০২:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গ্রিনল্যান্ডে সামরিক উপস্থিতি বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র-ডেনমার্ক সমঝোতা

The gallery was not found!

গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি আরও বাড়ানোর পথ খুলে দিয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, নতুন ব্যবস্থার আওতায় দ্বীপটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানো হবে এবং মার্কিন প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলো সেখানে ঘাঁটি স্থাপন বা গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ করতে পারবে না।

শুক্রবার ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার স্থায়ী সুযোগ থাকবে। তিনি এ সমঝোতাকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে তুলে ধরেন।

তবে সমঝোতাটি গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অধীনে নেওয়ার ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করছে না। বরং এর মূল লক্ষ্য হচ্ছে আর্কটিক অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ও কৌশলগত অবস্থান আরও শক্তিশালী করা।

গ্রিনল্যান্ড বর্তমানে ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল। দ্বীপটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি আগে থেকেই রয়েছে। ১৯৫১ সালের একটি চুক্তির মাধ্যমে সেখানে মার্কিন বিমান চলাচল ও সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের ব্যাপক অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছিল। উত্তর-পশ্চিম গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের একটি স্পেস ফোর্স ঘাঁটিও রয়েছে।

নতুন সমঝোতার আওতায় যুক্তরাষ্ট্র স্থায়ীভাবে গ্রিনল্যান্ডে প্রবেশ, ঘাঁটি স্থাপন ও আকাশপথ ব্যবহারের অধিকার পাবে বলে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
ন্যাটোর বাইরের কোনো দেশ সেখানে সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করতে পারবে না। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বাইরে অন্যদের ‘সংবেদনশীল বিনিয়োগ’ সীমিত করার ব্যবস্থাও থাকছে।

সমঝোতার পরিধি নিয়ে এখনো প্রশ্ন

সমঝোতার ঘোষণা এলেও এর বিস্তারিত অনেকটাই অস্পষ্ট। বিশেষ করে নতুন কোনো মার্কিন সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, এই সমঝোতা উত্তর আটলান্টিক ও আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদার করবে। গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেনস-ফ্রেডেরিক নিলসেনও বলেছেন, এতে গ্রিনল্যান্ডের স্বার্থ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় দ্বীপটির অবস্থান স্বীকৃতি পেয়েছে।

তবে গ্রিনল্যান্ডে সমঝোতাটি কীভাবে গ্রহণ করা হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। দ্বীপটির জনগণের একটি বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরে স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে আসছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে গ্রিনল্যান্ডের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েও সেখানে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, সমঝোতাটি গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে ওয়াশিংটনের জাতীয় নিরাপত্তা উদ্বেগ স্থায়ীভাবে সমাধান করেছে। তাঁর ভাষায়, গ্রিনল্যান্ড উত্তর আমেরিকার কৌশলগত প্রতিরক্ষা এলাকার অংশ হিসেবেই থাকবে এবং সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তির উপস্থিতি ঠেকানো হবে।

মার্কিন কর্মকর্তার দাবি অনুযায়ী, গ্রিনল্যান্ড ভবিষ্যতে স্বাধীন হলেও সমঝোতার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশ, ঘাঁটি ও আকাশপথ ব্যবহারের অধিকার বহাল থাকবে। ফলে আর্কটিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত উপস্থিতির ক্ষেত্রে এই সমঝোতা গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করতে পারে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় খবর
Business Times24

গ্রিনল্যান্ডে সামরিক উপস্থিতি বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র-ডেনমার্ক সমঝোতা

Update Time : ১২:০০:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি আরও বাড়ানোর পথ খুলে দিয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, নতুন ব্যবস্থার আওতায় দ্বীপটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানো হবে এবং মার্কিন প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলো সেখানে ঘাঁটি স্থাপন বা গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ করতে পারবে না।

শুক্রবার ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার স্থায়ী সুযোগ থাকবে। তিনি এ সমঝোতাকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে তুলে ধরেন।

তবে সমঝোতাটি গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অধীনে নেওয়ার ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করছে না। বরং এর মূল লক্ষ্য হচ্ছে আর্কটিক অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ও কৌশলগত অবস্থান আরও শক্তিশালী করা।

গ্রিনল্যান্ড বর্তমানে ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল। দ্বীপটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি আগে থেকেই রয়েছে। ১৯৫১ সালের একটি চুক্তির মাধ্যমে সেখানে মার্কিন বিমান চলাচল ও সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের ব্যাপক অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছিল। উত্তর-পশ্চিম গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের একটি স্পেস ফোর্স ঘাঁটিও রয়েছে।

নতুন সমঝোতার আওতায় যুক্তরাষ্ট্র স্থায়ীভাবে গ্রিনল্যান্ডে প্রবেশ, ঘাঁটি স্থাপন ও আকাশপথ ব্যবহারের অধিকার পাবে বলে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
ন্যাটোর বাইরের কোনো দেশ সেখানে সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করতে পারবে না। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বাইরে অন্যদের ‘সংবেদনশীল বিনিয়োগ’ সীমিত করার ব্যবস্থাও থাকছে।

সমঝোতার পরিধি নিয়ে এখনো প্রশ্ন

সমঝোতার ঘোষণা এলেও এর বিস্তারিত অনেকটাই অস্পষ্ট। বিশেষ করে নতুন কোনো মার্কিন সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, এই সমঝোতা উত্তর আটলান্টিক ও আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদার করবে। গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেনস-ফ্রেডেরিক নিলসেনও বলেছেন, এতে গ্রিনল্যান্ডের স্বার্থ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় দ্বীপটির অবস্থান স্বীকৃতি পেয়েছে।

তবে গ্রিনল্যান্ডে সমঝোতাটি কীভাবে গ্রহণ করা হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। দ্বীপটির জনগণের একটি বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরে স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে আসছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে গ্রিনল্যান্ডের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েও সেখানে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, সমঝোতাটি গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে ওয়াশিংটনের জাতীয় নিরাপত্তা উদ্বেগ স্থায়ীভাবে সমাধান করেছে। তাঁর ভাষায়, গ্রিনল্যান্ড উত্তর আমেরিকার কৌশলগত প্রতিরক্ষা এলাকার অংশ হিসেবেই থাকবে এবং সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তির উপস্থিতি ঠেকানো হবে।

মার্কিন কর্মকর্তার দাবি অনুযায়ী, গ্রিনল্যান্ড ভবিষ্যতে স্বাধীন হলেও সমঝোতার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশ, ঘাঁটি ও আকাশপথ ব্যবহারের অধিকার বহাল থাকবে। ফলে আর্কটিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত উপস্থিতির ক্ষেত্রে এই সমঝোতা গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করতে পারে।