বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান সংঘাত ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ভাষণে ইরান, হরমুজ প্রণালি, জ্বালানি সংকট ও গ্রিনল্যান্ডসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভার পর দ্বিতীয় বিশ্বনেতা হিসেবে সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দেন ট্রাম্প। ইরান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশটি নিয়ে তাকে একটি ‘বড় সিদ্ধান্ত’ নিতে হবে। তবে সেই সিদ্ধান্ত আগামী মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর নেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।
ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার নিন্দা জানিয়ে নিরাপত্তা পরিষদের নেওয়া পদক্ষেপের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে ইরানের ওপর চাপ অব্যাহত রাখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।
ট্রাম্প দাবি করেন, সম্প্রতি মার্কিন নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালি দিয়ে ১০০ কোটি ব্যারেলের বেশি তেল পরিবহনে নিরাপত্তা দিয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর যেকোনো সময়ের তুলনায় বর্তমানে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে বেশি তেল পরিবহন হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এরপর ইরান প্রসঙ্গে নিজের সম্ভাব্য সিদ্ধান্তের কথা তুলে ধরে ট্রাম্প বলেন, তাঁর সামনে দুটি পথ রয়েছে—ইরানের সঙ্গে এমন একটি চুক্তিতে পৌঁছানো, যার মাধ্যমে দেশটি পুনর্গঠন করে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে; অথবা দেশটির বর্তমান শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া।
তবে ট্রাম্পের বক্তব্যে আলোচনার সম্ভাবনাই স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তিনি বলেন, নির্বাচন শেষ হওয়ার পরপরই ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। তাঁর ভাষ্য, ইরানের জন্য চুক্তি না করার যৌক্তিক কারণ নেই।
ভাষণে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ার তথ্যও প্রত্যাখ্যান করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে এত অস্ত্র রয়েছে যে সেগুলোর সব ব্যবহার করার প্রয়োজনীয়তা সম্ভবত কখনোই তৈরি হবে না।
গ্রিনল্যান্ড নিয়েও বক্তব্য দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সেখানে উপযুক্ত স্থানে দুটি বড় সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের প্রক্রিয়া অবিলম্বে শুরু করার কথা জানান তিনি।

নিজস্ব প্রতিবেদক 





















