১১:৪৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হোয়াইট হাউসে তিন সংবাদমাধ্যম নিষিদ্ধ

The gallery was not found!

‘ভুয়া খবর’ প্রচারের অভিযোগ তুলে হোয়াইট হাউস থেকে তিনটি প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। CNN, পলিটিকো ও MS NOW-এর বিরুদ্ধে নেওয়া এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার সীমা নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।

শুক্রবার ট্রাম্প জানান, কোনো একটি নির্দিষ্ট প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে নয়, বরং গত কয়েক বছরে এসব সংবাদমাধ্যমের ধারাবাহিক প্রতিবেদনের কারণে তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, প্রেসিডেন্টকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে ওই সংবাদমাধ্যমগুলো ‘মিথ্যা ও মনগড়া’ প্রতিবেদন করার সুযোগ নিচ্ছে।

ট্রাম্প একই সঙ্গে ভবিষ্যতে আরও সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি ওয়াশিংটন পোস্ট ও নিউইয়র্ক টাইমসের নামও উল্লেখ করেন।

প্রথম সংশোধনী ঘিরে প্রশ্ন

ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনী সামনে এসেছে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সুরক্ষিত করা এই সংশোধনীর সঙ্গে হোয়াইট হাউসের এমন নিষেধাজ্ঞা সাংঘর্ষিক কি না, তা নিয়ে আইন বিশেষজ্ঞদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে।

কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির নাইট ফার্স্ট অ্যামেন্ডমেন্ট ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক জামেল জেফার বলেছেন, সাংবাদিকদের দৃষ্টিভঙ্গি বা প্রকাশিত প্রতিবেদনের কারণে হোয়াইট হাউসের প্রেস পুল থেকে বাদ দেওয়ার ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের নেই। তাঁর মতে, হোয়াইট হাউসের প্রেস পুল প্রথম সংশোধনীর অধীনে একটি ‘পাবলিক ফোরাম’ হিসেবে বিবেচিত।

ফলে ট্রাম্পের ঘোষণার বাস্তব প্রয়োগ হলে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞার পরও কাজ চালিয়ে সাংবাদিকেরা

ট্রাম্প নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেওয়ার পরও শুক্রবার বিকেলে CNN, পলিটিকো ও MS NOW-এর সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়। অর্থাৎ ঘোষণার পরপরই নিষেধাজ্ঞাটি কীভাবে কার্যকর হবে, তা স্পষ্ট হয়নি।

CNN এক বিবৃতিতে বলেছে, হোয়াইট হাউসে সংবাদ সংগ্রহ করা সাংবাদিকদের পাশে থাকবে তারা। সংবাদমাধ্যমটির দাবি, সরকারের বাধা বা হস্তক্ষেপ ছাড়া সংবাদ সংগ্রহের অধিকার যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে সুরক্ষিত। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হলে তা ওই অধিকারের ওপর বেআইনি আঘাত হবে বলেও জানিয়েছে CNN।

পলিটিকোও জানিয়েছে, তারা বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা চালিয়ে যাবে। বর্তমান প্রশাসন ও ভবিষ্যতের যেকোনো প্রশাসন সম্পর্কে নিরপেক্ষভাবে সংবাদ প্রকাশের অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

MS NOW অবশ্য ট্রাম্পের ঘোষণার পর তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

‘জনগণের বাড়ি’ যুক্তি ট্রাম্পের

ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে হোয়াইট হাউসকে ‘জনগণের বাড়ি’ হিসেবে উল্লেখ করেন ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্য, জনগণের বাড়িতে কোন সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার থাকবে, সে বিষয়ে বাধ্যবাধকতা নেই।

তবে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, সরকারি কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জনগণকে তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত শুধু প্রশাসনিক বিষয় নয়; এর সঙ্গে সাংবিধানিক অধিকারও জড়িত।

এখন মূল প্রশ্ন হলো—ট্রাম্পের ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা কতটা কার্যকর করা যায় এবং আদালতে এর বৈধতা কীভাবে নির্ধারিত হয়। তিন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকেরা ইতোমধ্যে হোয়াইট হাউসে কাজ চালিয়ে যাওয়ায় বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের চেয়ে বড় আইনি ও সাংবিধানিক পরীক্ষার দিকে এগোচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় খবর
Business Times24

