০৯:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬

জুতা উৎপাদনে বিশ্বে সপ্তম বাংলাদেশ, শীর্ষে চীন

The gallery was not found!

বিশ্বের জুতাশিল্পে গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। ২০২৫ সালে দেশে উৎপাদিত হয়েছে প্রায় ৫৫ কোটি ৪০ লাখ জোড়া জুতা। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বের শীর্ষ জুতা উৎপাদনকারী দেশের তালিকায় সপ্তম স্থান দখল করেছে বাংলাদেশ। তবে উৎপাদনের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে চীন। দেশটি একাই উৎপাদন করেছে বিশ্বের মোট জুতার ৫৫ দশমিক ৬ শতাংশ।

পর্তুগালের ফুটওয়্যার, কম্পোনেন্টস অ্যান্ড লেদার গুডস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (এপিআইসিসিএপিএস) প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড ফুটওয়্যার ইয়ারবুক ২০২৬-এ এসব তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিশ্বে মোট ২ হাজার ৪৬০ কোটি জোড়া জুতা উৎপাদিত হয়েছে। আগের বছরের তুলনায় উৎপাদন কমেছে শূন্য দশমিক ১ শতাংশ। যদিও ২০২৪ সালে বিশ্বে জুতা উৎপাদন প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছিল। গত বছর উৎপাদিত জুতার ৮৮ দশমিক ৭ শতাংশ এসেছে এশিয়ার দেশগুলো থেকে।

জুতা উৎপাদনে শীর্ষ সাত দেশ

বিশ্বে উৎপাদিত মোট জুতার ৮৯ দশমিক ৫ শতাংশ আসে মাত্র ১০টি দেশ থেকে। এই তালিকায় এশিয়ার দেশগুলোর আধিপত্য স্পষ্ট।

উৎপাদনের হিসাবে শীর্ষে থাকা চীন ২০২৫ সালে ১ হাজার ৩৬৬ কোটি জোড়া জুতা তৈরি করেছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ভারত উৎপাদন করেছে ৩০০ কোটি জোড়া। তৃতীয় অবস্থানে থাকা ভিয়েতনামের উৎপাদন ১৬৫ কোটি ৮০ লাখ জোড়া।

তালিকার চতুর্থ, পঞ্চম ও ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে যথাক্রমে ব্রাজিল, ইন্দোনেশিয়া ও পাকিস্তান। দেশ তিনটি উৎপাদন করেছে যথাক্রমে ৮৪ কোটি ৮০ লাখ, ৭৮ কোটি ২০ লাখ ও ৬২ কোটি ৭০ লাখ জোড়া জুতা।

সপ্তম স্থানে থাকা বাংলাদেশের উৎপাদন ৫৫ কোটি ৪০ লাখ জোড়া, যা বৈশ্বিক উৎপাদনের ২ দশমিক ৩ শতাংশ। শীর্ষ দশের বাকি তিন দেশ হলো তুরস্ক, কম্বোডিয়া ও মেক্সিকো।

জুতা রপ্তানিতে চীনের আধিপত্য কমছে

উৎপাদনের পাশাপাশি জুতা রপ্তানিতেও এশিয়ার দেশগুলো এগিয়ে রয়েছে। বিশ্বে রপ্তানি হওয়া মোট জুতার ৮৪ দশমিক ৩ শতাংশ আসে এশিয়া থেকে। তবে উৎপাদনে সপ্তম অবস্থানে থাকলেও জুতা রপ্তানিতে শীর্ষ ১০ দেশের তালিকায় জায়গা হয়নি বাংলাদেশের।

২০২৫ সালে চীন প্রায় ৯০১ কোটি জোড়া জুতা রপ্তানি করেছে। বিশ্ববাজারে দেশটির রপ্তানি অংশ ৬১ দশমিক ২ শতাংশ। তবে ২০১৬ সালে এই অংশ ছিল ৬৯ দশমিক ১ শতাংশ। শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি, বাণিজ্যযুদ্ধসহ বিভিন্ন কারণে বিশ্ববাজারে চীনের রপ্তানির অংশ কমছে।

চীনের এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে লাভবান হচ্ছে ভিয়েতনাম। গত বছর দেশটি প্রায় ১৬৬ কোটি জোড়া জুতা রপ্তানি করেছে, যা বৈশ্বিক রপ্তানির ১১ দশমিক ২ শতাংশ। এ ছাড়া ইন্দোনেশিয়া ৫৮ কোটি, জার্মানি ৩৬ কোটি এবং ভারত ২৭ কোটি জোড়া জুতা রপ্তানি করেছে।

