০৯:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পর্ষদ ও স্থায়ী এমডি ছাড়াই চলছে ইসলামী ব্যাংক, সিদ্ধান্তে স্থবিরতা

The gallery was not found!

পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ নেই, নেই স্থায়ী ব্যবস্থাপনা পরিচালকও। দেশের বেসরকারি খাতের অন্যতম বড় ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি কয়েক মাস ধরে এমন নেতৃত্বশূন্য অবস্থায় কার্যক্রম চালাচ্ছে। এর প্রভাব পড়েছে ব্যাংকটির গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে।

গত জুন থেকে ব্যাংকটিতে কোনো পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ নেই। এর আগে এপ্রিলে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক খানকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়। এরপর অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আলতাফ হোসেনকে ভারপ্রাপ্ত এমডির দায়িত্ব দেওয়া হয়।

বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জাকির হোসেনকে ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদের দায়িত্ব পালনের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। তবে ব্যাংকটির একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তার দায়িত্ব মূলত দৈনন্দিন ও নিয়মিত কার্যক্রমের সিদ্ধান্তে সীমাবদ্ধ। বড় বা দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ খুবই সীমিত।

কর্মকর্তাদের ভাষ্য, পর্ষদের দায়িত্ব একজন ব্যক্তির হাতে কেন্দ্রীভূত হওয়ায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে বিস্তৃত আলোচনা বা মতবিনিময়ের সুযোগ থাকছে না। ফলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত ঝুলে থাকছে।

জাকির হোসেন জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়মিত দায়িত্বের পাশাপাশি তিনি ইসলামী ব্যাংকের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। তবে পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ কবে গঠন হবে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।

ভারপ্রাপ্ত এমডি মো. আলতাফ হোসেন বলেন, সাধারণভাবে কোনো ব্যাংক তিন মাসের বেশি এমডি ছাড়া চলার কথা নয়। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ অনুমোদনে ইসলামী ব্যাংক পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত এভাবেই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

খেলাপি ঋণ প্রায় ৯৯ হাজার কোটি টাকা

ইসলামী ব্যাংকের নেতৃত্ব সংকট এমন এক সময়ে তৈরি হয়েছে, যখন ব্যাংকটি বড় ধরনের আর্থিক চাপে রয়েছে।

২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপ ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকে এর আর্থিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে। ব্যাংকিং নিয়ম লঙ্ঘন করে গ্রুপটি ইসলামী ব্যাংকের বিপুল পরিমাণ ঋণ নিজেদের ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে নিয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

চলতি বছরের জুন শেষে ইসলামী ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ৯৮ হাজার ৯১৪ কোটি টাকা। এটি ব্যাংকটির বিতরণ করা মোট ঋণের ৫২ দশমিক ১৫ শতাংশ।

২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ব্যাংকটিকে এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণমুক্ত করা হয়। এরপর থেকে ব্যাংকটি সরাসরি বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে।

বর্তমানে ব্যাংকটির বড় অঙ্কের ঋণ বিতরণেও সীমা রয়েছে। ফান্ডেড ও নন-ফান্ডেড সুবিধা মিলিয়ে সর্বোচ্চ ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ দিতে পারে ইসলামী ব্যাংক।

আলতাফ হোসেনের ভাষ্য, বড় বিনিয়োগের সুযোগ সীমিত থাকায় বড় ধরনের সিদ্ধান্তের প্রয়োজনও তুলনামূলক কম। এ কারণেই পূর্ণাঙ্গ পর্ষদ ছাড়াও ব্যাংকের নিয়মিত কার্যক্রম চালানো সম্ভব হচ্ছে।

তবে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের সাবেক চেয়ারম্যান আনিস এ খান মনে করেন, পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ না থাকলে কোনো ব্যাংকের পক্ষে কার্যকর কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়।

তার মতে, পর্ষদের অনুপস্থিতিতে করপোরেট তদারকি দুর্বল হয়। বাজেট অনুমোদন, কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায়ও জটিলতা তৈরি হতে পারে। দীর্ঘদিন এ অবস্থা চললে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মনোবলের পাশাপাশি গ্রাহকের আস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের মেয়াদ নিয়েও অনিশ্চয়তা

পর্ষদ না থাকায় ব্যাংকটির একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার চাকরির মেয়াদ নিয়েও সিদ্ধান্ত আটকে আছে।

অতিরিক্ত এমডি মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন মজুমদার, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মাহবুব আলম এবং সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট আমিনুর রহমানের চুক্তির মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।

মাহবুব আলম ও আমিনুর রহমান আগে অবসরে গেলেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তাদের আবার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।

