অতিরিক্ত ওজন দ্রুত ঝরিয়ে ফেলার লোভে পড়ে যুক্তরাজ্যে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে অনুমোদনহীন ওষুধ ‘রেটাট্রুটাইড’-এর অবৈধ ব্যবহার। লোকমুখে এটি পরিচিতি পেয়েছে ‘গডজিলা জ্যাব’ নামে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল-এর এক অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য—চীন থেকে আসা নিম্নমানের ও অনিয়ন্ত্রিত কেমিক্যাল দিয়ে তৈরি এই ইনজেকশনটি এখন লন্ডনের নামীদামি ও অভিজাত এলাকাগুলোতে গোপনে কেনাবেচা হচ্ছে।
যুক্তরাজ্যের ওষুধ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা (MHRA) জানিয়েছে, সরকারি কোনো অনুমোদন না থাকা এই ইনজেকশনটি নেওয়ার পর অন্তত ১০৫ জন মানুষ চরম অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এবং ইতোমধ্যেই ১ জনের করুণ মৃত্যু ঘটেছে।
অভিজাত সমাজে ব্ল্যাক মার্কেটের রমরমা বাণিজ্য
কোনো চেনা অপরাধী চক্র নয়, বরং সমাজের উচ্চশিক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত পেশাদার মানুষরাই এই বেআইনি কারবারে জড়িয়ে পড়েছেন। জিম থেকে শুরু করে স্কুলের সামনে অপেক্ষারত অভিভাবকদের হাত ঘুরে গোপনে বিক্রি হচ্ছে এই ইনজেকশন।
চীন থেকে আমদানি: ডিলাররা চীনের বিভিন্ন অননুমোদিত ল্যাব থেকে পাইকারি দরে প্রতি ড্রাম কেমিক্যাল কিনে আনছে মাত্র সাড়ে সাত পাউন্ডে।
পাহাড়সম মুনাফা: সেই একই কেমিক্যাল যুক্তরাজ্যে এনে ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে প্রায় সাত গুণ বেশি দামে।
আইনের চোখে ধুলো: বিক্রি করার সময় বোতলের গায়ে “শুধুমাত্র গবেষণার জন্য” (Research Use Only) লেবেল লাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যাতে আইনি জটিলতা এড়ানো যায়। তবে প্রশাসন পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে—মানুষের শরীরে ব্যবহারের জন্য বিক্রি করলে এমন চাতুরি কোনো কাজেই আসবে না।
শরীরে অঙ্গভিত্তিক ভয়ংকর সব প্রভাব
চিকিৎসকরা স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়েছেন—সরকারি পরীক্ষা ও সুরক্ষা সনদ ছাড়া এসব কেমিক্যাল শরীরে দেওয়া মানে নিজের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা। বিষাক্ত এই ওষুধ শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোতে স্থায়ী ক্ষতি করে দিচ্ছে:
হৃদযন্ত্র ও রক্তসংবহন: ইনজেকশনটি শরীরে যাওয়ার পরপরই অস্বাভাবিকভাবে হৃদস্পন্দন বেড়ে যাচ্ছে, যা যেকোনো মুহূর্তে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের মূল কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
পাকস্থলী ও পরিপাকতন্ত্র: কৃত্রিম উপায়ে দ্রুত মেদ গলানোর ফলে পেটে চরম বিপর্যয় ঘটছে। অবিরাম বমি ভাব, পাতলা পায়খানা ও মারাত্মক হজমজনিত সমস্যায় ভুগছেন গ্রহীতারা।
হরমোন ও নারী স্বাস্থ্য: হরমোনের স্বাভাবিক গতিপথ এলোমেলো হয়ে যাওয়ায় বিশেষ করে নারীদের ঋতুস্রাবে দেখা দিচ্ছে মারাত্মক অনিয়ম, যা দীর্ঘমেয়াদে তাদের প্রজনন ক্ষমতা নষ্ট করে দিতে পারে।
লিভার ও কিডনি: বিষাক্ত ও অজানা রাসায়নিক উপাদানে ভরা এই ওষুধ ছেঁকে শরীর থেকে বের করতে গিয়ে লিভার ও কিডনি স্থায়ীভাবে বিকল হওয়ার মুখে পড়ছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অবস্থান
বর্তমানে এই ইনজেকশন কেনা বা সঙ্গে রাখা সরাসরি অপরাধ না হলেও, এগুলো যারা আনছে ও বিক্রি করছে তাদের ধরতে অভিযান জোরদার করেছে যুক্তরাজ্যের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। চিকিৎসকদের পরামর্শ—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রলোভনে পড়ে বা সাময়িক সুন্দর দেখানোর লোভে নিজের জীবনকে অকাল মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেবেন না। মূল খবর ডেইলি মেইল।

নিজস্ব প্রতিবেদক 
























