০৯:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬

আগাম শীতকালীন সবজি বাজারে, স্বস্তি নেই ক্রেতার

The gallery was not found!

রাজধানীর বাজারে আসতে শুরু করেছে আগাম শীতকালীন সবজি। পাড়া-মহল্লার কাঁচাবাজার থেকে শুরু করে সড়কের পাশের ভ্যানেও মিলছে ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিমসহ নানা ধরনের সবজি। তবে সরবরাহ বাড়তে শুরু করলেও অধিকাংশ সবজির দাম এখনো সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। এর সঙ্গে মাছ ও ডিমের চড়া দাম এবং আদা-রসুনের মূল্যবৃদ্ধি সংসারের ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। বিপরীতে টানা ছুটিতে ঢাকার বাইরে মানুষের যাতায়াত বাড়ায় চাহিদা কমেছে মুরগির, ফলে কিছুটা কমেছে এর দাম।

রাজধানীর কারওয়ান বাজার, ভাটারা ও নতুন বাজার ঘুরে  এমন চিত্র দেখা গেছে।

বাজারে প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১১০ টাকায়। করলা, কাঁকরোল, বরবটি ও শসার দাম কেজিপ্রতি ৮০ থেকে ১০০ টাকা। টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা এবং শিম ১২০ থেকে ১৫০ টাকায়। পটোল ও ঢেঁড়সের কেজি ৬০ থেকে ৮০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ থেকে ৭০, ঝিঙা ৭০ থেকে ৮০ এবং মুলা ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া প্রতি কেজি মিষ্টিকুমড়া ৪০ থেকে ৫০ টাকা, কচুরমুখী ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং কাঁচামরিচ মান ও বাজারভেদে ১০০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতিটি লাউয়ের দাম ৬০ থেকে ৭০ টাকা।

এদিকে বাজারে উঠতে শুরু করেছে আগাম জাতের ফুলকপি ও বাঁধাকপি। আকারে ছোট এসব সবজির প্রতিটি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৫০ টাকায়। আলুর দাম কেজিপ্রতি ২৫ থেকে ৩০ টাকায় স্থিতিশীল রয়েছে। তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে কাঁচা পেঁপে, যার কেজি ৩০ টাকা।

কারওয়ান বাজারের সবজি বিক্রেতা মো. শাহজাহান বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে আগাম জাতের বিভিন্ন সবজি বাজারে আসছে। মৌসুমের শুরুতে এসব সবজির দাম কিছুটা বেশি থাকে। এ সময় কৃষকেরাও তুলনামূলক ভালো দাম পান। শীতকালীন সবজির পূর্ণ মৌসুম শুরু হলে সরবরাহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দাম কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সবজির বাজারে স্বস্তি না ফিরলেও মুরগির দামে সামান্য কমতি দেখা গেছে। গত সপ্তাহে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায় বিক্রি হলেও গতকাল দাম ছিল ১৮০ টাকা। সোনালি মুরগির কেজি ৩৩০ থেকে ৩৪০ টাকা, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৩৪০ থেকে ৩৫০ টাকা।

কারওয়ান বাজারের মুরগি বিক্রেতা মানিক জানান, সরবরাহ ও চাহিদার ওপর মুরগির দাম নির্ভর করে। টানা ছুটিতে অনেক মানুষ ঢাকা ছেড়ে যাওয়ায় এ সপ্তাহে বিক্রি কিছুটা কমেছে। চাহিদা কমার প্রভাব পড়েছে বাজারদরেও।

মুরগির দামে সামান্য স্বস্তি এলেও মাছের বাজারে তার প্রতিফলন নেই। বরং আগের সপ্তাহের তুলনায় বিভিন্ন ধরনের মাছের দাম কেজিপ্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

বাজারে এক থেকে দেড় কেজি ওজনের রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৩৩০ থেকে ৩৬০ টাকায়। পাবদা মাছের দাম ৩৫০ থেকে ৩৮০ টাকা, ছোট কাঁচকি ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকা এবং টেংরা ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা। চাষের কৈ বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ২৮০ টাকায়।

