০৯:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬

সেকেন্ডেই ৬০ মাইল গতি তোলে টেসলার উড়ন্ত গাড়ি!

The gallery was not found!

বহু প্রতীক্ষিত পরবর্তী প্রজন্মের রোডস্টার গাড়ি আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করেছে বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলা। এক শ্বাসরুদ্ধকর প্রদর্শনীর মাধ্যমে গাড়িটি উন্মোচন করা হয়। প্রদর্শনীতে এটি কমপ্রেসড-এয়ার থ্রাস্টার ব্যবহার করে বাতাসে উড়ে কলাকৌশল প্রদর্শন করে। এ খবর প্রকাশ করেছে ফক্স নিউজ ।

টেক্সাসের ম্যাকগ্রেগরে স্পেসএক্সের একটি পরীক্ষামূলক কেন্দ্রে গাড়িটি উন্মোচন করা হয়। সেখানে গাড়িটিকে শূন্যে উড়তে, মধ্যাকাশে ঘুরপাক খেতে এবং এক সেকেন্ডেরও কম সময়ে শূন্য থেকে ঘণ্টায় ৬০ মাইল গতি তুলতে দেখা যায়। প্রদর্শনীর পর টেসলা ও স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক বলেন, দেখা যাচ্ছে ভবিষ্যতে আসলেই উড়ন্ত গাড়ি থাকছে। টেসলার ভেহিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট লার্স মোরাভি যোগ করেন, উড়ন্ত গাড়ি এখন আর কল্পনা নয়, বাস্তব।

রোমাঞ্চকর এই প্রদর্শনীতে দেখা যায়, নতুন রোডস্টার একটি বিশাল বাঁকানো র‌্যাম্প বেয়ে দ্রুতগতিতে উঠছে। ফ্যান-ভিত্তিক সাকশন সিস্টেমের কারণে এটি পুরোপুরি উল্টো অবস্থায়ও ট্র্যাকের সঙ্গে আটকে থাকে। এরপর কোল্ড-গ্যাস থ্রাস্টার ব্যবহার করে গাড়িটি র‌্যাম্প থেকে শূন্যে উৎক্ষেপণ করে, মাঝ আকাশে ভেলকি দেখিয়ে নিরাপদে মাটিতে নেমে আসে। অন্য এক প্রদর্শনীতে গাড়িটি কয়েকটি কার ও সেমি-ট্রাকের ওপর দিয়ে উড়ে ও পাশ ফিরে গিয়ে অন্য প্রান্তে সফলভাবে অবতরণ করে।

মাস্ক জানান, রোডস্টারের বিশেষ কিছু সংস্করণ শূন্য থেকে ৬০ মাইল গতি তুলতে এক সেকেন্ডেরও কম সময় নেবে এবং এর সর্বোচ্চ গতি হবে ঘণ্টায় ২৩০ মাইলের বেশি।

টেসলা জানায়, সাধারণ গাড়ির গতি চাকার গ্রিপের ওপর সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু এই থ্রাস্টার সিস্টেম টায়ারগুলোর তুলনায় চার থেকে পাঁচ গুণ বেশি শক্তি তৈরি করে। প্রতিষ্ঠানটি একে মানুষের চালিত গাড়িগুলোর ইতিহাসের ‘সেরা সৃষ্টি’ বলে আখ্যায়িত করেছে।

টেসলার কর্মকর্তারা জানান, ২০২৮ সাল থেকে এই গাড়ির মূল উৎপাদন শুরু হবে।

২০১৭ সালে যখন রোডস্টারের প্রাথমিক কনসেপ্ট আনা হয়েছিল, তখন এর ভিত্তিমূল্য ধরা হয়েছিল ২ লাখ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ কোটি ৪৬ লাখ টাকা)। উন্মোচনের পর টেসলার বুকিং পেজে দেখা যায়, ‘পারফরম্যান্স’ সংস্করণের অগ্রিম বুকিং ফি ধরা হয়েছে ৫০ হাজার ডলার (প্রায় ৬১ লাখ ৫০ হাজার টাকা) এবং অ্যাক্সিলারেশন থ্রাস্টারসমৃদ্ধ ‘থ্রাস্ট’ সংস্করণের বুকিং ফি ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার (প্রায় ৩ কোটি ৭ লাখ টাকা)। এছাড়া ‘রকেট’ নামের একটি বিশেষ সংস্করণ কেবল আমন্ত্রণের ভিত্তিতে দেয়া হবে, যা একক আসনের এবং এতে পূর্ণাঙ্গ ফ্লাইট সিস্টেম থাকবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় খবর

আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার রায় ১৯ নভেম্বর

Business Times24

সেকেন্ডেই ৬০ মাইল গতি তোলে টেসলার উড়ন্ত গাড়ি!

