রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে আগামী ডিসেম্বর মাসেই বাণিজ্যিকভাবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত হতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীরা।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ অ্যাটমিক এনার্জি রেগুলেটরি অথরিটি (বায়রা) এই চূড়ান্ত অনুমোদন নিশ্চিত করে বলে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, দেশের প্রথম এবং সবচেয়ে ব্যয়বহুল প্রকল্প হিসেবে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র এখন মূল বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত প্রস্তুতির শেষ ধাপে রয়েছে। প্রথম ইউনিটের কমিশনিং কার্যক্রমের অংশ হিসেবে প্রেসার অপারেটেড রিলিফ ভালভ (পিওআরভি/পিওএসভি)-এর ১৬ মেগাপাসকেল চাপের পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। পরবর্তীতে সর্বশেষ ১৮ মেগাপাসকেল চাপের নিরাপত্তাজনিত পরীক্ষাতেও সফল ফলাফল পাওয়া যায়।
দ্বিতীয় ইউনিটের প্রস্তুতিও এগোচ্ছে
প্রথম ইউনিটের এই অগ্রগতির মধ্যেই রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের প্রস্তুতিও এগিয়ে চলছে। গত শনিবার (৩ অক্টোবর) দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য পারমাণবিক জ্বালানির প্রথম চালান প্রকল্প এলাকায় পৌঁছেছে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে দুটি ইউনিট রয়েছে। প্রতিটি ইউনিটের উৎপাদনক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। দুটি ইউনিট পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট যুক্ত হওয়ার কথা।
প্রথম ইউনিটে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর অনুমোদন পাওয়ায় এখন রূপপুরের সামনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো ধাপে ধাপে পরীক্ষাগুলো সফলভাবে শেষ করা। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ডিসেম্বরের শেষ দিকে জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ সরবরাহের যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তা বাস্তবে রূপ নিতে পারে।
রূপপুরে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হলে বাংলাদেশ পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশগুলোর তালিকায় যুক্ত হবে। এর মধ্য দিয়ে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিরাপত্তার পাশাপাশি পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারের সক্ষমতার ক্ষেত্রেও নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক 





