এ ছাড়া তেলাপিয়া মাছের কেজি ২২০ থেকে ২৪০ টাকা, চাষের পাঙাশ ২০০ থেকে ২৩০ টাকা এবং সরপুঁটি ২২০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাছের এমন দামে সীমিত আয়ের পরিবারগুলোর খাদ্যব্যয় সামলানো কঠিন হয়ে পড়ছে।

ডিমের বাজারেও ক্রেতাদের স্বস্তি নেই। প্রতি হালি ফার্মের মুরগির ডিম কিনতে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা গুনতে হচ্ছে। সে হিসাবে এক ডজন ডিমের দাম পড়ছে প্রায় ১৫০ টাকা।

অন্যদিকে রাজধানীর বাজারে বেড়েছে আদা ও রসুনের দাম। দেশি ও আমদানি করা—দুই ধরনের রসুনের দামই কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে। একই পরিমাণ বেড়েছে আমদানি করা আদার দামও। ফলে রান্নার প্রয়োজনীয় এসব পণ্য কিনতেও ক্রেতাদের বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।

নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্য নিয়ে অসন্তোষ জানিয়েছেন ক্রেতারা। কারওয়ান বাজারে কেনাকাটা করতে আসা সুমন হোসেন বলেন, শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে। বাজারে বিভিন্ন ধরনের শাকসবজিও পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু দাম এখনো তুলনামূলক বেশি। প্রায় সব পণ্যের দাম চড়া থাকায় সংসারের খরচ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, সবজির দাম কমলে সাধারণ ক্রেতারা কিছুটা স্বস্তি পেতেন।

বাজারের সামগ্রিক চিত্র বলছে, আগাম শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়লেও তার সুফল এখনো পুরোপুরি পাচ্ছেন না ক্রেতারা। মুরগির দামে সামান্য কমতি থাকলেও মাছ, ডিম ও রান্নার প্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্য বাজারের ব্যয়বৃদ্ধি অব্যাহত রেখেছে। শীতকালীন সবজির সরবরাহ আরও বাড়লে দাম কমতে পারে—এমন প্রত্যাশা থাকলেও আপাতত নিত্যপণ্যের বাজারে স্বস্তির অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় খবর

আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার রায় ১৯ নভেম্বর

Business Times24

আগাম শীতকালীন সবজি বাজারে, স্বস্তি নেই ক্রেতার

Update Time : ০৪:৩০:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

রাজধানীর বাজারে আসতে শুরু করেছে আগাম শীতকালীন সবজি। পাড়া-মহল্লার কাঁচাবাজার থেকে শুরু করে সড়কের পাশের ভ্যানেও মিলছে ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিমসহ নানা ধরনের সবজি। তবে সরবরাহ বাড়তে শুরু করলেও অধিকাংশ সবজির দাম এখনো সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। এর সঙ্গে মাছ ও ডিমের চড়া দাম এবং আদা-রসুনের মূল্যবৃদ্ধি সংসারের ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। বিপরীতে টানা ছুটিতে ঢাকার বাইরে মানুষের যাতায়াত বাড়ায় চাহিদা কমেছে মুরগির, ফলে কিছুটা কমেছে এর দাম।

রাজধানীর কারওয়ান বাজার, ভাটারা ও নতুন বাজার ঘুরে  এমন চিত্র দেখা গেছে।

বাজারে প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১১০ টাকায়। করলা, কাঁকরোল, বরবটি ও শসার দাম কেজিপ্রতি ৮০ থেকে ১০০ টাকা। টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা এবং শিম ১২০ থেকে ১৫০ টাকায়। পটোল ও ঢেঁড়সের কেজি ৬০ থেকে ৮০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ থেকে ৭০, ঝিঙা ৭০ থেকে ৮০ এবং মুলা ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া প্রতি কেজি মিষ্টিকুমড়া ৪০ থেকে ৫০ টাকা, কচুরমুখী ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং কাঁচামরিচ মান ও বাজারভেদে ১০০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতিটি লাউয়ের দাম ৬০ থেকে ৭০ টাকা।

এদিকে বাজারে উঠতে শুরু করেছে আগাম জাতের ফুলকপি ও বাঁধাকপি। আকারে ছোট এসব সবজির প্রতিটি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৫০ টাকায়। আলুর দাম কেজিপ্রতি ২৫ থেকে ৩০ টাকায় স্থিতিশীল রয়েছে। তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে কাঁচা পেঁপে, যার কেজি ৩০ টাকা।