বিশ্বের শীর্ষ ১০ জুতা রপ্তানিকারক দেশের তালিকায় চীন ও ভিয়েতনামের পর রয়েছে ইন্দোনেশিয়া, জার্মানি, ভারত, কম্বোডিয়া, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস, ইতালি ও তুরস্ক।

জুতার রপ্তানিমূল্যে এগিয়ে ইউরোপ

জুতা রপ্তানিতে এশিয়া এগিয়ে থাকলেও প্রতি জোড়া জুতার গড় রপ্তানিমূল্যে এগিয়ে রয়েছে ইউরোপ। ওয়ার্ল্ড ফুটওয়্যার ইয়ারবুকের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে মোট জুতা রপ্তানির ১৩ দশমিক ১ শতাংশ আসে ইউরোপ থেকে। এই অঞ্চলের রপ্তানিকারকেরা প্রতি জোড়া জুতা গড়ে ৩৪ দশমিক ৭৬ ডলারে বিক্রি করেন। অন্যদিকে এশিয়ার রপ্তানিকারকেরা প্রতি জোড়া জুতার গড় মূল্য পান ৮ দশমিক ০২ ডলার।

আমদানির ক্ষেত্রেও ইউরোপ বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাজার। ২০২৫ সালে বৈশ্বিক বাণিজ্যের মাধ্যমে সরবরাহ করা মোট জুতার ৩৫ দশমিক ৩ শতাংশ আমদানি করেছে মহাদেশটি। এশিয়ার অংশ ছিল প্রায় ২৫ দশমিক ৫ শতাংশ এবং উত্তর আমেরিকার ২০ দশমিক ৩ শতাংশ।

তবে জুতা আমদানিতে উত্তর আমেরিকার অংশ কমেছে। ২০১৬ সালে বৈশ্বিক আমদানিতে অঞ্চলটির হিস্যা ছিল ২৩ দশমিক ৩ শতাংশ। বিপরীতে আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার অংশ বেড়েছে।

জুতার সবচেয়ে বড় ভোক্তা এশিয়া

উৎপাদন ও রপ্তানির পাশাপাশি জুতার ব্যবহারের ক্ষেত্রেও এশিয়া সবচেয়ে বড় বাজার। ২০২৫ সালে বিশ্বে ব্যবহৃত মোট জুতার ৫৬ শতাংশ ব্যবহার করেছেন এশিয়ার মানুষ। এই চিত্র বলছে, উৎপাদনকেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পাশাপাশি এশিয়া ক্রমেই জুতার বড় ভোক্তা বাজারেও পরিণত হচ্ছে।

তবে এশিয়ায় জুতার মোট ব্যবহার বেশি হওয়ার প্রধান কারণ বিশাল জনসংখ্যা; মাথাপিছু ব্যবহার নয়। গত বছর এশিয়ায় একজন মানুষ গড়ে ২ দশমিক ৬ জোড়া জুতা ব্যবহার করেছেন।

অন্যদিকে মাথাপিছু জুতা ব্যবহারে শীর্ষে রয়েছে উত্তর আমেরিকা। সেখানে একজন মানুষ বছরে গড়ে ৪ দশমিক ৬ জোড়া জুতা ব্যবহার করেছেন। ইউরোপে এই গড় ৪ দশমিক ১ জোড়া। আফ্রিকায় মাথাপিছু ব্যবহার সবচেয়ে কম, মাত্র ১ দশমিক ৬ জোড়া।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও জুতার সাশ্রয়ী মূল্য এখনো আফ্রিকায় চাহিদা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

বাংলাদেশের জন্য কী বার্তা

বিশ্বে জুতা উৎপাদনে বাংলাদেশের সপ্তম অবস্থান দেশের শিল্প খাতের জন্য ইতিবাচক চিত্র তুলে ধরে। তবে উৎপাদনে এগিয়ে থাকলেই রপ্তানি আয় বা আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় সমান অগ্রগতি নিশ্চিত হয় না। কারণ, জুতা রপ্তানির শীর্ষ ১০ দেশের তালিকায় এখনো বাংলাদেশের অবস্থান নেই।

অন্যদিকে চীনের রপ্তানি অংশ কমে আসা এবং ভিয়েতনামের অগ্রগতি বৈশ্বিক জুতাবাজারে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বাংলাদেশের জন্য এই বাজারে অবস্থান শক্তিশালী করতে উৎপাদনের পাশাপাশি রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানো, উন্নত মানের জুতা তৈরি এবং তুলনামূলক বেশি মূল্যের পণ্যে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

সব মিলিয়ে, জুতা উৎপাদনে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থান সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিলেও সেই সম্ভাবনাকে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ও অধিক মূল্য সংযোজনে রূপান্তর করাই হবে দেশের জুতাশিল্পের বড় চ্যালেঞ্জ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় খবর

আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার রায় ১৯ নভেম্বর

Business Times24

জুতা উৎপাদনে বিশ্বে সপ্তম বাংলাদেশ, শীর্ষে চীন

Update Time : ১০:১১:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

বিশ্বের জুতাশিল্পে গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। ২০২৫ সালে দেশে উৎপাদিত হয়েছে প্রায় ৫৫ কোটি ৪০ লাখ জোড়া জুতা। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বের শীর্ষ জুতা উৎপাদনকারী দেশের তালিকায় সপ্তম স্থান দখল করেছে বাংলাদেশ। তবে উৎপাদনের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে চীন। দেশটি একাই উৎপাদন করেছে বিশ্বের মোট জুতার ৫৫ দশমিক ৬ শতাংশ।

পর্তুগালের ফুটওয়্যার, কম্পোনেন্টস অ্যান্ড লেদার গুডস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (এপিআইসিসিএপিএস) প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড ফুটওয়্যার ইয়ারবুক ২০২৬-এ এসব তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিশ্বে মোট ২ হাজার ৪৬০ কোটি জোড়া জুতা উৎপাদিত হয়েছে। আগের বছরের তুলনায় উৎপাদন কমেছে শূন্য দশমিক ১ শতাংশ। যদিও ২০২৪ সালে বিশ্বে জুতা উৎপাদন প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছিল। গত বছর উৎপাদিত জুতার ৮৮ দশমিক ৭ শতাংশ এসেছে এশিয়ার দেশগুলো থেকে।

জুতা উৎপাদনে শীর্ষ সাত দেশ

বিশ্বে উৎপাদিত মোট জুতার ৮৯ দশমিক ৫ শতাংশ আসে মাত্র ১০টি দেশ থেকে। এই তালিকায় এশিয়ার দেশগুলোর আধিপত্য স্পষ্ট।

উৎপাদনের হিসাবে শীর্ষে থাকা চীন ২০২৫ সালে ১ হাজার ৩৬৬ কোটি জোড়া জুতা তৈরি করেছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ভারত উৎপাদন করেছে ৩০০ কোটি জোড়া। তৃতীয় অবস্থানে থাকা ভিয়েতনামের উৎপাদন ১৬৫ কোটি ৮০ লাখ জোড়া।

তালিকার চতুর্থ, পঞ্চম ও ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে যথাক্রমে ব্রাজিল, ইন্দোনেশিয়া ও পাকিস্তান। দেশ তিনটি উৎপাদন করেছে যথাক্রমে ৮৪ কোটি ৮০ লাখ, ৭৮ কোটি ২০ লাখ ও ৬২ কোটি ৭০ লাখ জোড়া জুতা।

সপ্তম স্থানে থাকা বাংলাদেশের উৎপাদন ৫৫ কোটি ৪০ লাখ জোড়া, যা বৈশ্বিক উৎপাদনের ২ দশমিক ৩ শতাংশ। শীর্ষ দশের বাকি তিন দেশ হলো তুরস্ক, কম্বোডিয়া ও মেক্সিকো।

জুতা রপ্তানিতে চীনের আধিপত্য কমছে

উৎপাদনের পাশাপাশি জুতা রপ্তানিতেও এশিয়ার দেশগুলো এগিয়ে রয়েছে। বিশ্বে রপ্তানি হওয়া মোট জুতার ৮৪ দশমিক ৩ শতাংশ আসে এশিয়া থেকে। তবে উৎপাদনে সপ্তম অবস্থানে থাকলেও জুতা রপ্তানিতে শীর্ষ ১০ দেশের তালিকায় জায়গা হয়নি বাংলাদেশের।

২০২৫ সালে চীন প্রায় ৯০১ কোটি জোড়া জুতা রপ্তানি করেছে। বিশ্ববাজারে দেশটির রপ্তানি অংশ ৬১ দশমিক ২ শতাংশ। তবে ২০১৬ সালে এই অংশ ছিল ৬৯ দশমিক ১ শতাংশ। শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি, বাণিজ্যযুদ্ধসহ বিভিন্ন কারণে বিশ্ববাজারে চীনের রপ্তানির অংশ কমছে।

চীনের এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে লাভবান হচ্ছে ভিয়েতনাম। গত বছর দেশটি প্রায় ১৬৬ কোটি জোড়া জুতা রপ্তানি করেছে, যা বৈশ্বিক রপ্তানির ১১ দশমিক ২ শতাংশ। এ ছাড়া ইন্দোনেশিয়া ৫৮ কোটি, জার্মানি ৩৬ কোটি এবং ভারত ২৭ কোটি জোড়া জুতা রপ্তানি করেছে।

