০২:২১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬

বিইআরসির দাম কাগজে, বাজারে এলপিজির আগুন

The gallery was not found!

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত দামে মিলছে না তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি)। ১২ কেজির সিলিন্ডারের নতুন দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হলেও খুচরা বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায়। কোথাও কোথাও আগের মতোই বাড়তি দাম নেওয়া হচ্ছে।

ফলে দাম বাড়ানোর পরও স্বস্তি ফিরছে না ভোক্তাদের মধ্যে। তাদের অভিযোগ, সরবরাহ ও মজুতের বিভিন্ন পর্যায়ে কারসাজির কারণেই বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে। তবে আমদানির তথ্য বলছে, আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে দেশে এলপিজির আমদানি ছিল বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে।

সেপ্টেম্বরে ১২ কেজির সিলিন্ডারের বিইআরসি নির্ধারিত দাম ছিল ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। সংকটের অজুহাতে তখন সেটি ২ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ৪ অক্টোবর এলপিজির দাম কেজিতে ২১ টাকা বাড়িয়ে ১২ কেজির সিলিন্ডারের নতুন দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করে বিইআরসি। কিন্তু সেই দামও বাজারে কার্যকর হয়নি।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, ১২ কেজির সিলিন্ডার ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। হোটেল-রেস্তোরাঁয়ও একই চিত্র। সেখানে ১২ কেজির সিলিন্ডার ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা এবং ৩৩ কেজির সিলিন্ডার প্রায় ৫ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৩৩ কেজির সিলিন্ডারের নির্ধারিত দাম ৫ হাজার ৫১ টাকা।

দেশের বিভিন্ন জেলার বাজারেও নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি নেওয়া হচ্ছে। ভোলায় ১২ কেজির সিলিন্ডার খুচরা পর্যায়ে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা, টাঙ্গাইলে প্রায় ২ হাজার ১০০ টাকা, চাঁদপুরে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৫০ টাকা এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১ হাজার ৯০০ থেকে ২ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। নোয়াখালীতেও নির্ধারিত দামের চেয়ে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেশি নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

ব্যবসায়ীদের বক্তব্যেও উঠে এসেছে সরবরাহব্যবস্থার অসংগতির বিষয়টি। ভোলার এক ডিলার জানিয়েছেন, ৬ অক্টোবর ১২ কেজির সিলিন্ডার তাঁরা খুচরা বিক্রেতাদের কাছে ১ হাজার ৮০০ থেকে ১ হাজার ৮৬০ টাকায় বিক্রি করেছেন। অথচ খুচরা পর্যায়ে তা ২ হাজার টাকার ওপরে বিক্রি হচ্ছে।

টাঙ্গাইলে পরিবেশকরা পরিবহন, লোড-আনলোড, গুদাম, বিদ্যুৎ ও কর্মচারীসহ বিভিন্ন খরচের কথা তুলে ধরেছেন। তাঁদের দাবি, এসব ব্যয়ের কারণে নির্ধারিত দামে বিক্রি করলে তাঁদের লোকসান হচ্ছে। আবার কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে সংকটের জন্য ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের দায়ী করা হচ্ছে। ফলে সরবরাহব্যবস্থার প্রতিটি স্তর থেকেই পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠছে।

এদিকে আমদানির তথ্য সংকটের কারণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। আগস্টে দেশে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৭৬০ টন এবং সেপ্টেম্বরে ১ লাখ ৫৬ হাজার ১২৯ টন এলপিজি আমদানি হয়েছে। দেশে মাসে সর্বোচ্চ চাহিদা প্রায় দেড় লাখ টন। অর্থাৎ আমদানির পরিমাণ চাহিদার তুলনায় কম ছিল না।

বিইআরসির এক ঊর্ধ্বতন সদস্য জানিয়েছেন, প্রয়োজনের তুলনায় বেশি আমদানি হলেও বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানোর অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আমদানিকারক, পরিবেশক, ডিলার কিংবা খুচরা বিক্রেতা—কোন পর্যায়ে অনিয়ম হয়েছে, তা অনুসন্ধান করা হচ্ছে।

বিইআরসির সদস্য (গ্যাস) মিজানুর রহমান বলেন, সংকটের পেছনে কারা দায়ী, তা বের করতে তাঁরা ‘বেশ কিছু স্পর্শকাতর তথ্য’ নিয়ে কাজ করছেন। ফলে দাম নির্ধারণের পাশাপাশি এবার সরবরাহব্যবস্থার কারসাজি শনাক্ত করাই নিয়ন্ত্রক সংস্থার বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় খবর

আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার রায় ১৯ নভেম্বর

Business Times24

বিইআরসির দাম কাগজে, বাজারে এলপিজির আগুন

Update Time : ১২:১০:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত দামে মিলছে না তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি)। ১২ কেজির সিলিন্ডারের নতুন দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হলেও খুচরা বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায়। কোথাও কোথাও আগের মতোই বাড়তি দাম নেওয়া হচ্ছে।

ফলে দাম বাড়ানোর পরও স্বস্তি ফিরছে না ভোক্তাদের মধ্যে। তাদের অভিযোগ, সরবরাহ ও মজুতের বিভিন্ন পর্যায়ে কারসাজির কারণেই বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে। তবে আমদানির তথ্য বলছে, আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে দেশে এলপিজির আমদানি ছিল বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে।

সেপ্টেম্বরে ১২ কেজির সিলিন্ডারের বিইআরসি নির্ধারিত দাম ছিল ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। সংকটের অজুহাতে তখন সেটি ২ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ৪ অক্টোবর এলপিজির দাম কেজিতে ২১ টাকা বাড়িয়ে ১২ কেজির সিলিন্ডারের নতুন দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করে বিইআরসি। কিন্তু সেই দামও বাজারে কার্যকর হয়নি।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, ১২ কেজির সিলিন্ডার ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। হোটেল-রেস্তোরাঁয়ও একই চিত্র। সেখানে ১২ কেজির সিলিন্ডার ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা এবং ৩৩ কেজির সিলিন্ডার প্রায় ৫ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৩৩ কেজির সিলিন্ডারের নির্ধারিত দাম ৫ হাজার ৫১ টাকা।

দেশের বিভিন্ন জেলার বাজারেও নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি নেওয়া হচ্ছে। ভোলায় ১২ কেজির সিলিন্ডার খুচরা পর্যায়ে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা, টাঙ্গাইলে প্রায় ২ হাজার ১০০ টাকা, চাঁদপুরে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৫০ টাকা এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১ হাজার ৯০০ থেকে ২ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। নোয়াখালীতেও নির্ধারিত দামের চেয়ে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেশি নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

ব্যবসায়ীদের বক্তব্যেও উঠে এসেছে সরবরাহব্যবস্থার অসংগতির বিষয়টি। ভোলার এক ডিলার জানিয়েছেন, ৬ অক্টোবর ১২ কেজির সিলিন্ডার তাঁরা খুচরা বিক্রেতাদের কাছে ১ হাজার ৮০০ থেকে ১ হাজার ৮৬০ টাকায় বিক্রি করেছেন। অথচ খুচরা পর্যায়ে তা ২ হাজার টাকার ওপরে বিক্রি হচ্ছে।

টাঙ্গাইলে পরিবেশকরা পরিবহন, লোড-আনলোড, গুদাম, বিদ্যুৎ ও কর্মচারীসহ বিভিন্ন খরচের কথা তুলে ধরেছেন। তাঁদের দাবি, এসব ব্যয়ের কারণে নির্ধারিত দামে বিক্রি করলে তাঁদের লোকসান হচ্ছে। আবার কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে সংকটের জন্য ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের দায়ী করা হচ্ছে। ফলে সরবরাহব্যবস্থার প্রতিটি স্তর থেকেই পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠছে।

এদিকে আমদানির তথ্য সংকটের কারণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। আগস্টে দেশে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৭৬০ টন এবং সেপ্টেম্বরে ১ লাখ ৫৬ হাজার ১২৯ টন এলপিজি আমদানি হয়েছে। দেশে মাসে সর্বোচ্চ চাহিদা প্রায় দেড় লাখ টন। অর্থাৎ আমদানির পরিমাণ চাহিদার তুলনায় কম ছিল না।

বিইআরসির এক ঊর্ধ্বতন সদস্য জানিয়েছেন, প্রয়োজনের তুলনায় বেশি আমদানি হলেও বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানোর অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আমদানিকারক, পরিবেশক, ডিলার কিংবা খুচরা বিক্রেতা—কোন পর্যায়ে অনিয়ম হয়েছে, তা অনুসন্ধান করা হচ্ছে।

বিইআরসির সদস্য (গ্যাস) মিজানুর রহমান বলেন, সংকটের পেছনে কারা দায়ী, তা বের করতে তাঁরা ‘বেশ কিছু স্পর্শকাতর তথ্য’ নিয়ে কাজ করছেন। ফলে দাম নির্ধারণের পাশাপাশি এবার সরবরাহব্যবস্থার কারসাজি শনাক্ত করাই নিয়ন্ত্রক সংস্থার বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।