমআরটি প্রকল্পের কাজ চলাকালে বিকল্প যাতায়াত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ব্রিজটির পাশে আরও দুটি স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণের কাজ চলছে। এসব ব্রিজ দিয়ে ভারী যানবাহনও চলাচল করতে পারবে। বাকি দুটি ব্রিজের নির্মাণকাজও দ্রুত শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় ২ নম্বর স্টিল ফুটব্রিজের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।

ডিএনসিসির অর্থায়নে ও নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে মোট ৮৯ কোটি ৫৪ লাখ টাকা ব্যয়ে তিনটি ব্রিজ নির্মাণের প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় আইডিয়াল স্কুল সংলগ্ন ১ নম্বর ব্রিজটির প্রস্থ ১৫ দশমিক ৪০ মিটার ও দৈর্ঘ্য ৩৮ মিটার। ফরাজী হাসপাতাল সংলগ্ন ২ নম্বর ব্রিজটির প্রস্থ ৩ দশমিক ৮০ মিটার ও দৈর্ঘ্য ৪২ মিটার। আর মেরাদিয়া বাজার সংলগ্ন ৩ নম্বর ব্রিজটির প্রস্থ ১৫ দশমিক ৪০ মিটার ও দৈর্ঘ্য ৪৯ মিটার।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামানের সভাপতিত্বে প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. রাকিব হাসান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস, প্রকল্প পরিচালকসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।