বিশ্বের শীর্ষ ১০ জুতা রপ্তানিকারক দেশের তালিকায় চীন ও ভিয়েতনামের পর রয়েছে ইন্দোনেশিয়া, জার্মানি, ভারত, কম্বোডিয়া, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস, ইতালি ও তুরস্ক।

জুতার রপ্তানিমূল্যে এগিয়ে ইউরোপ

জুতা রপ্তানিতে এশিয়া এগিয়ে থাকলেও প্রতি জোড়া জুতার গড় রপ্তানিমূল্যে এগিয়ে রয়েছে ইউরোপ। ওয়ার্ল্ড ফুটওয়্যার ইয়ারবুকের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে মোট জুতা রপ্তানির ১৩ দশমিক ১ শতাংশ আসে ইউরোপ থেকে। এই অঞ্চলের রপ্তানিকারকেরা প্রতি জোড়া জুতা গড়ে ৩৪ দশমিক ৭৬ ডলারে বিক্রি করেন। অন্যদিকে এশিয়ার রপ্তানিকারকেরা প্রতি জোড়া জুতার গড় মূল্য পান ৮ দশমিক ০২ ডলার।

আমদানির ক্ষেত্রেও ইউরোপ বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাজার। ২০২৫ সালে বৈশ্বিক বাণিজ্যের মাধ্যমে সরবরাহ করা মোট জুতার ৩৫ দশমিক ৩ শতাংশ আমদানি করেছে মহাদেশটি। এশিয়ার অংশ ছিল প্রায় ২৫ দশমিক ৫ শতাংশ এবং উত্তর আমেরিকার ২০ দশমিক ৩ শতাংশ।

তবে জুতা আমদানিতে উত্তর আমেরিকার অংশ কমেছে। ২০১৬ সালে বৈশ্বিক আমদানিতে অঞ্চলটির হিস্যা ছিল ২৩ দশমিক ৩ শতাংশ। বিপরীতে আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার অংশ বেড়েছে।

জুতার সবচেয়ে বড় ভোক্তা এশিয়া

উৎপাদন ও রপ্তানির পাশাপাশি জুতার ব্যবহারের ক্ষেত্রেও এশিয়া সবচেয়ে বড় বাজার। ২০২৫ সালে বিশ্বে ব্যবহৃত মোট জুতার ৫৬ শতাংশ ব্যবহার করেছেন এশিয়ার মানুষ। এই চিত্র বলছে, উৎপাদনকেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পাশাপাশি এশিয়া ক্রমেই জুতার বড় ভোক্তা বাজারেও পরিণত হচ্ছে।

তবে এশিয়ায় জুতার মোট ব্যবহার বেশি হওয়ার প্রধান কারণ বিশাল জনসংখ্যা; মাথাপিছু ব্যবহার নয়। গত বছর এশিয়ায় একজন মানুষ গড়ে ২ দশমিক ৬ জোড়া জুতা ব্যবহার করেছেন।

অন্যদিকে মাথাপিছু জুতা ব্যবহারে শীর্ষে রয়েছে উত্তর আমেরিকা। সেখানে একজন মানুষ বছরে গড়ে ৪ দশমিক ৬ জোড়া জুতা ব্যবহার করেছেন। ইউরোপে এই গড় ৪ দশমিক ১ জোড়া। আফ্রিকায় মাথাপিছু ব্যবহার সবচেয়ে কম, মাত্র ১ দশমিক ৬ জোড়া।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও জুতার সাশ্রয়ী মূল্য এখনো আফ্রিকায় চাহিদা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

বাংলাদেশের জন্য কী বার্তা

বিশ্বে জুতা উৎপাদনে বাংলাদেশের সপ্তম অবস্থান দেশের শিল্প খাতের জন্য ইতিবাচক চিত্র তুলে ধরে। তবে উৎপাদনে এগিয়ে থাকলেই রপ্তানি আয় বা আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় সমান অগ্রগতি নিশ্চিত হয় না। কারণ, জুতা রপ্তানির শীর্ষ ১০ দেশের তালিকায় এখনো বাংলাদেশের অবস্থান নেই।

অন্যদিকে চীনের রপ্তানি অংশ কমে আসা এবং ভিয়েতনামের অগ্রগতি বৈশ্বিক জুতাবাজারে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বাংলাদেশের জন্য এই বাজারে অবস্থান শক্তিশালী করতে উৎপাদনের পাশাপাশি রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানো, উন্নত মানের জুতা তৈরি এবং তুলনামূলক বেশি মূল্যের পণ্যে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

সব মিলিয়ে, জুতা উৎপাদনে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থান সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিলেও সেই সম্ভাবনাকে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ও অধিক মূল্য সংযোজনে রূপান্তর করাই হবে দেশের জুতাশিল্পের বড় চ্যালেঞ্জ।