আগামী অক্টোবরে আরও পাঁচজন উপব্যবস্থাপনা পরিচালকের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। তারা হলেন মাহমুদুর রহমান, মো. রফিকুল ইসলাম, মুহাম্মদ সাঈদ উল্লাহ, কে এম মুনিরুল আলম আল-মামুন এবং মো. মাকসুদুর রহমান।

তাদের চুক্তির মেয়াদ বাড়াতে ইসলামী ব্যাংক ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে চিঠি দিয়েছে। তবে এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখনো সিদ্ধান্ত জানায়নি।

ব্যাংকটির কর্মকর্তাদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে দ্রুত একটি দক্ষ ও গ্রহণযোগ্য পরিচালনা পর্ষদ নিয়োগ দেওয়া জরুরি। তাদের ধারণা, কার্যকর নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজে গতি ফেরার পাশাপাশি গ্রাহকদের আস্থাও বাড়তে পারে।

পর্ষদ গঠনে সতর্ক বাংলাদেশ ব্যাংক

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, আগের পরিচালনা পর্ষদ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হওয়ায় নতুন পর্ষদ গঠনের ক্ষেত্রে এবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক সতর্কভাবে এগোচ্ছে।

গত মে মাসে ইসলামী ব্যাংকের আগের চেয়ারম্যান পদত্যাগ করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশিদ আলমকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

তবে তার নিয়োগের পর ব্যাংকটির সামনে ‘সচেতন গ্রাহক ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন বিক্ষোভ শুরু করে। এতে ব্যাংকের অভ্যন্তরে অস্থিরতা বাড়ে এবং তারল্য পরিস্থিতির ওপরও চাপ তৈরি হয়।

পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক ১৭ হাজার কোটি টাকার সহায়তা দিলেও স্থিতিশীলতা ফেরেনি। পরে ১৪ জুন পুরো পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

আরিফ হোসেন খান বলেন, এবার যাচাই-বাছাই করেই যোগ্য ও স্বচ্ছ ব্যক্তিদের নিয়ে নতুন পর্ষদ গঠনের কাজ চলছে। শিগগিরই ইসলামী ব্যাংকে নতুন এমডি ও পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ নিয়োগ দেওয়া হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তবে নির্দিষ্ট সময়সীমা এখনো জানানো হয়নি। ফলে দেশের অন্যতম বড় বেসরকারি ব্যাংকটি আপাতত পূর্ণাঙ্গ নেতৃত্ব ছাড়াই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় খবর
Business Times24

পর্ষদ ও স্থায়ী এমডি ছাড়াই চলছে ইসলামী ব্যাংক, সিদ্ধান্তে স্থবিরতা

Update Time : ০২:২৯:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ নেই, নেই স্থায়ী ব্যবস্থাপনা পরিচালকও। দেশের বেসরকারি খাতের অন্যতম বড় ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি কয়েক মাস ধরে এমন নেতৃত্বশূন্য অবস্থায় কার্যক্রম চালাচ্ছে। এর প্রভাব পড়েছে ব্যাংকটির গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে।

গত জুন থেকে ব্যাংকটিতে কোনো পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ নেই। এর আগে এপ্রিলে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক খানকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়। এরপর অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আলতাফ হোসেনকে ভারপ্রাপ্ত এমডির দায়িত্ব দেওয়া হয়।

বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জাকির হোসেনকে ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদের দায়িত্ব পালনের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। তবে ব্যাংকটির একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তার দায়িত্ব মূলত দৈনন্দিন ও নিয়মিত কার্যক্রমের সিদ্ধান্তে সীমাবদ্ধ। বড় বা দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ খুবই সীমিত।

কর্মকর্তাদের ভাষ্য, পর্ষদের দায়িত্ব একজন ব্যক্তির হাতে কেন্দ্রীভূত হওয়ায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে বিস্তৃত আলোচনা বা মতবিনিময়ের সুযোগ থাকছে না। ফলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত ঝুলে থাকছে।

জাকির হোসেন জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়মিত দায়িত্বের পাশাপাশি তিনি ইসলামী ব্যাংকের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। তবে পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ কবে গঠন হবে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।

ভারপ্রাপ্ত এমডি মো. আলতাফ হোসেন বলেন, সাধারণভাবে কোনো ব্যাংক তিন মাসের বেশি এমডি ছাড়া চলার কথা নয়। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ অনুমোদনে ইসলামী ব্যাংক পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত এভাবেই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

খেলাপি ঋণ প্রায় ৯৯ হাজার কোটি টাকা

ইসলামী ব্যাংকের নেতৃত্ব সংকট এমন এক সময়ে তৈরি হয়েছে, যখন ব্যাংকটি বড় ধরনের আর্থিক চাপে রয়েছে।

