দেশের ব্যাংকিং খাতে উপশাখার মাধ্যমে আমানত সংগ্রহ দ্রুত বাড়ছে। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন—এই তিন মাসে ব্যাংকগুলোর উপশাখায় আমানতের পরিমাণ বেড়েছে ৪ হাজার ৫৪৬ কোটি টাকা। একই সময়ে বেড়েছে উপশাখার সংখ্যা ও আমানত হিসাবের সংখ্যাও।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মার্চ ২০২৬ শেষে দেশের তফসিলি ব্যাংকগুলোর উপশাখায় আমানতের স্থিতি ছিল ৭৯ হাজার ৭১৭ কোটি টাকা। জুন শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৪ হাজার ২৬৩ কোটি টাকায়। অর্থাৎ তিন মাসে আমানত বেড়েছে প্রায় ৫ দশমিক ৭ শতাংশ।
অন্যদিকে, একই সময়ে পুরো ব্যাংক খাতের আমানত বেড়েছে ২ দশমিক ৪ শতাংশ। ফলে সামগ্রিক ব্যাংক খাতের তুলনায় উপশাখায় আমানত বৃদ্ধির গতি ছিল বেশি।
বেড়েছে উপশাখার সংখ্যাও
জুন ২০২৬ শেষে দেশে মোট উপশাখার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৩৩টিতে। মার্চ শেষে এ সংখ্যা ছিল ৪ হাজার ৯৯২টি। তিন মাসে নিট ৪১টি উপশাখা বেড়েছে।
এ সময়ে নতুন করে ৩০টি গ্রামীণ ও ১৯টি শহুরে উপশাখা চালু হয়েছে। বিপরীতে ৮টি উপশাখা বন্ধ অথবা অন্য শাখা কিংবা উপশাখার সঙ্গে একীভূত হয়েছে।
উপশাখার বিস্তারে গ্রামীণ এলাকার অংশও সামান্য বেড়েছে। মার্চে মোট উপশাখার ৪৯ দশমিক ৪ শতাংশ ছিল গ্রামীণ এলাকায়। জুন শেষে এ হার বেড়ে হয়েছে ৪৯ দশমিক ৫ শতাংশ।
আমানতে বাড়ছে গ্রামের অংশ
উপশাখায় শুধু মোট আমানতই বাড়েনি, এর মধ্যে গ্রামীণ এলাকার অংশও বেড়েছে। মার্চে মোট উপশাখা আমানতের ৩২ দশমিক ৮ শতাংশ ছিল গ্রামীণ এলাকার। জুন শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩ দশমিক ৯ শতাংশে।
এতে বোঝা যায়, শহরের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলেও উপশাখার মাধ্যমে ব্যাংকিং সেবা ও আমানত সংগ্রহের পরিধি বাড়ছে।
বেড়েছে প্রায় ৫ লাখ আমানত হিসাব
উপশাখায় আমানত হিসাবের সংখ্যাতেও উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। মার্চ শেষে এসব উপশাখায় মোট আমানত হিসাব ছিল ৮৪ লাখ ৭০ হাজার। জুন শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৯ লাখ ৭০ হাজারে।
অর্থাৎ তিন মাসে আমানত হিসাব বেড়েছে প্রায় ৫ লাখ বা ৫ দশমিক ৯ শতাংশ।
নারীদের নামে খোলা আমানত হিসাবের অংশও সামান্য বেড়েছে। মার্চে মোট আমানত হিসাবের ৩৮ দশমিক ২ শতাংশ ছিল নারীদের। জুন শেষে তা বেড়ে হয়েছে ৩৮ দশমিক ৪ শতাংশ।
তবে মোট আমানতের মধ্যে নারীদের হিসাবের অংশ কিছুটা কমেছে। মার্চে উপশাখায় থাকা মোট আমানতের ২৬ দশমিক ২ শতাংশ ছিল নারীদের হিসাবের বিপরীতে। জুন শেষে তা কমে হয়েছে ২৫ দশমিক ৯ শতাংশ।
মোট ব্যাংক আমানতে উপশাখার অংশও বেড়েছে
দেশের মোট ব্যাংক আমানতের তুলনায় উপশাখাগুলোর অংশও সামান্য বেড়েছে। মার্চে ব্যাংক খাতের মোট আমানতের ৩ দশমিক ৭ শতাংশ ছিল উপশাখাগুলোতে। জুন শেষে এ হার বেড়ে হয়েছে ৩ দশমিক ৮ শতাংশ। অর্থাৎ উপশাখার মাধ্যমে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় আমানত সংগ্রহের গুরুত্ব ধীরে ধীরে বাড়ছে।
ঢাকায় সবচেয়ে বেশি উপশাখা
জেলা-ভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি উপশাখা রয়েছে ঢাকা বিভাগে। ঢাকায় রয়েছে ১ হাজার ৭টি উপশাখা। এরপর রয়েছে চট্টগ্রামে ৪৭০টি, কুমিল্লায় ২১৮টি, নারায়ণগঞ্জে ১৭০টি এবং গাজীপুরে ১৬৮টি।
এ ছাড়া সিলেটে ১১০টি, নোয়াখালীতে ১০৬টি, বগুড়ায় ১০৩টি, খুলনায় ৯৫টি, টাঙ্গাইলে ৯২টি এবং ময়মনসিংহে ৯০টি উপশাখা রয়েছে।
পার্বত্য জেলাগুলোর মধ্যে খাগড়াছড়িতে ১২টি, রাঙামাটিতে ১১টি এবং বান্দরবানে ৭টি উপশাখা রয়েছে।
উপশাখায় এগিয়ে যেসব ব্যাংক
উপশাখার সংখ্যার দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে আইএফআইসি ব্যাংক। এরপর রয়েছে এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১৮ সালে ‘ব্যাংকিং বুথ’ পরিচালনার নীতিমালা জারি করে। পরের বছর এসব বুথকে উপশাখা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ২০২৩ সালে উপশাখার মাধ্যমে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার শর্ত ও নিয়মাবলি নির্ধারণ করা হয়।
এরপর থেকে উপশাখাগুলোর আমানত, ঋণ এবং অবস্থানভিত্তিক তথ্য নিয়মিত সংগ্রহ করছে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান বিভাগ।
অপেক্ষাকৃত কম খরচে ব্যাংকিং সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে উপশাখা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় উপশাখার বিস্তার বাড়ায় ব্যাংকিং সেবার আওতা আরও সম্প্রসারিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক 























