১২:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অশ্বগন্ধায় লিভার বিকলের ঝুঁকি!

The gallery was not found!

স্ট্রেস কমানো ও মানসিক প্রশান্তির জন্য জনপ্রিয় ভেষজ উপাদান অশ্বগন্ধা নিয়ে নতুন করে সতর্কতা তৈরি হয়েছে।

দীর্ঘদিন বা বেশি মাত্রায় এটি গ্রহণের সঙ্গে বিরল ক্ষেত্রে গুরুতর লিভার ক্ষতির সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

যুক্তরাজ্যের চেশায়ারের ৪৪ বছর বয়সী লইস কিন্ডারের ঘটনাটি বিষয়টি আবারও আলোচনায় এনেছে। খবর ডেউলি মেইলের।

লইস গত বছরের জুলাই থেকে প্রতিদিন অশ্বগন্ধা-যুক্ত গামি গ্রহণ করছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের মাধ্যমে এর প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিলেন তিনি। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, অশ্বগন্ধা গ্রহণের পর তিনি নিজেকে বেশি স্বস্তিবোধ করছেন বলেও মনে করতেন।

প্রায় এক বছর পর বমি বমি ভাব ও বমির সমস্যা নিয়ে চিকিৎসকের কাছে যান লইস। একই সময়ে তার চোখ ও ত্বক হলুদ হয়ে যায়। কয়েক দিনের মধ্যেই বাড়িতে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। হাসপাতালে নেওয়ার পর পরীক্ষায় তার লিভার মারাত্মকভাবে বিকল হওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে।

চিকিৎসকেরা তাকে জরুরি লিভার প্রতিস্থাপনের তালিকায় রাখেন। ২২ জুলাই তার লিভার প্রতিস্থাপন করা হয়। তবে অস্ত্রোপচারের সময় ফুসফুসের প্রধান ধমনীতে রক্ত জমাট বাঁধার কারণে তিনি একাধিকবার হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হওয়ার পরিস্থিতির মুখে পড়েন। দীর্ঘ সময় অক্সিজেনের ঘাটতির কারণে তার মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

১৩ আগস্ট কোমা থেকে জ্ঞান ফেরার পরও লইস গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে রয়েছেন। তার যোগাযোগ ও চলাফেরার ক্ষমতা ব্যাপকভাবে সীমিত হয়ে গেছে এবং প্রতিদিন স্নায়বিক পুনর্বাসন চলছে।

চিকিৎসকেরা অশ্বগন্ধাকে তার লিভার বিকলের প্রধান কারণ হিসেবে মনে করছেন, যদিও বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আশ্বগন্ধার সঙ্গে গুরুতর লিভার ক্ষতির ঘটনা বিরল হলেও এর আগে এমন ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।

আশ্বগন্ধাকে সাধারণত ‘অ্যাডাপ্টোজেন’ হিসেবে প্রচার করা হয়—অর্থাৎ শরীরকে দৈনন্দিন মানসিক চাপের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সহায়তা করে বলে দাবি করা হয়। তবে এর কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা নিয়ে গবেষণা চলমান। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ব্যবহার, বেশি মাত্রা এবং কিছু শারীরিক অবস্থার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

লইসের স্বামী অলি কিন্ডার মানুষের মধ্যে আশ্বগন্ধা-যুক্ত পণ্য ব্যবহারের আগে সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন। তার বক্তব্য, ‘প্রাকৃতিক’ বা ভেষজ হওয়া মানেই কোনো পণ্য সবার জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ—এমন ধারণা ঠিক নয়।

তবে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ: লইসের ক্ষেত্রে অশ্বগন্ধাই লিভার বিকলের কারণ ছিল—এটি চিকিৎসকদের বর্তমান ধারণা; চূড়ান্ত কারণ হিসেবে এটিকে এখনো নিশ্চিত বলা যাচ্ছে না।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় খবর
Business Times24

অশ্বগন্ধায় লিভার বিকলের ঝুঁকি!