২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপ ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকে এর আর্থিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে। ব্যাংকিং নিয়ম লঙ্ঘন করে গ্রুপটি ইসলামী ব্যাংকের বিপুল পরিমাণ ঋণ নিজেদের ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে নিয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

চলতি বছরের জুন শেষে ইসলামী ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ৯৮ হাজার ৯১৪ কোটি টাকা। এটি ব্যাংকটির বিতরণ করা মোট ঋণের ৫২ দশমিক ১৫ শতাংশ।

২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ব্যাংকটিকে এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণমুক্ত করা হয়। এরপর থেকে ব্যাংকটি সরাসরি বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে।

বর্তমানে ব্যাংকটির বড় অঙ্কের ঋণ বিতরণেও সীমা রয়েছে। ফান্ডেড ও নন-ফান্ডেড সুবিধা মিলিয়ে সর্বোচ্চ ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ দিতে পারে ইসলামী ব্যাংক।

আলতাফ হোসেনের ভাষ্য, বড় বিনিয়োগের সুযোগ সীমিত থাকায় বড় ধরনের সিদ্ধান্তের প্রয়োজনও তুলনামূলক কম। এ কারণেই পূর্ণাঙ্গ পর্ষদ ছাড়াও ব্যাংকের নিয়মিত কার্যক্রম চালানো সম্ভব হচ্ছে।

তবে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের সাবেক চেয়ারম্যান আনিস এ খান মনে করেন, পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ না থাকলে কোনো ব্যাংকের পক্ষে কার্যকর কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়।

তার মতে, পর্ষদের অনুপস্থিতিতে করপোরেট তদারকি দুর্বল হয়। বাজেট অনুমোদন, কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায়ও জটিলতা তৈরি হতে পারে। দীর্ঘদিন এ অবস্থা চললে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মনোবলের পাশাপাশি গ্রাহকের আস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের মেয়াদ নিয়েও অনিশ্চয়তা

পর্ষদ না থাকায় ব্যাংকটির একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার চাকরির মেয়াদ নিয়েও সিদ্ধান্ত আটকে আছে।

অতিরিক্ত এমডি মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন মজুমদার, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মাহবুব আলম এবং সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট আমিনুর রহমানের চুক্তির মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।

মাহবুব আলম ও আমিনুর রহমান আগে অবসরে গেলেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তাদের আবার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।

আগামী অক্টোবরে আরও পাঁচজন উপব্যবস্থাপনা পরিচালকের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। তারা হলেন মাহমুদুর রহমান, মো. রফিকুল ইসলাম, মুহাম্মদ সাঈদ উল্লাহ, কে এম মুনিরুল আলম আল-মামুন এবং মো. মাকসুদুর রহমান।

তাদের চুক্তির মেয়াদ বাড়াতে ইসলামী ব্যাংক ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে চিঠি দিয়েছে। তবে এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখনো সিদ্ধান্ত জানায়নি।

ব্যাংকটির কর্মকর্তাদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে দ্রুত একটি দক্ষ ও গ্রহণযোগ্য পরিচালনা পর্ষদ নিয়োগ দেওয়া জরুরি। তাদের ধারণা, কার্যকর নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজে গতি ফেরার পাশাপাশি গ্রাহকদের আস্থাও বাড়তে পারে।

পর্ষদ গঠনে সতর্ক বাংলাদেশ ব্যাংক

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, আগের পরিচালনা পর্ষদ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হওয়ায় নতুন পর্ষদ গঠনের ক্ষেত্রে এবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক সতর্কভাবে এগোচ্ছে।

গত মে মাসে ইসলামী ব্যাংকের আগের চেয়ারম্যান পদত্যাগ করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশিদ আলমকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

তবে তার নিয়োগের পর ব্যাংকটির সামনে ‘সচেতন গ্রাহক ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন বিক্ষোভ শুরু করে। এতে ব্যাংকের অভ্যন্তরে অস্থিরতা বাড়ে এবং তারল্য পরিস্থিতির ওপরও চাপ তৈরি হয়।

পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক ১৭ হাজার কোটি টাকার সহায়তা দিলেও স্থিতিশীলতা ফেরেনি। পরে ১৪ জুন পুরো পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

আরিফ হোসেন খান বলেন, এবার যাচাই-বাছাই করেই যোগ্য ও স্বচ্ছ ব্যক্তিদের নিয়ে নতুন পর্ষদ গঠনের কাজ চলছে। শিগগিরই ইসলামী ব্যাংকে নতুন এমডি ও পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ নিয়োগ দেওয়া হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তবে নির্দিষ্ট সময়সীমা এখনো জানানো হয়নি। ফলে দেশের অন্যতম বড় বেসরকারি ব্যাংকটি আপাতত পূর্ণাঙ্গ নেতৃত্ব ছাড়াই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।