ছয় বছর বয়সে ব্যবসায়িক বৈঠকে অংশগ্রহণ, সাত বছরেই ইউটিউব চ্যানেল, আর ১৪ বছর বয়সে দুবাইয়ের বুর্জ খলিফায় নিজের প্রযুক্তি উদ্যোগের অফিস। ভারতীয় বংশোদ্ভূত কিশোর জয়নাম জৈনের পথচলা যেন বয়সের চেনা হিসাবকেই নতুন করে ভাবতে শেখায়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক উদ্যোগ মেঙ্গো ইঞ্জিন নিয়ে কাজ করে ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনায় এসেছে সে।
দুবাইয়ের বুর্জ খলিফার ১৪১তম তলায় জয়নামের উদ্যোগ মেঙ্গো ইঞ্জিনের অফিস। সম্প্রতি শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড সিআইও ২০০ সামিটের সমাপনী আয়োজনে অনুষ্ঠানের সঞ্চালক তাকে ‘নেক্সট ইলন মাস্ক’ বলে উল্লেখ করেন। তবে এই উপাধির চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ তার প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করার আগ্রহ এবং নতুন ধারণাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার চেষ্টা।
ছয় বছরেই ব্যবসার প্রতি আগ্রহ
জয়নামের পরিবারের আদি নিবাস ভারতের পুনেতে। পাঁচ বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে দুবাইয়ে যায় সে। বাবার সঙ্গে ব্যবসায়িক পরিবেশে যাতায়াতের সুবাদে ছয় বছর বয়সেই প্রথম ব্যবসায়িক বৈঠকে অংশ নেয় জয়নাম। সেখান থেকেই ব্যবসা সম্পর্কে জানার আগ্রহ তৈরি হয়।
সাত বছর বয়সে ছোট বোনকে সঙ্গে নিয়ে ইউটিউব চ্যানেল চালু করে সে। প্রথম দিকে খেলনার বাক্স খোলার ভিডিও তৈরি করলেও পরে বিজ্ঞানভিত্তিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার দিকে মনোযোগ দেয় তারা। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাত্র তিন মাসে চ্যানেলটির সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়ে যায়।
৫০ দিনে ১২০টি আয়োজন
প্রযুক্তির পাশাপাশি সামাজিক উদ্যোগেও সক্রিয় ছিল জয়নাম। ২০২২ সালে সে ও তার দল ভারতের মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় ৫০ দিনে ১২০টি শিক্ষামূলক ও সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। প্রায় ছয় হাজার কিলোমিটার ভ্রমণ করে এসব আয়োজনে ৫০ হাজারের বেশি মানুষের কাছে পৌঁছায় দলটি।
পড়াশোনাতেও দ্রুত এগিয়েছে জয়নাম। দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া ও ইন্ডিয়া টুডে-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাত্র ১৩ বছর বয়সে কেমব্রিজের আইজিসিএসই পদ্ধতিতে দশম শ্রেণির সমমানের পরীক্ষা সম্পন্ন করে সে।
কী করে মেঙ্গো ইঞ্জিন?
জয়নামের প্রতিষ্ঠিত মেঙ্গো ইঞ্জিন একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বিপণন প্ল্যাটফর্ম। ছোট ব্যবসা ও নতুন উদ্যোক্তাদের বিপণন পরিকল্পনা, প্রচারণার বিষয়বস্তু তৈরি, সম্ভাব্য ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং গ্রাহক ব্যবস্থাপনায় সহায়তা করাই এর লক্ষ্য।
জয়নাম প্ল্যাটফর্মটিকে ব্যবসার জন্য একধরনের ‘এআই সহপ্রতিষ্ঠাতা’ হিসেবে তুলে ধরেছে। ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিপণনসংক্রান্ত কাজ সহজ করাই এর মূল উদ্দেশ্য। তবে সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, উদ্যোগটি এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। ফলে এর কার্যকারিতা ও ভবিষ্যৎ সাফল্য সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সময় আসেনি।
ইলন মাস্কের সঙ্গে তুলনা কতটা যৌক্তিক?
অল্প বয়সে প্রযুক্তি উদ্যোগ প্রতিষ্ঠা এবং এআই দিয়ে ব্যবসায়িক সমস্যার সমাধানের চেষ্টা জয়নামকে আলোচনায় এনেছে। এ কারণেই সামিটের সঞ্চালক তাকে ‘নেক্সট ইলন মাস্ক’ বলেছেন। তবে এটি প্রশংসাসূচক মন্তব্য, কোনো আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি নয়। প্রতিষ্ঠিত প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের অর্জনের সঙ্গে জয়নামের বর্তমান অবস্থানের সরাসরি তুলনাও যথাযথ হবে না।
বুর্জ খলিফায় অফিস থাকার চেয়েও জয়নামের বড় পরিচয়, অল্প বয়সে নতুন ধারণা নিয়ে কাজ শুরু করার সাহস। তার উদ্যোগ ভবিষ্যতে কতটা সফল হবে, তা নির্ভর করবে প্রযুক্তির কার্যকারিতা, গ্রাহকের আস্থা ও বাস্তব সমস্যার সমাধানের ওপর। সেই পরীক্ষায় জয়নাম কতটা এগোতে পারে, এখন সেদিকেই নজর।
তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়া টুডে, দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া ও জয়নাম জৈনের ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট।

নিজস্ব প্রতিবেদক 





















