নরওয়ের সংরক্ষিত দ্বীপপুঞ্জ স্বালবার্ডে একটি ঘুমন্ত মেরু ভালুকের ঘুম ভাঙিয়ে দারুণ বিপাকে পড়েছেন এক পর্যটক। একটি ফগহর্ন বাজানোর অপরাধে তাকে ৫০ হাজার নরওয়েজীয় ক্রোনার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় সাড়ে ৬ লাখ টাকা) জরিমানা করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
চলতি বছরের আগস্টের শুরুর দিকে উত্তর মেরু থেকে ১,০০০ কিলোমিটার দূরে উত্তর-পশ্চিম স্বালবার্ডের একটি সমুদ্রখাঁড়িতে ঘটনাটি ঘটে। একটি প্রমোদতরী বা জাহাজ সমুদ্রখাঁড়ি ধরে যাওয়ার সময় আরোহীরা তীরে বরফের ওপর একটি মেরু ভালুককে ঘুমিয়ে থাকতে দেখেন। জাহাজে থাকা এক ব্যক্তি অহেতুক জাহাজের উচ্চশব্দের ফগহর্ন বাজিয়ে ওঠেন। বিকট শব্দে ঘুম ভেঙে যায় মেরু ভালুকটির এবং সেটি বিরক্ত হয়ে স্থান ত্যাগ করতে বাধ্য হয়।
স্বালবার্ডের গভর্নর লার্স ফাউসে ঘটনাটির তদন্ত শেষে অভিযুক্ত ব্যক্তির ওপর এই বড় অঙ্কের জরিমানা আরোপ করেন।
স্বালবার্ডের কঠোর পরিবেশ আইন অনুযায়ী প্রাকৃতিক পরিবেশে বন্যপ্রাণীদের স্বাভাবিক চলাচলে ব্যাঘাত ঘটানো গুরুতর অপরাধ। ১৯৭২ সাল থেকেই স্বালবার্ডে মেরু ভালুককে সংরক্ষিত ঘোষণা করা হয়। ২০১৫ সালের বৈজ্ঞানিক জরিপ অনুযায়ী, এ অঞ্চলে মাত্র ২৫০টির মতো মেরু ভালুক অবশিষ্ট রয়েছে।
সেখানকার আইন অনুযায়ী—বিনা কারণে মেরু ভালুক বা অন্যান্য বন্যপ্রাণীকে বিরক্ত করা, দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করা কিংবা তাড়া করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এই অঞ্চলে বন্যপ্রাণীদের বিরক্ত করে শাস্তির মুখে পড়ার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। ২০২৪ সালে একটি ওয়ালরাসের খুব কাছে যাওয়ার অপরাধে এক পর্যটককে ১১,৫০০ ক্রোনার জরিমানা করা হয়েছিল।
স্বালবার্ডে ভ্রমণকালে মেরু ভালুক, সিল, তিমি, বল্গা হরিণ ও মেরু শিয়ালের মতো বন্যপ্রাণীদের অহেতুক বিরক্ত না করে স্বাভাবিক দূরত্ব বজায় রাখা বাধ্যতামূলক।

নিজস্ব প্রতিবেদক 


























