০৯:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জ্বালানি অস্থিরতার জন্য সরকার নয়, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ দায়ী: রিজভী

The gallery was not found!

দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পেছনে সরকারের নীতিকে দায়ী করার সমালোচনা করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার কারণেই পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। তাঁর দাবি, বৈশ্বিক সংকট বিবেচনায় না নিয়ে জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে বিরোধীদের একাংশ অপপ্রচার চালাচ্ছে।

মঙ্গলবার রাজধানীর ফার্মগেটে অ্যাগ্রিকালচারিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এ্যাব) আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচিতে তিনি এসব কথা বলেন। পরে জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট আয়োজিত এক আলোচনা সভাতেও তিনি জ্বালানি সংকট ও বিরোধী দলগুলোর সাম্প্রতিক কর্মসূচি নিয়ে বক্তব্য দেন।

রিজভী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় দেশের বাজারেও দাম সমন্বয়ের প্রয়োজন হয়েছে। সম্প্রতি ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা করা হলেও সরকারকে এখনো বড় অঙ্কের ভর্তুকি দিতে হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজার থেকে প্রতি লিটার ডিজেল কিনতে সরকারের প্রায় ২০৫ টাকা ব্যয় হচ্ছে। বিপরীতে দেশে তা ১৩৫ টাকা দরে বিক্রি করায় প্রতি লিটারে প্রায় ৭০ টাকা ঘাটতি থাকছে। এর আগে ১১৫ টাকা দরে বিক্রির সময় এই ব্যবধান ছিল প্রায় ৯০ টাকা।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে উদ্বেগ

জাতীয় প্রেসক্লাবের আলোচনা সভায় রিজভী মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানির গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তাঁর দাবি, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে জ্বালানি পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে এবং এর প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক বাজারে।

তিনি বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় না নিয়ে জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির জন্য সরকারকে দায়ী করা ঠিক নয়। তাঁর মতে, বর্তমান পরিস্থিতি মূলত আন্তর্জাতিক বাজারের সংকটের সঙ্গে সম্পর্কিত।

বিরোধীদের লংমার্চ নিয়ে প্রশ্ন

জ্বালানি সংকটের মধ্যে বিরোধী দলগুলোর লংমার্চ কর্মসূচিরও সমালোচনা করেন রিজভী। তিনি বলেন, সংকটের সময়ে জ্বালানি সাশ্রয়ের বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। তাঁর দাবি, বিপুলসংখ্যক গাড়ি নিয়ে দূরপাল্লার কর্মসূচি আয়োজনও জ্বালানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে অপচয়ের কারণ হতে পারে।

রিজভী অভিযোগ করেন, লংমার্চে অংশ নেওয়া কিছু গাড়ি টোল পরিশোধ করেনি। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে তিনি বিস্তারিত প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন কি না, তা বক্তব্যের প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।

আগুন-সন্ত্রাসের অভিযোগ

আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খানও বক্তব্য দেন। তিনি দেশকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে বাস ও ট্রেনে আগুন দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। আওয়ামী লীগ, জামায়াত ও এনসিপিকে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকার দাবি করেন তিনি।

তবে এসব রাজনৈতিক অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো প্রমাণ বক্তব্যের সঙ্গে উপস্থাপন করা হয়নি।

আলোচনা সভায় মুসলিম লীগের (একাংশ) সভাপতি নাসিম খান সভাপতিত্ব করেন। এতে গণদলের গোলাম মাওলা চৌধুরী, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান, ডেমোক্রেটিক লীগের খোকন চন্দ্র দাসসহ বিভিন্ন দলের নেতারা বক্তব্য দেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় খবর
Business Times24

জ্বালানি অস্থিরতার জন্য সরকার নয়, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ দায়ী: রিজভী

Update Time : ০৬:৪০:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পেছনে সরকারের নীতিকে দায়ী করার সমালোচনা করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার কারণেই পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। তাঁর দাবি, বৈশ্বিক সংকট বিবেচনায় না নিয়ে জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে বিরোধীদের একাংশ অপপ্রচার চালাচ্ছে।

মঙ্গলবার রাজধানীর ফার্মগেটে অ্যাগ্রিকালচারিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এ্যাব) আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচিতে তিনি এসব কথা বলেন। পরে জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট আয়োজিত এক আলোচনা সভাতেও তিনি জ্বালানি সংকট ও বিরোধী দলগুলোর সাম্প্রতিক কর্মসূচি নিয়ে বক্তব্য দেন।

রিজভী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় দেশের বাজারেও দাম সমন্বয়ের প্রয়োজন হয়েছে। সম্প্রতি ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা করা হলেও সরকারকে এখনো বড় অঙ্কের ভর্তুকি দিতে হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজার থেকে প্রতি লিটার ডিজেল কিনতে সরকারের প্রায় ২০৫ টাকা ব্যয় হচ্ছে। বিপরীতে দেশে তা ১৩৫ টাকা দরে বিক্রি করায় প্রতি লিটারে প্রায় ৭০ টাকা ঘাটতি থাকছে। এর আগে ১১৫ টাকা দরে বিক্রির সময় এই ব্যবধান ছিল প্রায় ৯০ টাকা।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে উদ্বেগ

জাতীয় প্রেসক্লাবের আলোচনা সভায় রিজভী মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানির গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তাঁর দাবি, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে জ্বালানি পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে এবং এর প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক বাজারে।

তিনি বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় না নিয়ে জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির জন্য সরকারকে দায়ী করা ঠিক নয়। তাঁর মতে, বর্তমান পরিস্থিতি মূলত আন্তর্জাতিক বাজারের সংকটের সঙ্গে সম্পর্কিত।

বিরোধীদের লংমার্চ নিয়ে প্রশ্ন

জ্বালানি সংকটের মধ্যে বিরোধী দলগুলোর লংমার্চ কর্মসূচিরও সমালোচনা করেন রিজভী। তিনি বলেন, সংকটের সময়ে জ্বালানি সাশ্রয়ের বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। তাঁর দাবি, বিপুলসংখ্যক গাড়ি নিয়ে দূরপাল্লার কর্মসূচি আয়োজনও জ্বালানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে অপচয়ের কারণ হতে পারে।

রিজভী অভিযোগ করেন, লংমার্চে অংশ নেওয়া কিছু গাড়ি টোল পরিশোধ করেনি। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে তিনি বিস্তারিত প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন কি না, তা বক্তব্যের প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।

আগুন-সন্ত্রাসের অভিযোগ

আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খানও বক্তব্য দেন। তিনি দেশকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে বাস ও ট্রেনে আগুন দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। আওয়ামী লীগ, জামায়াত ও এনসিপিকে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকার দাবি করেন তিনি।

তবে এসব রাজনৈতিক অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো প্রমাণ বক্তব্যের সঙ্গে উপস্থাপন করা হয়নি।

আলোচনা সভায় মুসলিম লীগের (একাংশ) সভাপতি নাসিম খান সভাপতিত্ব করেন। এতে গণদলের গোলাম মাওলা চৌধুরী, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান, ডেমোক্রেটিক লীগের খোকন চন্দ্র দাসসহ বিভিন্ন দলের নেতারা বক্তব্য দেন।