Update Time : ১১:১৯:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

স্ট্রেস কমানো ও মানসিক প্রশান্তির জন্য জনপ্রিয় ভেষজ উপাদান অশ্বগন্ধা নিয়ে নতুন করে সতর্কতা তৈরি হয়েছে।

দীর্ঘদিন বা বেশি মাত্রায় এটি গ্রহণের সঙ্গে বিরল ক্ষেত্রে গুরুতর লিভার ক্ষতির সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

যুক্তরাজ্যের চেশায়ারের ৪৪ বছর বয়সী লইস কিন্ডারের ঘটনাটি বিষয়টি আবারও আলোচনায় এনেছে। খবর ডেউলি মেইলের।

লইস গত বছরের জুলাই থেকে প্রতিদিন অশ্বগন্ধা-যুক্ত গামি গ্রহণ করছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের মাধ্যমে এর প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিলেন তিনি। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, অশ্বগন্ধা গ্রহণের পর তিনি নিজেকে বেশি স্বস্তিবোধ করছেন বলেও মনে করতেন।

প্রায় এক বছর পর বমি বমি ভাব ও বমির সমস্যা নিয়ে চিকিৎসকের কাছে যান লইস। একই সময়ে তার চোখ ও ত্বক হলুদ হয়ে যায়। কয়েক দিনের মধ্যেই বাড়িতে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। হাসপাতালে নেওয়ার পর পরীক্ষায় তার লিভার মারাত্মকভাবে বিকল হওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে।

চিকিৎসকেরা তাকে জরুরি লিভার প্রতিস্থাপনের তালিকায় রাখেন। ২২ জুলাই তার লিভার প্রতিস্থাপন করা হয়। তবে অস্ত্রোপচারের সময় ফুসফুসের প্রধান ধমনীতে রক্ত জমাট বাঁধার কারণে তিনি একাধিকবার হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হওয়ার পরিস্থিতির মুখে পড়েন। দীর্ঘ সময় অক্সিজেনের ঘাটতির কারণে তার মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

১৩ আগস্ট কোমা থেকে জ্ঞান ফেরার পরও লইস গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে রয়েছেন। তার যোগাযোগ ও চলাফেরার ক্ষমতা ব্যাপকভাবে সীমিত হয়ে গেছে এবং প্রতিদিন স্নায়বিক পুনর্বাসন চলছে।

চিকিৎসকেরা অশ্বগন্ধাকে তার লিভার বিকলের প্রধান কারণ হিসেবে মনে করছেন, যদিও বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আশ্বগন্ধার সঙ্গে গুরুতর লিভার ক্ষতির ঘটনা বিরল হলেও এর আগে এমন ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।

আশ্বগন্ধাকে সাধারণত ‘অ্যাডাপ্টোজেন’ হিসেবে প্রচার করা হয়—অর্থাৎ শরীরকে দৈনন্দিন মানসিক চাপের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সহায়তা করে বলে দাবি করা হয়। তবে এর কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা নিয়ে গবেষণা চলমান। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ব্যবহার, বেশি মাত্রা এবং কিছু শারীরিক অবস্থার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

লইসের স্বামী অলি কিন্ডার মানুষের মধ্যে আশ্বগন্ধা-যুক্ত পণ্য ব্যবহারের আগে সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন। তার বক্তব্য, ‘প্রাকৃতিক’ বা ভেষজ হওয়া মানেই কোনো পণ্য সবার জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ—এমন ধারণা ঠিক নয়।

তবে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ: লইসের ক্ষেত্রে অশ্বগন্ধাই লিভার বিকলের কারণ ছিল—এটি চিকিৎসকদের বর্তমান ধারণা; চূড়ান্ত কারণ হিসেবে এটিকে এখনো নিশ্চিত বলা যাচ্ছে না।