০১:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুদ্ধ চাপিয়ে দিলে আত্মরক্ষায় পিছপা হবে না ইরান: জাতিসংঘে পেজেশকিয়ান

The gallery was not found!

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, আমার দেশ কখনো যুদ্ধ শুরু করেনি এবং আগ্রাসনের পথও বেছে নেয়নি। বরং ইরান সবসময় সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে সংকট সমাধানের পক্ষে ছিল। তবে যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হলে আত্মরক্ষায় ইরান পিছপা হবে না বলেও তিনি স্পষ্ট করেছেন।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে এসব কথা বলেন পেজেশকিয়ান।

যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালানোর পর জাতিসংঘে এটিই ছিল পেজেশকিয়ানের প্রথম ভাষণ। তাঁর বক্তব্যে ইরানের ওপর হামলা, পরমাণু কর্মসূচি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ভূমিকা গুরুত্ব পায়।

ভাষণের শুরুতে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছবি তুলে ধরেন পেজেশকিয়ান। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রথম দিনেই খামেনি নিহত হন বলে ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ওই হামলায় নিহত ইরানি স্কুলশিশুদের ছবিও তিনি সাধারণ পরিষদে প্রদর্শন করেন।

পেজেশকিয়ান অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোয় হামলা চালিয়েছে। তাঁর ভাষায়, ইরান সন্ত্রাসবাদের শিকার এবং যুদ্ধের কারণে দেশটির বেসামরিক জনগণ বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে।

তিনি বলেন, ইরানকে এমনভাবে শক্তিশালী হতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো হুমকি মোকাবিলায় দেশটি প্রস্তুত থাকে। তাঁর দাবি, ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এমনভাবে গড়ে তোলা হয়েছে, যাতে দেশটির শহরগুলোতে হামলা চালিয়ে কেউ নির্বিঘ্নে পার পেয়ে যেতে না পারে।

পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে অনড় অবস্থান

ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে চায় না—ভাষণে আবারও এ অবস্থান তুলে ধরেন পেজেশকিয়ান। তবে বেসামরিক পরমাণু কর্মসূচির ওপর কোনো ধরনের সীমাবদ্ধতা মেনে নেওয়া হবে না বলেও তিনি জানান।

তেহরান ও ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের বিরোধের অন্যতম প্রধান বিষয় ইরানের পরমাণু কর্মসূচি। ইরানের দাবি, চিকিৎসা গবেষণা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের মতো শান্তিপূর্ণ কাজে প্রয়োজনীয় মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকার তাদের থাকতে হবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের যেকোনো ধরনের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের বিরোধিতা করে আসছে।

পেজেশকিয়ান বলেন, শান্তিপূর্ণ পরমাণু প্রযুক্তি ইরানের স্বাভাবিক উন্নয়ন ও অগ্রগতির অংশ।

মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে বাইরের হস্তক্ষেপের বিরোধিতা

মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রত্যাহারের দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট।

তিনি বলেন, এ অঞ্চলের সমস্যার সমাধান করতে হবে আঞ্চলিক দেশগুলোকেই। বাইরের শক্তির ওপর নির্ভরশীল না হয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর নিজেদের মধ্যেই নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক সংকটের সমাধান করা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ডেরও সমালোচনা করেন পেজেশকিয়ান। ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের অভিযান এবং ইরান, লেবানন ও সিরিয়ায় ইসরায়েলি হামলার প্রসঙ্গও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।

পেজেশকিয়ানের ভাষণের সময় সাধারণ পরিষদে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের একমাত্র প্রতিনিধি কক্ষ ছেড়ে বেরিয়ে যান বলে নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভাষণের শেষদিকে ইরানের অবস্থান স্পষ্ট করে পেজেশকিয়ান বলেন, তাঁর দেশ মাথা নত করবে না এবং শক্তির ভাষা মেনে নেবে না। তবে সংলাপ, কূটনীতি ও আলোচনার জন্য ইরান প্রস্তুত রয়েছে বলেও তিনি জানান।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় খবর
Business Times24