হোয়াইট হাউসে তিন সংবাদমাধ্যম নিষিদ্ধ

Update Time : ১১:০০:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘ভুয়া খবর’ প্রচারের অভিযোগ তুলে হোয়াইট হাউস থেকে তিনটি প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। CNN, পলিটিকো ও MS NOW-এর বিরুদ্ধে নেওয়া এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার সীমা নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।

শুক্রবার ট্রাম্প জানান, কোনো একটি নির্দিষ্ট প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে নয়, বরং গত কয়েক বছরে এসব সংবাদমাধ্যমের ধারাবাহিক প্রতিবেদনের কারণে তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, প্রেসিডেন্টকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে ওই সংবাদমাধ্যমগুলো ‘মিথ্যা ও মনগড়া’ প্রতিবেদন করার সুযোগ নিচ্ছে।

ট্রাম্প একই সঙ্গে ভবিষ্যতে আরও সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি ওয়াশিংটন পোস্ট ও নিউইয়র্ক টাইমসের নামও উল্লেখ করেন।

প্রথম সংশোধনী ঘিরে প্রশ্ন

ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনী সামনে এসেছে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সুরক্ষিত করা এই সংশোধনীর সঙ্গে হোয়াইট হাউসের এমন নিষেধাজ্ঞা সাংঘর্ষিক কি না, তা নিয়ে আইন বিশেষজ্ঞদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে।

কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির নাইট ফার্স্ট অ্যামেন্ডমেন্ট ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক জামেল জেফার বলেছেন, সাংবাদিকদের দৃষ্টিভঙ্গি বা প্রকাশিত প্রতিবেদনের কারণে হোয়াইট হাউসের প্রেস পুল থেকে বাদ দেওয়ার ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের নেই। তাঁর মতে, হোয়াইট হাউসের প্রেস পুল প্রথম সংশোধনীর অধীনে একটি ‘পাবলিক ফোরাম’ হিসেবে বিবেচিত।

ফলে ট্রাম্পের ঘোষণার বাস্তব প্রয়োগ হলে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞার পরও কাজ চালিয়ে সাংবাদিকেরা

ট্রাম্প নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেওয়ার পরও শুক্রবার বিকেলে CNN, পলিটিকো ও MS NOW-এর সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়। অর্থাৎ ঘোষণার পরপরই নিষেধাজ্ঞাটি কীভাবে কার্যকর হবে, তা স্পষ্ট হয়নি।

CNN এক বিবৃতিতে বলেছে, হোয়াইট হাউসে সংবাদ সংগ্রহ করা সাংবাদিকদের পাশে থাকবে তারা। সংবাদমাধ্যমটির দাবি, সরকারের বাধা বা হস্তক্ষেপ ছাড়া সংবাদ সংগ্রহের অধিকার যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে সুরক্ষিত। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হলে তা ওই অধিকারের ওপর বেআইনি আঘাত হবে বলেও জানিয়েছে CNN।

পলিটিকোও জানিয়েছে, তারা বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা চালিয়ে যাবে। বর্তমান প্রশাসন ও ভবিষ্যতের যেকোনো প্রশাসন সম্পর্কে নিরপেক্ষভাবে সংবাদ প্রকাশের অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

MS NOW অবশ্য ট্রাম্পের ঘোষণার পর তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

‘জনগণের বাড়ি’ যুক্তি ট্রাম্পের

ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে হোয়াইট হাউসকে ‘জনগণের বাড়ি’ হিসেবে উল্লেখ করেন ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্য, জনগণের বাড়িতে কোন সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার থাকবে, সে বিষয়ে বাধ্যবাধকতা নেই।

তবে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, সরকারি কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জনগণকে তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত শুধু প্রশাসনিক বিষয় নয়; এর সঙ্গে সাংবিধানিক অধিকারও জড়িত।

এখন মূল প্রশ্ন হলো—ট্রাম্পের ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা কতটা কার্যকর করা যায় এবং আদালতে এর বৈধতা কীভাবে নির্ধারিত হয়। তিন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকেরা ইতোমধ্যে হোয়াইট হাউসে কাজ চালিয়ে যাওয়ায় বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের চেয়ে বড় আইনি ও সাংবিধানিক পরীক্ষার দিকে এগোচ্ছে।