গ্যাস-বিদ্যুতের সংকটের মধ্যেও বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে আগস্টে বড় দুই বাজারে গতি ফিরেছে। জুলাইয়ে রপ্তানি কমলেও পরের মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ২৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ, আর ইইউতে বেড়েছে ৯ দশমিক ০৯ শতাংশ।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হিসাবে, আগস্টে বাংলাদেশ মোট ৩৬১ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে। আগের বছরের একই মাসের তুলনায় এ রপ্তানি ১৩ দশমিক ৯২ শতাংশ বেশি। অর্থবছরের প্রথম দুই মাস জুলাই-আগস্টে পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৫৫০ কোটি ডলারের, প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশ।
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জোরালো প্রত্যাবর্তন
আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে ৮১ কোটি ৭১ লাখ ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। গত বছরের আগস্টের তুলনায় এটি ২৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ বেশি। জুলাই-আগস্ট মিলিয়ে দেশটির বাজারে রপ্তানি দাঁড়িয়েছে ১৬১ কোটি ডলারে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১১ দশমিক ৪২ শতাংশ বেশি।
বাংলাদেশের পোশাকের সবচেয়ে বড় একক বাজার যুক্তরাষ্ট্র। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশটিতে ৭৭৪ কোটি ডলারের বেশি পোশাক রপ্তানি হয়েছিল।
তবে মার্কিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অফিস অব টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেলসের (ওটেক্সা) হিসাবে চলতি বছরের জানুয়ারি-জুলাই সময়ে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ৬ দশমিক ৫০ শতাংশ কমেছে। ইপিবি ও ওটেক্সার হিসাবের সময়কাল ও তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতিতে পার্থক্য থাকায় দুই সংস্থার পরিসংখ্যানে ব্যবধান রয়েছে।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, চীন থেকে সরে যাওয়া ক্রয়াদেশের বড় অংশ ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া ও কম্বোডিয়ায় যাচ্ছে। কৃত্রিম তন্তুর পোশাকে বাংলাদেশের সক্ষমতা তুলনামূলক কম হওয়ায় ওই বাজারের একটি বড় অংশ ধরতে পারছে না দেশের উদ্যোক্তারা। ফাস্ট ফ্যাশনের ক্ষেত্রেও দীর্ঘ লিড টাইম একটি চ্যালেঞ্জ।
ইইউতেও বাড়ল রপ্তানি
আগস্টে ইইউর বাজারে বাংলাদেশ ১৫৬ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে। গত বছরের আগস্টের তুলনায় এই রপ্তানি ৯ দশমিক ০৯ শতাংশ বেশি।
জুলাইয়ে অবশ্য ইইউতে পোশাক রপ্তানি ২ দশমিক ৪৫ শতাংশ কমেছিল। ওই মাসে রপ্তানি হয়েছিল ১৯৩ কোটি ডলারের। ফলে আগস্টের প্রবৃদ্ধি ইউরোপের বাজারে রপ্তানির গতি ফেরার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
প্রথম দুই মাসে ইইউতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৩৪৯ কোটি ডলারের, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ৩৫ শতাংশ বেশি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ইইউর বাজারে বাংলাদেশ ১৯ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছিল।
অন্যদিকে, ইউরোস্ট্যাটের হিসাবে ২০২৬ সালের জানুয়ারি-জুলাই সময়ে ইইউতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ১৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ কমেছে। ওই সময়ে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৩৭ কোটি ডলার।
উৎপাদন ব্যাহত, তবু রপ্তানি ধরে রাখার চেষ্টা
গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটে আগস্টে অনেক কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। এরপরও বিদেশি ক্রেতাদের সময়মতো পণ্য সরবরাহ করতে বাড়তি খরচ বহন করেছেন উদ্যোক্তারা। এতে বড় দুই বাজারে রপ্তানি ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিল্পমালিকেরা।
বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ইপিবির তথ্যের সঙ্গে ওটেক্সা ও ইউরোস্ট্যাটের পরিসংখ্যানে পার্থক্য রয়েছে। সংশ্লিষ্ট দুই সংস্থার পরবর্তী তথ্য পাওয়া গেলে রপ্তানির প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।
তিনি বলেন, গ্যাস-বিদ্যুতের সংকটে গত মাসে রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে উদ্যোক্তারা বাড়তি ব্যয় করেও সময়মতো পণ্য পাঠানোর চেষ্টা করেছেন।
হাতেম জানান, গত কয়েক দিনে কারখানাগুলোতে গ্যাসের চাপ কিছুটা সন্তোষজনক রয়েছে। এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে উৎপাদন বাড়বে এবং ক্রেতাদের আস্থাও ফিরবে। এর ফলে নতুন ক্রয়াদেশ পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক 























