১১:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ক্যান্সার চিকিৎসায় মার্ক-মডার্নার ভ্যাকসিনে বড় সাফল্য

The gallery was not found!

ক্যান্সার চিকিৎসায়  আশার আলো জ্বালছে ভ্যাকসিন। নতুন এই ভ্যাকসিন একটি নির্দিষ্ট ওষুধের সঙ্গে ব্যবহার করে ত্বকের ক্যান্সার আবার ফিরে আসার ঝুঁকি কমানোর সাফল্য পাওয়া গেছে।

ভ্যাকসিনটি তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ কোম্পানি মার্ক ও মডার্না। উচ্চঝুঁকির মেলানোমা বা ত্বকের ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের অস্ত্রোপচারের পর এই ভ্যাকসিন দেওয়া হয়।

প্রাথমিক পরীক্ষার ফলাফলে দেখা গেছে, শুধু কিট্রুডা নামের একটি ক্যান্সারের ওষুধ ব্যবহার করার তুলনায় ভ্যাকসিন ও কিট্রুডা একসঙ্গে দিলে রোগীরা বেশি সময় ক্যান্সারমুক্ত থাকতে পেরেছেন। একই সঙ্গে ক্যান্সার শরীরের অন্য অঙ্গে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও কমেছে।

তবে রোগীরা ঠিক কতদিন ক্যান্সারমুক্ত থাকবেন, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

নতুন ভ্যাকসিনের তৃতীয় ধাপের পরীক্ষায় এক হাজারের বেশি রোগী অংশ নিয়েছেন। তাদের সবারই উচ্চঝুঁকির মেলানোমা ছিল।

কেউ ছিলেন দ্বিতীয় ধাপের, কেউ তৃতীয় এবং কেউ চতুর্থ ধাপের রোগী। অর্থাৎ কারও শরীরের একটি নির্দিষ্ট জায়গায় বড় টিউমার ছিল, আবার কারও ক্যান্সার শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়েছিল।

অস্ত্রোপচারের পর ক্যান্সার আবার ফিরে আসা ঠেকাতেই রোগীদের এই ভ্যাকসিন ও কিট্রুডা দেওয়া হয়।

এই ভ্যাকসিনের বিশেষত্ব হলো, এটি সবার জন্য একইভাবে তৈরি করা হয় না। বরং প্রত্যেক রোগীর ক্যান্সারের ধরন ও বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী আলাদা করে ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়। এ কারণেই এটিকে ব্যক্তিভিত্তিক ভ্যাকসিন বলা হচ্ছে।
এটি তৈরিতে mRNA প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। কোভিড-১৯-এর কয়েকটি ভ্যাকসিন তৈরিতেও এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছিল। প্রথমে অস্ত্রোপচারের সময় রোগীর টিউমারের সামান্য অংশ সংগ্রহ করা হয়। এরপর সেটির ডিএনএ পরীক্ষা করে ক্যান্সার কোষের বিশেষ পরিবর্তন শনাক্ত করা হয়।

এই তথ্য ব্যবহার করে রোগীর জন্য বিশেষভাবে ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়। ভ্যাকসিনটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ক্যান্সার কোষ চিনতে সাহায্য করে। ফলে শরীরে থেকে যাওয়া ক্যান্সার কোষকে প্রতিরোধ ব্যবস্থা আক্রমণ করতে পারে।

ক্যান্সার বিশেষজ্ঞরা এই ফলাফলকে আশাব্যঞ্জক বলে মনে করছেন। তবে তারা এখনই এটিকে ক্যান্সারের চিকিৎসায় বড় ধরনের চূড়ান্ত সাফল্য হিসেবে দেখার বিষয়ে সতর্ক করেছেন। কারণ, গবেষণার পুরো ফলাফল এখনো প্রকাশ করা হয়নি। পাশাপাশি স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে গবেষণার ফল যাচাই বা পিয়ার রিভিউও হয়নি।

গবেষণা সফলভাবে শেষ হলেও রোগীদের জন্য ভ্যাকসিনটি বাজারে আনতে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন প্রয়োজন হবে। এরপর বিভিন্ন দেশে আলাদা অনুমোদন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েও যেতে হবে।

মার্ক ও মডার্না শুধু ত্বকের ক্যান্সার নয়, আরও কয়েক ধরনের ক্যান্সারের জন্য একই ধরনের ভ্যাকসিন নিয়ে গবেষণা করছে। এর মধ্যে ফুসফুস, মূত্রথলি ও কিডনির ক্যান্সার রয়েছে। মডার্নার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্টিফেন ব্যানসেল বলেছেন, এই ফলাফল ক্যান্সার গবেষণার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।

তবে গবেষণার পূর্ণাঙ্গ ফলাফল প্রকাশ ও স্বাধীনভাবে যাচাই না হওয়া পর্যন্ত এই ভ্যাকসিন ক্যান্সার পুরোপুরি সারিয়ে তুলতে পারে—এমন দাবি করা যাচ্ছে না। তারপরও অস্ত্রোপচারের পর ক্যান্সার ফিরে আসা ঠেকানোর ক্ষেত্রে নতুন এই পদ্ধতি ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে আশা করছেন গবেষকেরা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় খবর
Business Times24

