বিশ্ব অর্থনীতিতে যখন টেকসই প্রবৃদ্ধি ও আর্থিক খাতের ডিজিটাল রূপান্তর প্রধান অগ্রাধিকার; তখন বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত দাঁড়িয়ে আছে এক অভূতপূর্ব বৈপরিত্যের সামনে। সাড়ে চারশো বিলিয়ন ডলারের একটি উদীয়মান অর্থনীতির দেশে ৬১টি পূর্ণাঙ্গ ব্যাংকের অনুমোদন যেন সংখ্যায় শীর্ষস্থান অর্জনের প্রতিযোগিতা! অথচ সুশাসনের সূচকে এই খাত তলানিতে। ফলে অর্থনীতিবিদরা প্রশ্ন তুলছেন—এটি কি সাধারণ মানুষের আর্থিক অন্তর্ভুক্তির প্রতিফলন, নাকি একশ্রেণির প্রভাবশালী গোষ্ঠীর আর্থিক ও রাজনৈতিক সুবিধা নিশ্চিতের অবাধ লাইসেন্স?
দক্ষিণ এশিয়ার বিশাল অর্থনীতির দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে ব্যাংকের এই পাহাড়সম সংখ্যা বাজার চাহিদা অতিক্রম করে ব্যাংকিং খাতকে পরিণত করেছে খেলাপি ঋণ এবং বাণিজ্যভিত্তিক অর্থ পাচারের অন্যতম বড় চালিকাশক্তিতে।
বাংলাদেশে ব্যাংকের বর্তমান বিন্যাস ও বাস্তবচিত্র
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্যানুসারে, বর্তমানে দেশে ৬১টি তালিকাভুক্ত এবং ৫টি অ-তালিকাভুক্ত ব্যাংক রয়েছে।
রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক– ৬টি: সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী, বেসিক এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক। ।
বিশেষায়িত ব্যাংক– ৩টি: বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব) এবং প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক।
বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক– ৪৩টি: প্রথাগত ৩৩টি এবং পূর্ণাঙ্গ ইসলামী শরীয়াহভিত্তিক ১০টি।
বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংক– ৯টি: স্ট্যান্ডার্ট চার্টার্ড ব্যাংক, এইচএসবিসি, সিটিব্যাংক এনএ, স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া, কমার্শিয়াল ব্যাংক অব শ্রীলঙ্কা, হাবিব ব্যাংক লিমিটেড, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান, ব্যাংক আলফালাহ এবং ওরি ব্যাংক।
বেসরকারি খাতের ৪৩টি ব্যাংক– ইসলামী শরীয়াহভিত্তিক ব্যাংক (১০টি): ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, এক্সিম ব্যাংক পিএলসি, ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক লিমিটেড, স্ট্যান্ডার্ড ইসলামী ব্যাংক পিএলসি।
প্রথাগত বাণিজ্যিক ব্যাংক (৩৩টি)–এবি ব্যাংক পিএলসি (দেশের প্রথম বেসরকারি ব্যাংক), দ্য সিটি ব্যাংক পিএলসি, ন্যাশনাল ব্যাংক পিএলসি, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি (UCB), পুবালী ব্যাংক পিএলসি, উত্তরা ব্যাংক পিএলসি, আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসি, ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি, ডাচ-বাংলা ব্যাংক পিএলসি, প্রাইম ব্যাংক পিএলসি, সাউথইস্ট ব্যাংক পিএলসি, ঢাকা ব্যাংক পিএলসি, এনসিসি ব্যাংক পিএলসি, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি, ব্যাংক এশিয়া পিএলসি, ওয়ান ব্যাংক পিএলসি, ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি, মার্চেন্টাইল ব্যাংক পিএলসি, ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি, যমুনা ব্যাংক পিএলসি, প্রিমিয়ার ব্যাংক পিএলসি, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক লিমিটেড, এনআরবিসি ব্যাংক পিএলসি, এনআরবি ব্যাংক পিএলসি, মেঘনা ব্যাংক পিএলসি, মিডল্যান্ড ব্যাংক লিমিটেড, মধুমতি ব্যাংক পিএলসি, সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক পিএলসি, পদ্মা ব্যাংক পিএলসি, সীমান্ত ব্যাংক পিএলসি, কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি, বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি, সিটিজেনস ব্যাংক পিএলসি।
বেসরকারি ব্যাংকিং খাতে অর্থের পরিমাণ ও স্থিতি
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের ব্যাংকিং খাতের প্রধান চালিকাশক্তি বেসরকারি ব্যাংকগুলো। ব্যাংকিং খাতে মোট আমানত প্রায় ১৮ লক্ষ কোটি টাকার বেশি। এর মধ্যে কেবল বেসরকারি ব্যাংকগুলোতেই রয়েছে প্রায় ১৩ থেকে ১৪ লক্ষ কোটি টাকা (মোট আমানতের ৭৫-৭৮%)।
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির আমানতই প্রায় ১.৫ লক্ষ কোটি টাকার ওপরে। এছাড়া ব্র্যাক, ডাচ-বাংলা, ইস্টার্ন ও সিটি ব্যাংকের মতো বড় ব্যাংকগুলোর প্রতিটিতে আমানত ৩০,০০০ থেকে ৬০,০০০ কোটি টাকা। ব্যাংক খাতের মোট ১৮ লক্ষ কোটি টাকার ঋণের মধ্যে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে বিতরণের পরিমাণ প্রায় ১৩.৫ লক্ষ কোটি টাকা।
ব্যাংক ব্যবস্থার ২৬ থেকে ২৮ লক্ষ কোটি টাকার মোট সম্পদের মধ্যে বেসরকারি ব্যাংকিং খাতের সম্পদই প্রায় ১৯ থেকে ২০ লক্ষ কোটি টাকা। এই বিপুল অর্থের একটি বড় অংশ অনিয়ন্ত্রিত ঋণ বিতরণ, পরিচালকভিত্তিক ঋণ আদান-প্রদান এবং বেনামী ঋণের কারণে ঝুঁকির মুখে পড়েছে—যা খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি ও অর্থ পাচারের প্রধান উৎসে পরিণত হয়েছে।
দক্ষিণ এশিয়া ও আন্তর্জাতিক তুলনা: বাংলাদেশ কি ‘ওভার-ব্যাংকড’?
আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত মারাত্মকভাবে ‘ওভার-ব্যাংকড’ (Overbanked)। বিশ্ব বাণিজ্য ও উদীয়মান অর্থনীতি ব্যাংকের সংখ্যা বাড়িয়ে নয়, বরং সুসংহত ও শক্তিশালী ব্যাংক ব্যবস্থার মাধ্যমে একটি দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি চালিত হয়; কিন্তু বাংলাদেশের চিত্র ঠিক তার বিপরীত।
ভারতে প্রায় সাড়ে চার ট্রিলিয়ন ডলারের বিশাল জিডিপি থাকা সত্ত্বেও সেখানে স্থানীয় মূলধারার ব্যাংকের সংখ্যা মাত্র ৩৪টি। ভিয়েতনামে পণ্য রপ্তানিমুখী প্রবৃদ্ধিশীল অর্থনীতিতে ৩৪টি ব্যাংকের মাধ্যমে অত্যন্ত দক্ষ ও আধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক সেবা দেওয়া হচ্ছে।
পাকিস্তানে বিশাল ভৌগোলিক আয়তন ও জনসংখ্যার চাহিদা মেটাচ্ছে মাত্র ২৯টি ব্যাংক দিয়ে, যা মূল শাখা ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত। শ্রীলঙ্কায় ক্ষুদ্র দ্বীপ অর্থনীতি পরিচালনা করছে মাত্র ১৬টি একীভূত ও বিশেষায়িত ব্যাংকের মাধ্যমে। নেপালে ২০টি ব্যাংকের কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতে সম্প্রতি আক্রমণাত্মক ‘মার্জার’ বা একীভূতকরণ নীতি বাস্তবায়ন করেছে। অথচ এদের সবার বিপরীতে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ মাত্র সাড়ে চারশো বিলিয়ন ডলারের একটি ক্ষুদ্র ভৌগোলিক আয়তনের অর্থনীতি হওয়া সত্ত্বেও ৬১টিরও বেশি ব্যাংককে লাইসেন্স দিয়ে রেখেছে।
মূল পর্যবেক্ষণ: ভারতের অর্থনীতি বাংলাদেশের তুলনায় প্রায় ১০ গুণ বড় হওয়া সত্ত্বেও সেখানে স্থানীয় ব্যাংকের সংখ্যা বাংলাদেশের চেয়ে প্রায় অর্ধেক।
বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (IMF) একাধিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বাংলাদেশে ব্যাংকের সংখ্যা অতিরিক্ত হলেও সাধারণ মানুষের কাছে প্রকৃত ও মানসম্মত আর্থিক সেবার পৌঁছানোর হার কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় পৌঁছায়নি। দেশে ব্যাংকের এই অস্বাভাবিক আধিক্য সুস্থ প্রতিযোগিতার পথ রুদ্ধ করে সৃষ্টি করেছে চরম অপেশাদারত্ব, আন্তঃব্যাংক অনিয়ম এবং সুশাসনের সংকট।
ব্যবসায়ীরা কেন নতুন ব্যাংক প্রতিষ্ঠায় ব্যাকুল: অর্থনৈতিক প্রয়োজন বা তারল্য চাহিদার চেয়ে রাজনৈতিক তোষণ ও গোষ্ঠীগত স্বার্থেই নতুন ব্যাংকের অনুমোদন নেওয়া হয়েছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্যবসায়ীদের মূল লক্ষ্যগুলো হলো-নিজ ব্যাংক থেকে সরাসরি ঋণ নেওয়ার আইনি জটিলতা এড়াতে পর্ষদ সদস্যরা পরস্পর সমঝোতার মাধ্যমে একে অপরের ব্যাংক থেকে সহজে ঋণ সুবিধা গ্রহণ করেন। সাধারণ মানুষের সঞ্চিত আমানত ব্যবহার করে নিজেদের শিল্পগোষ্ঠী, রিয়েল এস্টেট ও ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবসায় মূলধন নিশ্চিত করা। ব্যাংকের পরিচালক বা চেয়ারম্যান পদটিকে সামাজিক প্রভাব, রাজনৈতিক ক্ষমতা ও আইনি সুরক্ষার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা। নিজস্ব প্রতিনিধি বসিয়ে স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণে বাধা দেওয়া এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজরদারি এড়িয়ে যাওয়া।
খেলাপি ঋণ ও অর্থ পাচারের সেতু বন্ধন
