জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও রাজধানীতে গণপরিবহনের ভাড়া এখনো বাড়ানো হয়নি। তবে ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে মালিকপক্ষের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন পরিবহন শ্রমিকেরা। এদিকে বাসভাড়া বাড়বে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে যাত্রীদের মধ্যে। তাদের আশঙ্কা, ভাড়া বাড়ানো হলে দৈনন্দিন যাতায়াতের খরচ আরও বেড়ে যাবে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর রায়েরবাগ থেকে গুলিস্তান, পল্টনসহ বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী বাসের চালক, সুপারভাইজার, হেলপার ও যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে।
মালিকপক্ষের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় শ্রমিকরা
রায়েরবাগ-গুলিস্তান রুটে চলাচলকারী রজনীগন্ধা পরিবহনের চালক মো. সিফাত বলেন, “তেলের দাম বেড়েছে, এটা আমরা জানি। তবে এখনো ভাড়া বাড়ানোর কোনো নির্দেশনা পাইনি। মালিকপক্ষ ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলে তখন নতুন ভাড়া কার্যকর হবে।”
তিনি বলেন, “বর্তমান ভাড়ায় বাস চালিয়ে আয়-ব্যয়ের হিসাব মেলানো কঠিন হয়ে পড়ছে। তেলের খরচ বেড়েছে, পাশাপাশি গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ও রয়েছে। তবে যাত্রীদের ওপর বাড়তি চাপ পড়ুক, সেটাও আমরা চাই না।”
শ্রাবণ পরিবহনের এক সুপারভাইজার বলেন, “আমরা মালিকের নির্দেশ অনুযায়ী গাড়ি চালাই। ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট সমিতি থেকে জানানো হবে। এখন পর্যন্ত যাত্রীদের কাছ থেকে আগের ভাড়াই নেওয়া হচ্ছে।”
জ্বালানির দাম বাড়ায় বেড়েছে পরিবহন ব্যয়
রায়েরবাগ-গুলিস্তান রুটের ঠিকানা পরিবহনের সুপারভাইজার সবুজ বলেন, “তেলের দাম বাড়ার কারণে গাড়ি পরিচালনার খরচ বেড়েছে। প্রতিদিনের আয় থেকে আগের মতো লাভ থাকছে না। মালিকপক্ষ বিষয়টি নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।”
তিনি বলেন, “যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া নেওয়ার বিষয়ে আমাদের কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। তাই আগের ভাড়াই নেওয়া হচ্ছে। তবে তেলের দাম আরও বাড়লে পরিস্থিতি কঠিন হয়ে যেতে পারে।”
সময় পরিবহনের সুপারভাইজার লাল মিয়া বলেন, “ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। যাত্রীরা অনেকেই ভাড়া বাড়বে কি না জানতে চান। আমরা তাদের বলছি, মালিকপক্ষ সিদ্ধান্ত নিলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে।”
ভাড়া বাড়লে বাড়বে যাত্রীদের খরচ
রায়েরবাগ থেকে গুলিস্তানগামী যাত্রী বোরহান বলেন, “প্রতিদিন কাজে যাওয়ার জন্য বাসে যাতায়াত করতে হয়। এখনই নিত্যপণ্যের দাম বেশি। এর মধ্যে বাসভাড়া বাড়ানো হলে আমাদের মতো স্বল্প আয়ের মানুষের সমস্যা আরও বাড়বে।”
তিনি বলেন, “তেলের দাম বাড়ার কারণে বাসমালিকদের খরচ বেড়েছে, সেটা বুঝি। তবে ভাড়া বাড়ানোর আগে সাধারণ মানুষের আয়-ব্যয়ের বিষয়টিও বিবেচনা করা দরকার।”
শনির আখড়া থেকে পল্টনগামী যাত্রী যায়েদ বলেন, “বাসে উঠলেই অনেক সময় ভাড়া নিয়ে ঝামেলা হয়। একেক বাসে একেক রকম ভাড়া চাওয়া হয়। ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হলে সেটি যেন নির্দিষ্ট হারে হয় এবং যাত্রীদের কাছ থেকে ইচ্ছেমতো টাকা আদায় করা না হয়।”
যাত্রাবাড়ী থেকে গুলিস্তানগামী সবুর নামে আরেক যাত্রী বলেন, “পরিবারের সদস্যদের নিয়ে চলাফেরা করতে হয়। বাসভাড়া বাড়লে মাসিক খরচ অনেকটাই বেড়ে যাবে। তাই আপাতত ভাড়া না বাড়ানোর দাবি জানাই।”
সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত আগের ভাড়াই
পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই পরিবহন খাতে পরিচালন ব্যয় বেড়ে যায়। এতে বাসের জ্বালানি, রক্ষণাবেক্ষণসহ বিভিন্ন খাতে অতিরিক্ত খরচ হয়। তবে যাত্রীদের কাছ থেকে নতুন ভাড়া আদায়ের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও মালিকপক্ষের সিদ্ধান্ত এবং নির্ধারিত ভাড়া কার্যকর করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
এখন পর্যন্ত রাজধানীর এসব রুটে আগের ভাড়াই নেওয়া হচ্ছে। তবে মালিকপক্ষ ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলে গণপরিবহনে নতুন ভাড়া কার্যকর হবে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক 
