ক্যান্সার চিকিৎসায় মার্ক-মডার্নার ভ্যাকসিনে বড় সাফল্য

Update Time : ১০:৩০:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

ক্যান্সার চিকিৎসায়  আশার আলো জ্বালছে ভ্যাকসিন। নতুন এই ভ্যাকসিন একটি নির্দিষ্ট ওষুধের সঙ্গে ব্যবহার করে ত্বকের ক্যান্সার আবার ফিরে আসার ঝুঁকি কমানোর সাফল্য পাওয়া গেছে।

ভ্যাকসিনটি তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ কোম্পানি মার্ক ও মডার্না। উচ্চঝুঁকির মেলানোমা বা ত্বকের ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের অস্ত্রোপচারের পর এই ভ্যাকসিন দেওয়া হয়।

প্রাথমিক পরীক্ষার ফলাফলে দেখা গেছে, শুধু কিট্রুডা নামের একটি ক্যান্সারের ওষুধ ব্যবহার করার তুলনায় ভ্যাকসিন ও কিট্রুডা একসঙ্গে দিলে রোগীরা বেশি সময় ক্যান্সারমুক্ত থাকতে পেরেছেন। একই সঙ্গে ক্যান্সার শরীরের অন্য অঙ্গে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও কমেছে।

তবে রোগীরা ঠিক কতদিন ক্যান্সারমুক্ত থাকবেন, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

নতুন ভ্যাকসিনের তৃতীয় ধাপের পরীক্ষায় এক হাজারের বেশি রোগী অংশ নিয়েছেন। তাদের সবারই উচ্চঝুঁকির মেলানোমা ছিল।

কেউ ছিলেন দ্বিতীয় ধাপের, কেউ তৃতীয় এবং কেউ চতুর্থ ধাপের রোগী। অর্থাৎ কারও শরীরের একটি নির্দিষ্ট জায়গায় বড় টিউমার ছিল, আবার কারও ক্যান্সার শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়েছিল।

অস্ত্রোপচারের পর ক্যান্সার আবার ফিরে আসা ঠেকাতেই রোগীদের এই ভ্যাকসিন ও কিট্রুডা দেওয়া হয়।

এই ভ্যাকসিনের বিশেষত্ব হলো, এটি সবার জন্য একইভাবে তৈরি করা হয় না। বরং প্রত্যেক রোগীর ক্যান্সারের ধরন ও বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী আলাদা করে ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়। এ কারণেই এটিকে ব্যক্তিভিত্তিক ভ্যাকসিন বলা হচ্ছে।
এটি তৈরিতে mRNA প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। কোভিড-১৯-এর কয়েকটি ভ্যাকসিন তৈরিতেও এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছিল। প্রথমে অস্ত্রোপচারের সময় রোগীর টিউমারের সামান্য অংশ সংগ্রহ করা হয়। এরপর সেটির ডিএনএ পরীক্ষা করে ক্যান্সার কোষের বিশেষ পরিবর্তন শনাক্ত করা হয়।

এই তথ্য ব্যবহার করে রোগীর জন্য বিশেষভাবে ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়। ভ্যাকসিনটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ক্যান্সার কোষ চিনতে সাহায্য করে। ফলে শরীরে থেকে যাওয়া ক্যান্সার কোষকে প্রতিরোধ ব্যবস্থা আক্রমণ করতে পারে।

ক্যান্সার বিশেষজ্ঞরা এই ফলাফলকে আশাব্যঞ্জক বলে মনে করছেন। তবে তারা এখনই এটিকে ক্যান্সারের চিকিৎসায় বড় ধরনের চূড়ান্ত সাফল্য হিসেবে দেখার বিষয়ে সতর্ক করেছেন। কারণ, গবেষণার পুরো ফলাফল এখনো প্রকাশ করা হয়নি। পাশাপাশি স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে গবেষণার ফল যাচাই বা পিয়ার রিভিউও হয়নি।

গবেষণা সফলভাবে শেষ হলেও রোগীদের জন্য ভ্যাকসিনটি বাজারে আনতে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন প্রয়োজন হবে। এরপর বিভিন্ন দেশে আলাদা অনুমোদন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েও যেতে হবে।

মার্ক ও মডার্না শুধু ত্বকের ক্যান্সার নয়, আরও কয়েক ধরনের ক্যান্সারের জন্য একই ধরনের ভ্যাকসিন নিয়ে গবেষণা করছে। এর মধ্যে ফুসফুস, মূত্রথলি ও কিডনির ক্যান্সার রয়েছে। মডার্নার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্টিফেন ব্যানসেল বলেছেন, এই ফলাফল ক্যান্সার গবেষণার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।

তবে গবেষণার পূর্ণাঙ্গ ফলাফল প্রকাশ ও স্বাধীনভাবে যাচাই না হওয়া পর্যন্ত এই ভ্যাকসিন ক্যান্সার পুরোপুরি সারিয়ে তুলতে পারে—এমন দাবি করা যাচ্ছে না। তারপরও অস্ত্রোপচারের পর ক্যান্সার ফিরে আসা ঠেকানোর ক্ষেত্রে নতুন এই পদ্ধতি ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে আশা করছেন গবেষকেরা।