বাংলাদেশে রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় উল্লম্ফন হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিভিন্ন দেশ থেকে ৩০.৩৩ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এলেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫.৫৯ বিলিয়ন ডলারে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয় বেড়েছে ৫.২৬ বিলিয়ন ডলার। প্রবৃদ্ধির হার প্রায় ১৭.৩ শতাংশ।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের চতুর্থ দিনে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এসব তথ্য জানান।
সংসদে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রেমিট্যান্সের সবচেয়ে বড় উৎস সৌদি আরব। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশটি থেকে ৪.২৬ বিলিয়ন ডলার এলেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে হয়েছে ৫.৮৪ বিলিয়ন ডলার। এক বছরে সৌদি আরব থেকে রেমিট্যান্স বেড়েছে প্রায় ১.৫৮ বিলিয়ন ডলার।
দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছে যুক্তরাজ্য থেকে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে যুক্তরাজ্য থেকে ৩.১৭ বিলিয়ন ডলার এলেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে হয়েছে ৫.৭২ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক বছরে বেড়েছে প্রায় ২.৫৫ বিলিয়ন ডলার বা ৮০.৪ শতাংশ।
মধ্যপ্রাচ্যে বড় প্রবৃদ্ধি
সৌদি আরবের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশ থেকেও রেমিট্যান্স বেড়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে প্রবাসী আয় ৪.১৭ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ৪.৫৮৪ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। মালয়েশিয়া থেকে ২.৮০৪ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে হয়েছে ৩.৪০ বিলিয়ন ডলার।
ওমান থেকে রেমিট্যান্স ১.৬৬ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে হয়েছে ২.৪৮ বিলিয়ন ডলার। কুয়েত থেকে ১.৬২ বিলিয়ন থেকে বেড়ে ১.৭৬ বিলিয়ন এবং কাতার থেকে ১.২০ বিলিয়ন থেকে বেড়ে ১.৫৫ বিলিয়ন ডলার এসেছে।
ইতালি থেকে বেড়েছে ৮৬ কোটি ডলার
ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে ইতালি থেকে রেমিট্যান্সে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশটি থেকে ১.৬৫ বিলিয়ন ডলার এলেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে হয়েছে ২.৫১ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক বছরে বেড়েছে প্রায় ৮৬ কোটি ডলার।
ফ্রান্স থেকে রেমিট্যান্স ৩৩৫.৫৯ মিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ৪৭১.৪৪ মিলিয়ন এবং গ্রিস থেকে ১৮৫.১১ মিলিয়ন থেকে বেড়ে ২০৩.৮২ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
জর্ডান থেকে প্রবাসী আয় ১৬৮.১৭ মিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ২৪৬.৩৬ মিলিয়ন এবং অস্ট্রেলিয়া থেকে ১৯৭.৯ মিলিয়ন থেকে বেড়ে ২৫৮.১৬ মিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে।
এ ছাড়া সিঙ্গাপুর থেকে রেমিট্যান্স ৯৮৯ মিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ১.৪৯ বিলিয়ন এবং দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ৪০৩ মিলিয়ন থেকে বেড়ে ৬৬৯ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
কমেছে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা থেকে
সামগ্রিকভাবে রেমিট্যান্স বাড়লেও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উৎসদেশ থেকে প্রবাসী আয় কমেছে। সবচেয়ে বড় পতন হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৪.৭৩ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এলেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা কমে হয়েছে ৩.৩৩ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক বছরে কমেছে প্রায় ১.৪ বিলিয়ন ডলার বা ৩৫.৯ শতাংশ।
কানাডা থেকেও রেমিট্যান্স প্রায় অর্ধেকে নেমেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশটি থেকে ২২১ মিলিয়ন ডলার এলেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা কমে হয়েছে ১১০ মিলিয়ন ডলার। মালদ্বীপ ও মরিশাস থেকেও রেমিট্যান্স কমেছে।
মাসেও ছিল শক্তিশালী প্রবাহ
২০২৫-২৬ অর্থবছরের বিভিন্ন মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহ ছিল শক্তিশালী। মার্চ ২০২৬-এ এক মাসে ৩.৭৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছে। জুন মাসেও প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন প্রায় ২.৮২ বিলিয়ন ডলার।
বছর শেষে ৩৫.৫৯ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহে বড় অবদান রেখেছে। একই সঙ্গে ব্যাংকিং চ্যানেলে বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বাড়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তবে উৎসদেশভেদে রেমিট্যান্সের চিত্রে বড় পার্থক্য দেখা গেছে। সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, ওমান ও ইতালির মতো দেশ থেকে প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লেও যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা থেকে কমেছে।
রেমিট্যান্সের এই প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে নতুন শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি এবং দক্ষ জনশক্তি বিদেশে পাঠানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক 