কারওয়ান বাজারের সবজি বিক্রেতা মো. শাহজাহান বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে আগাম জাতের বিভিন্ন সবজি বাজারে আসছে। মৌসুমের শুরুতে এসব সবজির দাম কিছুটা বেশি থাকে। এ সময় কৃষকেরাও তুলনামূলক ভালো দাম পান। শীতকালীন সবজির পূর্ণ মৌসুম শুরু হলে সরবরাহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দাম কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সবজির বাজারে স্বস্তি না ফিরলেও মুরগির দামে সামান্য কমতি দেখা গেছে। গত সপ্তাহে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায় বিক্রি হলেও গতকাল দাম ছিল ১৮০ টাকা। সোনালি মুরগির কেজি ৩৩০ থেকে ৩৪০ টাকা, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৩৪০ থেকে ৩৫০ টাকা।

কারওয়ান বাজারের মুরগি বিক্রেতা মানিক জানান, সরবরাহ ও চাহিদার ওপর মুরগির দাম নির্ভর করে। টানা ছুটিতে অনেক মানুষ ঢাকা ছেড়ে যাওয়ায় এ সপ্তাহে বিক্রি কিছুটা কমেছে। চাহিদা কমার প্রভাব পড়েছে বাজারদরেও।

মুরগির দামে সামান্য স্বস্তি এলেও মাছের বাজারে তার প্রতিফলন নেই। বরং আগের সপ্তাহের তুলনায় বিভিন্ন ধরনের মাছের দাম কেজিপ্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

বাজারে এক থেকে দেড় কেজি ওজনের রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৩৩০ থেকে ৩৬০ টাকায়। পাবদা মাছের দাম ৩৫০ থেকে ৩৮০ টাকা, ছোট কাঁচকি ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকা এবং টেংরা ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা। চাষের কৈ বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ২৮০ টাকায়।

এ ছাড়া তেলাপিয়া মাছের কেজি ২২০ থেকে ২৪০ টাকা, চাষের পাঙাশ ২০০ থেকে ২৩০ টাকা এবং সরপুঁটি ২২০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাছের এমন দামে সীমিত আয়ের পরিবারগুলোর খাদ্যব্যয় সামলানো কঠিন হয়ে পড়ছে।

ডিমের বাজারেও ক্রেতাদের স্বস্তি নেই। প্রতি হালি ফার্মের মুরগির ডিম কিনতে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা গুনতে হচ্ছে। সে হিসাবে এক ডজন ডিমের দাম পড়ছে প্রায় ১৫০ টাকা।

অন্যদিকে রাজধানীর বাজারে বেড়েছে আদা ও রসুনের দাম। দেশি ও আমদানি করা—দুই ধরনের রসুনের দামই কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে। একই পরিমাণ বেড়েছে আমদানি করা আদার দামও। ফলে রান্নার প্রয়োজনীয় এসব পণ্য কিনতেও ক্রেতাদের বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।

নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্য নিয়ে অসন্তোষ জানিয়েছেন ক্রেতারা। কারওয়ান বাজারে কেনাকাটা করতে আসা সুমন হোসেন বলেন, শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে। বাজারে বিভিন্ন ধরনের শাকসবজিও পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু দাম এখনো তুলনামূলক বেশি। প্রায় সব পণ্যের দাম চড়া থাকায় সংসারের খরচ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, সবজির দাম কমলে সাধারণ ক্রেতারা কিছুটা স্বস্তি পেতেন।

বাজারের সামগ্রিক চিত্র বলছে, আগাম শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়লেও তার সুফল এখনো পুরোপুরি পাচ্ছেন না ক্রেতারা। মুরগির দামে সামান্য কমতি থাকলেও মাছ, ডিম ও রান্নার প্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্য বাজারের ব্যয়বৃদ্ধি অব্যাহত রেখেছে। শীতকালীন সবজির সরবরাহ আরও বাড়লে দাম কমতে পারে—এমন প্রত্যাশা থাকলেও আপাতত নিত্যপণ্যের বাজারে স্বস্তির অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।