নিয়ন্ত্রণহীন ব্যাংক ব্যবস্থা ও শিথিল সুশাসন সামষ্টিক অর্থনীতিতে দুটি বড় ক্ষত তৈরি করেছে। ব্যাংকের সংখ্যা অতিরিক্ত হওয়ায় মানসম্পন্ন গ্রাহকের সংকট দেখা দেয়। ফলে টিকে থাকতে ও রাজনৈতিক চাপে ব্যাংকগুলো অপেশাদার ও ঝুঁকিপূর্ণ গ্রাহকদের ঋণ দেয়। এছাড়া কাগুজে প্রতিষ্ঠান বানিয়ে কোটি কোটি টাকার বেনামী ঋণ বিতরণ করা হয়, যা শেষ পর্যন্ত খেলাপি ঋণে পরিণত হয়।
অর্থ পাচার ও এলসি জালিয়াতি
দুর্বল ও নতুন ব্যাংকগুলোর শিথিল কমপ্লায়েন্সের সুযোগে বাণিজ্যভিত্তিক অর্থ পাচার বাড়ে। আমদানিতে ওভার-ইনভয়েসিং এবং রপ্তানিতে আন্ডার-ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে কোটি কোটি ডলার দুবাই, কানাডা (বেগমপাড়া), সিঙ্গাপুর ও যুক্তরাজ্যে পাচার হচ্ছে।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের মতে, বাংলাদেশে ব্যাংকের লাইসেন্স প্রদান কোনো অর্থনৈতিক সমীক্ষার ভিত্তিতে হয়নি, বরং রাজনৈতিক অনুকম্পা হিসেবে বিতরণ করা হয়েছে। এর ফলে ব্যাংকিং খাতে পেশাদারিত্বের স্থলাভিষিক্ত হয়েছে দখলদারিত্ব ও আর্থিক লুণ্ঠনপ্রবণতা।
গেল জানুয়ারিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎকালীন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (২১ জানুয়ারি, বুধবার) ‘ব্যাংকিং খাত: বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেছিলেন, অতিরিক্ত ব্যাংকের কারণে প্রশাসনিক জটিলতা ও ব্যয় বেড়েছে। ব্যাংকের সংখ্যা কমলে ব্যয় কমবে এবং লভ্যাংশ বাড়বে। বর্তমানে দেশে ৬৪টি ব্যাংক রয়েছে। দেশে ১০ থেকে ১৫টি ব্যাংক থাকলেই তা যথেষ্ট হতো।
আহসান এইচ মনসুর আরও বলেছিলেন, দেশের ব্যাংক খাতের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো সুশাসনের ব্যর্থতা। সরকার ও প্রভাবশালী ব্যক্তি বা পরিবারের নির্দেশে ঋণ দেওয়া হয়েছে। এর পেছনে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অবহেলা রয়েছে, যা অস্বীকার করার উপায় নেই।
তিনি বলেছিলেন, আমাদের ভালো অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে হবে। এতে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করতে হবে। ব্যাংকিং খাতের সঙ্গে অন্যান্য খাতগুলোকে প্রাধান্য দিতে হবে। সব সরকারই ব্যাংকিং খাতের ওপর নির্ভরশীল ছিল। আর্থিক খাতের দুরবস্থার কারণ হলো আমাদের বন্ড খাত, স্টক মার্কেট খাত পিছিয়ে আছে।
বিশ্বব্যাংক ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন মনে করেন, ব্যাংক খাতের সুশাসন ফেরাতে এবং শৃঙ্খলা আনতে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত এই ব্যাংকের সংখ্যা কমানো বা একীভূত করা জরুরি। ব্যাংক খাতের সবচেয়ে বড় সংকট এখন মূলধনের ঘাটতি নয়, বরং জনআস্থার সংকট। খেলাপির নামে জনগণের আমানত আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচার রুখতে স্বাধীন কেন্দ্রীয় ব্যাংক গঠন করা অপরিহার্য।
বাংলাদেশকে একটি টেকসই অর্থনৈতিক কাঠামোর ওপর দাঁড় করাতে হলে ব্যাংকিং খাতের এই বিশৃঙ্খলা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রতিষ্ঠা, দুর্বল ব্যাংকগুলোকে শক্তিশালী ব্যাংকের সাথে একীভূত করা এবং ঋণ খেলাপিদের কঠোর বিচারিক প্রক্রিয়ার আওতায় আনাই এখন আর্থিক খাত পুনর্গঠনের প্রধান দাবি।

নিজস্ব প্রতিবেদক 