Update Time : ০৭:২৮:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

বহু প্রতীক্ষিত পরবর্তী প্রজন্মের রোডস্টার গাড়ি আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করেছে বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলা। এক শ্বাসরুদ্ধকর প্রদর্শনীর মাধ্যমে গাড়িটি উন্মোচন করা হয়। প্রদর্শনীতে এটি কমপ্রেসড-এয়ার থ্রাস্টার ব্যবহার করে বাতাসে উড়ে কলাকৌশল প্রদর্শন করে। এ খবর প্রকাশ করেছে ফক্স নিউজ ।

টেক্সাসের ম্যাকগ্রেগরে স্পেসএক্সের একটি পরীক্ষামূলক কেন্দ্রে গাড়িটি উন্মোচন করা হয়। সেখানে গাড়িটিকে শূন্যে উড়তে, মধ্যাকাশে ঘুরপাক খেতে এবং এক সেকেন্ডেরও কম সময়ে শূন্য থেকে ঘণ্টায় ৬০ মাইল গতি তুলতে দেখা যায়। প্রদর্শনীর পর টেসলা ও স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক বলেন, দেখা যাচ্ছে ভবিষ্যতে আসলেই উড়ন্ত গাড়ি থাকছে। টেসলার ভেহিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট লার্স মোরাভি যোগ করেন, উড়ন্ত গাড়ি এখন আর কল্পনা নয়, বাস্তব।

রোমাঞ্চকর এই প্রদর্শনীতে দেখা যায়, নতুন রোডস্টার একটি বিশাল বাঁকানো র‌্যাম্প বেয়ে দ্রুতগতিতে উঠছে। ফ্যান-ভিত্তিক সাকশন সিস্টেমের কারণে এটি পুরোপুরি উল্টো অবস্থায়ও ট্র্যাকের সঙ্গে আটকে থাকে। এরপর কোল্ড-গ্যাস থ্রাস্টার ব্যবহার করে গাড়িটি র‌্যাম্প থেকে শূন্যে উৎক্ষেপণ করে, মাঝ আকাশে ভেলকি দেখিয়ে নিরাপদে মাটিতে নেমে আসে। অন্য এক প্রদর্শনীতে গাড়িটি কয়েকটি কার ও সেমি-ট্রাকের ওপর দিয়ে উড়ে ও পাশ ফিরে গিয়ে অন্য প্রান্তে সফলভাবে অবতরণ করে।

মাস্ক জানান, রোডস্টারের বিশেষ কিছু সংস্করণ শূন্য থেকে ৬০ মাইল গতি তুলতে এক সেকেন্ডেরও কম সময় নেবে এবং এর সর্বোচ্চ গতি হবে ঘণ্টায় ২৩০ মাইলের বেশি।

টেসলা জানায়, সাধারণ গাড়ির গতি চাকার গ্রিপের ওপর সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু এই থ্রাস্টার সিস্টেম টায়ারগুলোর তুলনায় চার থেকে পাঁচ গুণ বেশি শক্তি তৈরি করে। প্রতিষ্ঠানটি একে মানুষের চালিত গাড়িগুলোর ইতিহাসের ‘সেরা সৃষ্টি’ বলে আখ্যায়িত করেছে।

টেসলার কর্মকর্তারা জানান, ২০২৮ সাল থেকে এই গাড়ির মূল উৎপাদন শুরু হবে।

২০১৭ সালে যখন রোডস্টারের প্রাথমিক কনসেপ্ট আনা হয়েছিল, তখন এর ভিত্তিমূল্য ধরা হয়েছিল ২ লাখ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ কোটি ৪৬ লাখ টাকা)। উন্মোচনের পর টেসলার বুকিং পেজে দেখা যায়, ‘পারফরম্যান্স’ সংস্করণের অগ্রিম বুকিং ফি ধরা হয়েছে ৫০ হাজার ডলার (প্রায় ৬১ লাখ ৫০ হাজার টাকা) এবং অ্যাক্সিলারেশন থ্রাস্টারসমৃদ্ধ ‘থ্রাস্ট’ সংস্করণের বুকিং ফি ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার (প্রায় ৩ কোটি ৭ লাখ টাকা)। এছাড়া ‘রকেট’ নামের একটি বিশেষ সংস্করণ কেবল আমন্ত্রণের ভিত্তিতে দেয়া হবে, যা একক আসনের এবং এতে পূর্ণাঙ্গ ফ্লাইট সিস্টেম থাকবে।