যুদ্ধ চাপিয়ে দিলে আত্মরক্ষায় পিছপা হবে না ইরান: জাতিসংঘে পেজেশকিয়ান

Update Time : ১১:৪২:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, আমার দেশ কখনো যুদ্ধ শুরু করেনি এবং আগ্রাসনের পথও বেছে নেয়নি। বরং ইরান সবসময় সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে সংকট সমাধানের পক্ষে ছিল। তবে যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হলে আত্মরক্ষায় ইরান পিছপা হবে না বলেও তিনি স্পষ্ট করেছেন।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে এসব কথা বলেন পেজেশকিয়ান।

যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালানোর পর জাতিসংঘে এটিই ছিল পেজেশকিয়ানের প্রথম ভাষণ। তাঁর বক্তব্যে ইরানের ওপর হামলা, পরমাণু কর্মসূচি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ভূমিকা গুরুত্ব পায়।

ভাষণের শুরুতে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছবি তুলে ধরেন পেজেশকিয়ান। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রথম দিনেই খামেনি নিহত হন বলে ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ওই হামলায় নিহত ইরানি স্কুলশিশুদের ছবিও তিনি সাধারণ পরিষদে প্রদর্শন করেন।

পেজেশকিয়ান অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোয় হামলা চালিয়েছে। তাঁর ভাষায়, ইরান সন্ত্রাসবাদের শিকার এবং যুদ্ধের কারণে দেশটির বেসামরিক জনগণ বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে।

তিনি বলেন, ইরানকে এমনভাবে শক্তিশালী হতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো হুমকি মোকাবিলায় দেশটি প্রস্তুত থাকে। তাঁর দাবি, ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এমনভাবে গড়ে তোলা হয়েছে, যাতে দেশটির শহরগুলোতে হামলা চালিয়ে কেউ নির্বিঘ্নে পার পেয়ে যেতে না পারে।

পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে অনড় অবস্থান

ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে চায় না—ভাষণে আবারও এ অবস্থান তুলে ধরেন পেজেশকিয়ান। তবে বেসামরিক পরমাণু কর্মসূচির ওপর কোনো ধরনের সীমাবদ্ধতা মেনে নেওয়া হবে না বলেও তিনি জানান।

তেহরান ও ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের বিরোধের অন্যতম প্রধান বিষয় ইরানের পরমাণু কর্মসূচি। ইরানের দাবি, চিকিৎসা গবেষণা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের মতো শান্তিপূর্ণ কাজে প্রয়োজনীয় মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকার তাদের থাকতে হবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের যেকোনো ধরনের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের বিরোধিতা করে আসছে।

পেজেশকিয়ান বলেন, শান্তিপূর্ণ পরমাণু প্রযুক্তি ইরানের স্বাভাবিক উন্নয়ন ও অগ্রগতির অংশ।

মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে বাইরের হস্তক্ষেপের বিরোধিতা

মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রত্যাহারের দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট।

তিনি বলেন, এ অঞ্চলের সমস্যার সমাধান করতে হবে আঞ্চলিক দেশগুলোকেই। বাইরের শক্তির ওপর নির্ভরশীল না হয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর নিজেদের মধ্যেই নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক সংকটের সমাধান করা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ডেরও সমালোচনা করেন পেজেশকিয়ান। ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের অভিযান এবং ইরান, লেবানন ও সিরিয়ায় ইসরায়েলি হামলার প্রসঙ্গও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।

পেজেশকিয়ানের ভাষণের সময় সাধারণ পরিষদে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের একমাত্র প্রতিনিধি কক্ষ ছেড়ে বেরিয়ে যান বলে নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভাষণের শেষদিকে ইরানের অবস্থান স্পষ্ট করে পেজেশকিয়ান বলেন, তাঁর দেশ মাথা নত করবে না এবং শক্তির ভাষা মেনে নেবে না। তবে সংলাপ, কূটনীতি ও আলোচনার জন্য ইরান প্রস্তুত রয়েছে বলেও তিনি জানান।